ত্রিপুরায় দ্বিতীয় হওয়া নিয়ে মিথ্যা বলছে তৃণমূল! অভিষেকের দাবি উড়িয়ে যুক্তি দিয়ে পাল্টা দাবি সিপিএম-এর
মোট আসন ৩৩৪। এর মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ৩২৯ টি আসন। সিপিএম তিনটি, তৃণমূল একটি এবং তিপ্রামাথা একটি। এরপরেই যে বিষয়টি আসছে তাহলে দ্বিতীয় কে। নির্বাচনের ফল বেরনোর পরেই ত্রিপুরা তৃণমূল থেকে শুরু করে তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধার
মোট আসন ৩৩৪। এর মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ৩২৯ টি আসন। সিপিএম তিনটি, তৃণমূল একটি এবং তিপ্রামাথা একটি। এরপরেই যে বিষয়টি আসছে তাহলে দ্বিতীয় কে। নির্বাচনের ফল বেরনোর পরেই ত্রিপুরা তৃণমূল থেকে শুরু করে তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে তৃণমূলকে দ্বিতীয় করার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। যদিও যুক্তি দিয়ে সিপিএম দাবি করেছে তারাই এই নির্বাচনে দ্বিতীয়।

প্রধান বিরোধী তৃণমূলই, দাবি অভিষেকের
রাজ্যে ২০ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃণমূল প্রধান বিরোধী বলে দাবি করে টুইট করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও বলেছিলেন মাত্র তিন মাস আগে কাজ শুরু করে তারা এই সাফস্য পেয়েছেন। ত্রিপুরায় গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগ করে ফলাফল নিয়ে দলের কর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে বলেছিলেন সবে তো শুরু, এবার আসল খেলা হবে।

রাজ্য সিপিএম-এর ব্যাখ্যা
রাজ্য সিপিএম-এর তরফে ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, ত্রিপুরার ২০ টি পুরসভা ও নগর পঞ্চায়েতের নির্বাচনে, ১৩ টি আসনে ভোট হয়েছিল। কেননা সাতটিতে বিজেপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিল। অন্যদিকে সিপিএম-সহ বামেরা ১৩ টি পুরসভা ও নগর পঞ্চায়েতের অধিকাংশ আসনে প্রার্থী দিয়েছিলেন। বিপরীতে তৃণমূল আগরতলার সব আসন ছাড়াও আমবাসা আর তেলিয়ামুড়ার অধিকাংশ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। বাকি আর কোথাও সেভাবে তারা প্রার্থী দিতে পারেনি। সেই আমবাসা ও তেলিয়ামুড়ায় তৃণমূল দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ ত্রিপুরায় বামেদের ফল তুলনামূলকভাবে ভাল। সাব্রুমে তারা ৩০% ভোট পেয়েছে, উনোকোটির কুমারঘাটে বামেরা ৩৪% ভোট পেয়েছে, তৃণমূল ১% । ফলে যেখানে সিপিএম ১৩ টি পুরসভা ও নগর পঞ্চায়েতে লড়াই করেছে, সেখানে তৃণমূল ৩ টিতে লড়াই করে কীভাবে প্রধান বিরোধী হবে?
বিজেপির জেতা ২১৭ টি আসনের মধ্যে বামেরা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ১৫৮ টি আসনে, আর তৃণমূল দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ৫৯ টি আসনে।

আগরতলা নিয়ে সিপিএম-এর ব্যাখ্যা
এবার আগরতলা পুরসভা সিপিএম-এর হাত ছাড়া হয়েছে। ৫১ টি আসনের সবকটিই পেয়েছে বিজেপি। তৃণমূল সবকটি আসনে প্রার্থী দিয়ে ২৬ টি আসনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে বামেরা সবকটি আসনে প্রার্থী দিলেও পরে হুমকির জেরে ৪ টি আসন থেকে প্রার্থী প্রত্যাহার করে। ফলে তারা ৪৭ টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ২৫ টি আসনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আগরতলার অধিকাংশ আসনে বাম ও তৃণমূলের ভোট বিভাজনের সুবিধা পেয়েছে বিজেপি। এছাড়াও ত্রিপুরা সিপিএম-এর তরফে আরও বলা হয়েছে, তৃণমূল বিরোধী ভোটে ভাগ বসানোয় সোনামুড়া, পানিসাগরের মতো বেশ কিছু জায়গায় বিজেপি খুব অল্প ব্যবধানে জিতেছে। এছাড়াও আগরতলার ৬ ও ৮ নম্বর আসনে বিজেপি বিধায়করা তৃণমূলের প্রার্থী ঠিক করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে সিপিএম-এর তরফে।

ভোটের শতাংশের নিরিখে হিসেব দিয়ে দাবি সিপিএম-এর
ত্রিপুরা নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছে, ৫৯.৭৪% ভোট। বামফ্রন্ট ও তৃণমূল পেয়েছে যথাক্রমে ১৯.৪৭% এবং ১৬.৭৭% ভোট। অন্যদিকে কংগ্রেস পেয়েছে ২.০৪% ভোট। গত ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ৪৭. ০৩% পেয়ে প্রথম, কংগ্রেস ২৫.৩৪% পেয়ে দ্বিতীয়, বামেরা ১৭.৩১% পেয়ে তৃতীয় হয়েছিল। সেদিক থেকে তুলনা করতে গেলে বিজেপির ভোট বেড়েছে ১২.৭১% , বামেদের ২.১৬% । আর কংগ্রেসের ভোট কমেছে ২৩.৩% যার অধিকাংশই তৃণমূলে গিয়ে তৃণমূলকে ১৬.৭৭% পেতে সাহায্য করেছে।
সিপিএম-এর তরফে বলা হয়েছে ভোট হওয়া আসনের ৭৫%-এর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বামফ্রন্ট। আর ২৫% আসনে তৃণমূল দ্বিতীয়।

ত্রিপুরায় বিরোধী শক্তি
এবারের ৩৩৪ টি আসনের নির্বাচনে বিজেপি আগেই ১১২ টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিল। আর ২৫ নভেম্বরের ভোটে বিজেপি ২১৭ টি আসন পায়। সেখানে তৃণমূল একমাত্র আসনটি পায় আমবাসা থেকে। অন্যদিকে সিপিএম-এর তিনটি আসন এসেছে আমবাসা, পানিসাগর এবং কৈলাশহর থেকে।

সিপিএম-এর দাবিকে সমর্থন বিজেপির
সিপিএম-এর দাবিকে সমর্থন করেছে রাজ্য বিজেপিও। তারা বলছে, তৃণমূলের প্রধান বিরোধীর দাবি ভিত্তিহীন। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে সিপিএম তথা বামেরাই রাজ্যে প্রধান বিরোধী শক্তি। বিপ্লব দেবের ওএসডি সঞ্জয় মিশ্র সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ভোট শতাংশ এবং আসন, দুই ক্ষেত্রেই সিপিএম, তৃণমূলের থেকে এগিয়ে রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications