করোনার টিকা হিসাবে মানব শরীরে দেওয়া যেতে পারে কোভ্যাক্সিন-কোভিশিল্ডের মিশ্রণ, সূত্র
তৃতীয় ওয়েভ আছড়ে পড়তে চলেছে ভারতে। এই সময় সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে পারে একমাত্র ভ্যাকসিন। দ্রুত গতিতে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা বলছেন চিকিৎসকরা। এই অবস্থায় বড়সড় এক সিদ্ধান্ত ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার।
তৃতীয় ওয়েভ আছড়ে পড়তে চলেছে ভারতে। এই সময় সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে পারে একমাত্র ভ্যাকসিন। দ্রুত গতিতে গোটা দেশে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা বলছেন চিকিৎসকরা। এই অবস্থায় বড়সড় এক সিদ্ধান্ত ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার।
সূত্রের খবর, করোনার টিকা হিসাবে মানব শরীরে দেওয়া যেতে পারে কোভ্যাক্সিন-কোভিশিল্ডের মিশ্রণ। আর এই বিষয়ে ইতিমধ্যে ড্রাগ কণ্ট্রোলারের তরফে সেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এমনটাই সূত্রের খবর।

গত ২৯ জুলাই বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি এই ভ্যাকসিন মিশ্রনের ট্রায়ালের অনুমতি দেয়। ভেলোরে সিএমসিকে কোভিশিল্ড এবং কোভ্যাক্সিনের মিশ্রনের চতুর্থ পর্যায়ের ট্রায়ালের অনুমতি দেওয়া হয়। তিনশো জন মানুষের উপর এই ট্রায়াল করা হয়। প্রথম থেকে বলা হয়েছিল ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ একই সংস্থার হওয়া উচিৎ।
কিন্তু এই ট্রায়ালে পরীক্ষা করে দেখা হয় দুটি সংস্থার আলাদা ভ্যাকসিন দেওয়ায় হলে কি প্রতিক্রিয়া হতে পারে? কিছুদিন আগে উত্তরপ্রদেশে স্বাস্থ্য কর্মীরা ভুল করায় বেশ কয়েকজণ গ্রামবাসীকে টিকার দুটি আলাদা আলাদা ডোজ দেওয়া হয়।
এরপরেই কেন্দ্রের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে ভ্যাকসিনের মিশ্রনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখা হবে। সেই মতো পরীক্ষা শুরু হয় কয়েকদিন আগে। আইসিএমআর থেকে প্রকাশিত সেই গবেষণা রিপোর্টে বলা হয় দুটি ভ্যাকসিনের মিশ্রনে কার্যকারিতা বেশি হচ্ছে।
উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থ নগরে যে ১৮জনকে কোভিশিল্ড এবং কোভ্যাস্কিনের মিশ্রন দেওয়া হয়েছিল তাঁদের উপর গবেষনা চালানো হয়। আর তা চালায় ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি। সেই গবেষণাতে দেখা যায় একটি সংস্থার ডোজের তুলনাতে দুটি পৃথক সংস্থার ডোজে কার্যকারিতা অনেক বেশি। আইসিএমআর গবেষনাতে দেখেছে আলফ, বিটা কিংবা ডেল্টা সব ভ্যারিয়েণ্টের উপরে ভ্যাকসিনের এই মিশ্রণ অধিক কার্যকরী।
কোভিশিল্ড কিংবা কোভ্যাক্সিন আলাদা ভাবে নিলে যে ধরনের পারশপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় এক্ষেত্রেও তেমন কিছু সমস্যা হতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
তবে ড্রাগ কণ্ট্রোলারের তরফে অনুমোদন পাওয়া গেলেও কবে থেকে ভ্যাকসিনের এই মিশ্রন দেওয়া হবে সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। তবে সূত্রের খবর, এই বিষয়ে আরও পরীক্ষা চলবে বলে মনে করা হচ্চে।
অন্যদিকে গত ৫ মাসে ২৯ হাজরের নিচে করোনার সংক্রমণ গিয়েছে এই প্রথম। করোনার প্রবল দানবীয় দ্বিতীয় স্রোতের পরই পরিস্থিতি আরও বিপাকে যায়। এর আগে করোনার দ্বিতীয় স্রোতের দানবীয় হানার আগে গত ১৭ মার্চ শেষবার দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ২৯ হাজারের নিচে গিয়েছে।
শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ হাজার ২০৪ জন। দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও কিছুটা কমেছে এদিনের রিপোর্ট অনুযায়ী। গত ২৪ ঘণ্টার রিপোর্ট বলছে, কোভিডে মৃতের সংখ্যা ৩৭৩ জন। যা মৃতের সংখ্যার নিরিখে অনেকটাই কম গত কয়েকদিনের তুলনায়।
বহুদিন ধরেই করোনায় দৈনিক মৃতের সংখ্যা ৫০০ জনের আশপাশে দেখা যাচ্ছে। তার মাঝে এদিন যেভাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে নেমেছে, তা রীতিমতো স্বস্তি দিচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications