কোভিড ভ্যাকসিন কৌশলে টুইস্ট, দু’টি ভিন্ন ডোজ মিশিয়ে টিকাকরণ, ইঙ্গিত কেন্দ্রের
কোভিড ভ্যাকসিন কৌশলে টুইস্ট, দু’টি ভিন্ন ডোজ মিশিয়ে টিকাকরণ, ইঙ্গিত কেন্দ্রের
দেশের বেশ কিছু রাজ্যে কোভিড ভ্যাকসিনের ঘাটতি নিয়ে হা হুতাশ জারি রয়েছে, এরই মাঝে কেন্দ্র ঠিক করেছে যে যত দ্রত সম্ভব দেশের নাগরিকদের টিকাকরণের মধ্য দিয়ে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করবে, যার জন্য টিকাকরণ কৌশলে টুইস্ট আনতে চাইছে সরকার। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকার কোভিড ভ্যাকসিন ট্র্যাকার প্ল্যাটফর্ম, যা এখনও চালু হয়নি, সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কোভিশিল্ড ডোজগুলির ব্যবধান বাড়ানোর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব পর্যালোচনা করবে। খুব শীঘ্রই এই প্ল্যাটফর্মটি চালু করা হবে যেখান থেকে সরকার নতুন সময়সূচি অনুযায়ী টিকাকরণ হয়েছে এমন নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।

কোভিশিল্ড স্থানীয় ভ্যাকসিন
সূত্রের খবর, এই তথ্য কোভিশিল্ডের একটি ডোজের অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে। কোভিশিল্ড হল অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের স্থানীয় ভার্সান। এটি উৎপাদন করছে পুনের সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। এটি দু'টি ডোজের ভ্যাকসিন এবং সরকার সম্প্রতি এই দু'টি ডোজের মধ্যে ১২-১৬ সপ্তাহের ব্যবধান বাড়িয়েছে। কোভিশিল্ড তৈরি হয়েছে শিম্পাঞ্জির শরীর থেকে নেওয়া সাধারণ সর্দি-কাশির ভাইরাস তথা অ্যাডেনোভাইরাস যা জিনগতভাবে পরিবর্তিত হয়েছে তবে এটি মানুষের মধ্যে বৃদ্ধি পায় না। এটি ভাইরাল ভেক্টর ভ্যাকসিন। সম্প্রতি কোভিশিল্ডের উভয় ডোজের মধ্যে ৬-৮ সপ্তাহের ব্যবধানকে বাড়ানো হয়েছে।

ভ্যাকসিন ডোজের ব্যবধান বৃদ্ধি
সমীক্ষায় বলা হয়, প্রাথমিকভাবে কোভিশিল্ডের দু'টি ডোজের ব্যবধান ৪-৬ সপ্তাহ ছিল কিন্তু দ্বিতীয়বার তা বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে যে ডোজের ব্যবধানের মধ্যে ৪-৮ সপ্তাহ হলে তাতে কিছু অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যায়। সমীক্ষায় বলা হয়, ব্যবধান বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি যদি কোনও কোভিশিল্ডের দ্বিতীয় ডোজ ১২-১৬ সপ্তাহের মধ্যে পরিচালিত হয় তবে সেইও ব্যক্তির মধ্যে কোভিডের বিরুদ্ধে সুরক্ষা বাড়ানোর লক্ষ্যে করা হয়। কোভিড-১৯ ওয়ার্কিং গ্রুপের দাবি অনুযায়ী এটি একটি গতিশীল সিদ্ধান্ত এবং পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনার অংশ। সিদ্ধান্তটি বাস্তব জীবনের উপলব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে করা হয়েছে যা পরামর্শ দেয় যে ব্যবধানটি ১২-১৬ সপ্তাহে বাড়ানো উচিত।

দু’টি ভ্যাকসিন ডোজের মিশ্রণ
কোভিড ওয়ার্কিং গ্রুপের চেয়ারম্যান ডাঃ এনকে অরোরা জানিয়েছেন যে নতুন প্ল্যাটফর্ম থেকে পাওয়া তথ্য অগাস্টে বিশ্লেষণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। অরোরা জানান, প্ল্যাটফর্মটিতে ডায়াগনস্টিক তথ্য, ভ্যাকসিন তথ্য এবং সার্বিক রোগের তথ্য একত্রিত করার ক্ষেত্রে তিনটি প্রশাসনিক তথ্য থাকবে। তিনি বলেন, 'এ ওপর ভিত্তি করে আমরা ভ্যাকসিনের প্রভাব, পুনরায় সংক্রমণ ও ভ্যাকসিন দেওয়ার বৃদ্ধির প্রবণতা খতিয়ে দেখব।' অরোরা এও জানিয়েছেন যে দু'টি ভিন্ন ভিন্ন ভ্যাকসিন মিশিয়ে তার কার্যকারিতা ও প্রভাব কেমন তাও এই গবেষণায় দেখা হবে। এই গবেষণা দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, 'ভারত খুব শীঘ্রই ২টি ভিন্ন ধরনের কোভিড ভ্যাকসিন ডোজ মিশিয়ে এটি ভাইরাস প্রতিরোধের প্রতিক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করে কিনা তা দেখার জন্য পরীক্ষা শুরু করবে।'

দ্রুত টিকাকরণ
প্রসঙ্গত, একক ডোজ বা ডোজ মিশিয়ে টিকাকরণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দেশের জনসংখ্যাকে দ্রুত টিকাকরণ করার সরকারের উদ্দেশ্য সফল করতে সহায়তা করবে। সুপ্রিম কোর্টে সরকারের পেশ করা রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২১ সালের শেষের দিকে দেশের সমস্ত নাগরিক টিকা পেয়ে যাবেন। ভারতে ব্যবহৃত ভ্যাকসিনগুলি সবই দু'টি ডোজের। একমাত্র জনসন অ্যান্ড জনসন ও স্পুটনিক ভি একক ডোজের ভ্যাকসিন












Click it and Unblock the Notifications