ত্রিপুরায় বিজেপি জিতল কাদের দয়ায়, রাজ্য কমিটির বৈঠকে অঙ্ক কষে বোঝাল সিপিএম
ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। গতবারের মতো প্রাধান্য নিয়ে জিততে না পারলেও, এবার ম্যাজিক ফিগার তারা টপকে যেতে সমর্থ হয়েছে। কিন্ত প্রতিষ্ঠান বিরোঘী হাওয়া সত্ত্বেও তারা জিতল কী করে, ব্যাখ্য দিল সিপিএম।
সম্প্রতি ত্রিপুরায় সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠক বসেছিল। সেই বৈঠকে নিজের দলের ব্যর্থতার কথা বলতে গিয়ে উঠে এল বিজেপির বিধানসভা নির্বাচন জেতার প্রসঙ্গ। সেখানে পাটিগণিত দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয়, কী কারণে, তাদের জন্য ত্রিপুরায় বিজেপি ফের ক্ষমতায়।

ভোটের ফলাফল ঘোষণা হয়েছে দু-মাস হল। তারপর সিপিএম তাদের পর্যালোচনায় জানাল তাদের হারের কারণ। আর হারের কারণ জানাতে গিয়ে সিপিএম আঙুল তুলল প্রদ্যোৎকিশোর দেববর্মার টিপ্রামোথার দিকে। বিজেপির জয়ের জন্য তারা টিপ্রামোথাকেই দায়ী করল।
সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, টিপ্রামোথা ত্রিপুরায় দ্বিচারিতা করেছে, তার ফলে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তা না হলে বিজেপি এবার কোনোভাবেই দ্বিতীয়বার জিতে ত্রিপুরা দখল করতে পারত না। টিপ্রামোথার ভূমিকা বিজেপিকে জয় হাসিল করতে বিপুল সহায়তা করেছে।
এবারের নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গিয়েছে, ৬০ আসনের ত্রিপুরায় বিজেপি জিতেছে ৩২টি আসনে। অর্থাৎ ম্যাজিক ফিগারের থেকে মাত্র একটি আসন তারা বেশি পেয়েছে। আর তাদের জোটসঙ্গী আইপিএফটি পেয়েছে ১টি আসন। বিরোধী পক্ষে সিপিএম পেয়েছে ১১টি আসনে জয় আর কংগ্রেসের জয় তিনটি আসনে।

সেখানে প্রথমবার ভোটে লড়ে ১৩টি আসয়ে জয়ী হয়েছে টিপ্রামোথা। টিপ্রামোথায় সেদিক দিয়ে প্রধান বিরোধী দল ত্রিপুরায়। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করে বলেন, এবারের ভোটে আমরা সমস্ত গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে একজোট হয়ে বিজেপি বিরুদ্ধে লড়ার কথা বলেছিলাম।
তিনি বলেন, আমরা চাইনি বিজেপি বিরোধী ভোট ভাগ হয়ে যাক। আমাদের সঙ্গে কংগ্রেসের সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু টিপ্রামোথার সঙ্গে আমরা সমঝোতা করতে পারিনি। সেই ভোট ভাগাভাগির কারণেই বিজেপি জিতে গেল ত্রিপুরায়। বিজেপির বিরুদ্ধে টিপ্রামোথা আওয়াজ তুললেও, তা ছিল বিক্ষিপ্ত।
তিনি বলেন, আমরা চাইনি বিজেপি বিরোধী ভোট ভাগ হয়ে যাক। আমাদের সঙ্গে কংগ্রেসের সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু টিপ্রামোথার সঙ্গে আমরা সমঝোতা করতে পারিনি। সেই ভোট ভাগাভাগির কারণেই বিজেপি জিতে গেল ত্রিপুরায়। বিজেপির বিরুদ্ধে টিপ্রামোথা আওয়াজ তুললেও, তা ছিল বিক্ষিপ্ত।

সিপিএমের কথায়, ২২টি সংরক্ষিত আসনে বিজেপি জয়ের জায়গায় ছিল না। সেখানেও বিজেপি প্রার্থী দিয়েছিল। আমরা বুঝতে পারছিলাম না কেন তারা প্রার্থী দিয়েছিল। ভোটের ফল বের হওয়ার পর তা স্পষ্ট হয়ে যায়।
সিপিএমের দাবি, টিপ্রামোথা বাম-কংগ্রেস জোটের সঙ্গ সমঝোতা করলে আরও ১৬ থেকে ১৭টি আসন আমরা পেতাম। টিপ্রামোথাও আরও বেশি আসন জিতত। আর বিজেপি সাকুল্যে ৯টি থেকে ১১টি আসন জিতত। কিন্তু টিপ্রাল্যান্ডের আবেগ নিয়ে খেলতে গিয়ে সব মাটি হয়ে গেল।












Click it and Unblock the Notifications