শীর্ষ আদালতের স্থগিতাদেশের কপি সহ জাহাঙ্গীরপুরিতে গিয়ে বুলডোজার থামালেন বৃন্দা কারাত
শীর্ষ আদালতের স্থগিতাদেশের কপি সহ জাহাঙ্গীরপুরিতে গিয়ে বুলডোজার থামালেন বৃন্দা কারাত
আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও উত্তর দিল্লি পুরসভা জাহাঙ্গীরপুরীতে বেআইনি নির্মাণকারীদের হঠাতে অভিযান শুরু করেছিল কিন্তু রণে ভঙ্গ দিয়ে বসেন সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাত। সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশের কপি নিয়ে জাহাঙ্গিরপুরী পৌঁছে বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে কোর্টের আদেশ দেখান তিনি। দু’ঘণ্টা ধরে চলা এই নাটকীয় এই দৃশ্যের ভিডিওতে দেখা গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করতে রাজি হচ্ছিল না পুরসভা।

জাহাঙ্গীরপুরিতে উচ্ছেদ অভিযান
শনিবার হনুমান জয়ন্তীর শোভাযাত্রাকে ঘিরে যেখানে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হয় সেই জাহাঙ্গীরপুরিতে বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ বুলডোজার নিয়ে আসে উত্তর দিল্লি পুরসভা। জাহাঙ্গীরপুরি থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে পুরসভা সেখানে ৯টি বুলডোজার পাঠায়। প্রসঙ্গত, হিংসাত্মক ঘটনার পর থেকেই এলাকার আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সেখানে ৪০০ জন পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। শীর্ষ পুলিশ অফিসার দীপেন্দ্র পাঠক বলেন, 'শনিবার যেখানে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল সেখানকার আশপাশের দোকান ও মসজিদ ঘিরে ছিল পুলিশ, সঙ্গে ছিল বুলডোজার। আমরা এখানে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য রয়েছি এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ।'

হনুমান জয়ন্তীর দিন সংঘর্ষ
গত শনিবার হনুমান জয়ন্তীর দিন দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরিতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গাড়ি-দোকান ভাঙচুর, ইটবৃষ্টি থেকে শুরু করে গুলি পর্যন্ত চালানো হয়। আমজনতার পাশাপাশি একাধিক পুলিশ কর্মীও আহত হন। এরপরই দিল্লির বিজেপি সভাপতি আদেশ গুপ্তা হুমকি দেন জাহাঙ্গীরপুরের মসজিদের কাছাকাছি থাকা সমস্ত বেআইনি নির্মাণ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এরপর এনডিএমসি-এর তরফ থেকেও একই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়। আজ সকালে ১০টা নাগাদ বুলডোজারের সাহায্যে মসজিদের কাছে রাস্তার ধারে থাকা দোকান ও বাড়ি ভাঙচুর করা শুরু করেন পুরসভার কর্মীরা।

উচ্ছেদ অভিযানে স্থগিতাদেশ
পুরসভার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন বৃন্দা কারাত। সুপ্রিম কোর্টে এটি নিয়ে কথা বলেন সিনিয়র আইনজীবী দুষ্মন্ত দাভে। প্রধান বিচারপতি এন ভি রমনা এই সিদ্ধান্তের উপর স্থগিতাদেশ দিয়ে জানান অবিলম্বে পুরসভার কর্মকর্তাদের এই নির্দেশ জানানো হোক। বৃন্দা কারাত এও জানিয়েছেন যে এই উচ্ছেদ অভিযানের আগে কাউকে কিছু জানানো হয়নি। বিজেপির নেতৃত্বাধীন পুরনিগম কাঠামো ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করার সাথে সাথে, দেশের প্রধান বিচারপতি এনভি রমানা নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ আগামী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযানে স্থগিতাদেশ জারি করে। বৃহস্পতিবার রয়েছে এই মামলার শুনানি।

বৃন্দা কারাত ঘটনাস্থলে আসেন
কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও ভাঙচুরের কাজ বন্ধ হয় না এবং পুরসভার কর্মীরা মসজিদের দিকে যাওয়ার আগে দোকানপাট ভাঙতে থাকে। পুরসভার আধিকারিকরা জানান যে তাঁদের হাতে এখনও আদালতের নির্দেশ এসে পৌঁছায়নি এবং সেটা না আসা পর্যন্ত তাঁরা অবৈধ কাঠামো ভাঙতে থাকবেন। চলতে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই মসজিদের একটি প্রাচীর ও একটি প্রবেশদ্বার ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং আশেপাশের কিছু দোকানপাট ভেঙে ফেলা হয়। বুধবার দুপুর ১২টা নাগাদ সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাত শীর্ষ আদালতের কপি নিয়ে স্বয়ং হাজির হন ঘটনাস্থলে এবং পুরসভার কর্মী ও পুলিশকে তৎক্ষণাত এই উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করার জন্য বলেন। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে যে বৃন্দা কারাত বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে রাস্তা অবরুদ্ধ করে রয়েছেন। বৃন্দা কারাত পুলিশের সঙ্গে দেখা করে এই ভাঙচুরের ঘটনা আটকানোর চেষ্টা করেন। একই সময়ে আর এক আবেদনকারী সুপ্রিম কোর্টকে জানায় যে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করা হচ্ছে না।

আদালতের নির্দেশ মানছে না পুরসভা
বরিষ্ঠ আইনজীবী দুষ্মন্ত দাভে প্রধান বিচারপতি রমানাকে বলেন, 'তারা বলছে তাদের আদেশ জানানো হয়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হোক, মহা সচিবকে জিজ্ঞাসা করুন। এটা ঠিক নয়। আমরা আইনের শাসনে রয়েছি।' এদিন দুষ্মন্ত দাভে এই প্রসঙ্গে আদালতে বলেন, 'দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাঙ্গীরপুরীতে এটা সম্পূর্ণ বেআইনি একটা ধ্বংসযজ্ঞ। কাউকে কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং কারও কথাও শোনা হয়নি। আমরা এই অভিযান বন্ধের আবেদন করছি।' এরপর প্রধান বিচারপতি বলেন, 'ঠিক আছে, আমরা স্ট্যাটাস কুয়ো অর্ডার করছি। আগামিকাল অন্য বিষয়গুলির সঙ্গে এই বিষয়টিও তোলা হোক।'

দু’ঘণ্টা পর বন্ধ উচ্ছেদ অভিযান
এরপর প্রধান বিচারপতি আদালতের কর্মীকে এনডিএমসি মেয়র, দিল্লি পুলিশ কমিশনারের নম্বর চাইতে বলেন দাভের থেকে। সুপ্রিং কোর্টের নির্দেশের দু'ঘণ্টা পর অবশেষে পুরসভার উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত হয়।












Click it and Unblock the Notifications