৪০ বছরের মিথ ভেঙে ক্ষমতায় ফিরবে সিপিএম-জোট! ভোটের আগে আভাস সমীক্ষায়
৪০ বছরের মিথ ভেঙে ক্ষমতায় ফিরবে সিপিএম-জোট! ভোটের আগে আভাস সমীক্ষায়
সিপিএমের নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট বা এলডিএফ এবার প্রথা ভেঙে কেরালায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে বলেই সমীক্ষা পূর্বাভাস দিয়েছে। ১৯৮০ সাল থেকে রাজ্যে কোনও শাসক দল বা জোট পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে পারেনি। এবার সেই প্রথারই বিলোপ ঘটতে চলেছে। ৪০ বছর পর রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে শাসক দলই!

কেরলের ভোটে কে কত আসন পাবে, সমীক্ষা
সি ফোরের সমীক্ষা অনুসারে, কোরালায় ১৪০ সদস্যের বিধানসভায় এলডিএফ পেতে পারে ৭২ থেকে ৭৮টি আসন। ম্যাজিক ফিগার ৭১। সমীক্ষার আভাস সেই লক্ষ্যমাত্রা এবার পেরিয়ে যেতে পারে তারা। কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা ইউডিএফ ৫৯-৬৫ আসন পেতে পারে।

কংগ্রেস ক্ষমতায় না ফিরলেও ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলবে
প্রথা বলছে এবার কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্ভাধীন জোটের ক্ষমতায় ফিরে আসার কথা। কিন্তু সমীক্ষা অনুযায়ী, কংগ্রেসের ফিরে আসার কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে ২০১৬-র থেকে এবার ভালো ফল করবে কংগ্রেস। কংগ্রেস ২০১৬-র নির্বাচনে ৪৭টি আসন পেয়েছিল। এবার তা বেড়ে ৬৫ পর্যন্ত হতে পারে বলে আভাস।

বিজেপি কত আসন পেতে পারে কেরালার ভোটে
বিজেপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট বা এনডিএ-কে নিয়ে চর্চা হলেও, তারা ভোটবাক্সে তেমন প্রভাব ফেলতে পারবে না। এবারও তাঁরা তৃতীয় স্থানে রয়ে যাবে। ৩ থেকে ৭টি আসন মিলতে পারে বিজেপির। ত্রিপুরায় ২৫ বছরের সিপিএমকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসতে সম্ভবপর হলেও, কেরালায় তাঁরা পিছনের সারিতে রয়ে যাবে বলে ইঙ্গিত সমীক্ষায়।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কে এগিয়ে কেরালায়
সমীক্ষার পূর্বাভাস বলছে, এলডিএফ উত্তর এবং দক্ষিণ কেরালায় ইউডিএফের উপর প্রভাব বিস্তার করবে এবং রাজ্যের কেন্দ্রীয় অংশে ইউডিএফ প্রভাবশালী হবে। উত্তরদাতাদের প্রায় ৩৯ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা পিনারাই বিজয়নকেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে চান। ১৮ শতাংশ চান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা ওমেন চণ্ডীকে। তাঁর সহকর্মী এবং তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ শশী থারুরকে চান ৯ শতাংশ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চান ৭ শতাংশ মানুষ। বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস বিধায়ক রমেশ চেনিথালা এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি কে সুরেন্দ্রন পেয়েছেন ৬ শতাংশের সমর্থন।

কেন ক্ষমতায় ফিরবে সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ
সমীক্ষা অনুসারে, ৩৪ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, এলডিএফ সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জনটি হল কোভিড ১৯ লকডাউনের সময় বিনামূল্যে খাবার কিট বিতরণ করা। উত্তরদাতাদের ২৭ শতাংশ জন কল্যাণমূলক পেনশনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন এবং ১৮% বলেছেন তাঁরা সরকারের কোভিড-১৯ পরিচালনায় অভিভূত। একই সময়ে ৩৪ শতাংশ বলেছেন, সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা শবরিমালা আন্দোলন।

মিথ ভেঙে ফিরছে সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ
গত বছরের জুনে, এশিয়ানেট নিউজ-সি ফোর অনুরূপ সমীক্ষা করেছিল। সেই সমীক্ষায় ভবিষ্যদ্বাণী করে তারা জানিয়েছিল যে, এলডিএফ আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে। ডিসেম্বরে এলডিএফ প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে বেশিরভাগ পঞ্চায়েত, ব্লক পঞ্চায়েত, জেলা পঞ্চায়েত ও কর্পোরেশন নির্বাচনে জিতে। ফলে কংগ্রেসের ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ, ফের ফিরছে সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ।












Click it and Unblock the Notifications