ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা সংক্রমণের উদ্বেগ, বাড়ছে তৃতীয় ডোজ নেওয়ার প্রবণতা
অনেক জায়গাতেই কিন্তু ঊর্ধ্বমুখী করোনা গ্রাফ। যার জেরে রাজধানী দিল্লি, পঞ্জাবে মাস্ক পরা কিন্তু বাধ্যতামূলক করেছে সেখানকার সরকার। সেই সঙ্গে কোভিড বিধিও মেনে চলতে বলা হয়েছে। গবেষকরা কিন্তু আগেই চতুর্থ ঢেউ আছড়ে পরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৩.৮৭ লক্ষ মানুষ করোনা ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজ নিয়েছেন। এই ডোজ দেওয়া চালু হয়েছে ১০ এপ্রিল থেকে। যা জানা গিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুসারে।

তথ্য অনুসারে জানা গিয়েছে, এই ডোজ গত চারদিন ধরে বেশি নিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ৫১ শতাংশেরও বেশি মানুষ নিয়েছে বুস্টার ডোজ। রাজধানীতে যেভাবে কোভিড সংক্রমণ বাড়ছে তাতে কিন্তু বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ছে দিল্লিবাসিন্দারা। আর এর জন্য সেখানে কিন্তু মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর যারা এই বিধি মানবেন না। তাঁদের কিন্তু ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে জানা গিয়েছে। দিল্লি ছাড়াও হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশে মাস্ক কিন্তু বাধ্যতামূলক বলেই জানা গিয়েছে।
আরও জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে গত ১৪ দিনে ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের ৩ লক্ষ ৮৭ হাজার ৭১৯ জনকে এই বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে। ২০ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সেই সংখ্যাটা ছিল ১.৯৮ লক্ষ। দেখা যাচ্ছে মোট তৃতীয় ডোজের অর্ধেকের বেশি বড় মেট্রো অঞ্চল সহ রাজ্যগুলিতে দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অনেকটাই কিন্তু ওমিক্রনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল। সেই সময় স্বাস্থ্যসেবা কর্মী-সহ উচ্চ ঝুকিসম্পন্ন মানুষ আগে দেওয়া হচ্ছিল তৃতীয় ডোজ। তবে বর্তমান সময়ে কিন্তু সেই সংখ্যাটা অনেকটাই কমেছে। এটি নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিজস্ব মত পোষণ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজ তারাই গ্রহণ করছেন যারা প্রধানত বিদেশ ভ্রমণ করছেন বা যারা কোমর্বিডিটিতে ভুগছেন।
মন্ত্রকের তথ্য অনুসারে জানা গিয়েছে, গত ১৪ দিনে ১৮-৫৯ বছর বয়সীদের মধ্যে তৃতীয় ডোজের ক্ষেত্রে ৫৪ শতাংশই দিল্লি, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ ও কর্ণাটকে পরিচালিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ জনসংখ্যার মাত্র ২.৬২ কোটি মানুষকে বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৪৬.৯৪ লক্ষ ডোজ স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের দেওয়া হয়েছে। ৭৩.৪০ লক্ষ ফ্রন্টলাইন কর্মীদের এবং ১.৪২ কোটি ডোজ ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
১০ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিলের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের জন্য ২.৫৯ লক্ষ, ফ্রন্টলাইন কর্মীদের জন্য ৫. ১৫ লক্ষ ও ৬০ বছর বা তার বেশি গোষ্ঠীর জন্য ২৫.১৪ লক্ষ ডোজ দেওয়া। যারা এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন নেননি তাঁদের টীকা নেওয়ার কথা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে সকলকে মাস্ক এবং করোনা বিধি মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন।












Click it and Unblock the Notifications