নেই ওষুধ–অক্সিজেন, চোখের সামনে মারা যাচ্ছে করোনা রোগীরা, কার্যত অসহায় দেশের চিকিৎসকরা

নেই ওষুধ–অক্সিজেন, চোখের সামনে মারা যাচ্ছে করোনা রোগীরা, কার্যত অসহায় দেশের চিকিৎসকরা

দেশের করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের পথে যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যের একাধিক হাসপাতালে অক্সিজেন, বেডের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। উপরন্তু করোনায় জীবনদায়ী ওষুধ রেমডেসিভিরের অভাবও দেখা যাচ্ছে। করোনায় আক্রান্তদের বাঁচাতে না পেরে যোগী রাজ্যে কান্নায় ভেঙে পড়েছে সরকারি হাসপাতালের বড় চিকিৎসক।

যোগী আদিত্যনাথের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি

যোগী আদিত্যনাথের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি

মহারাজগঞ্জ জেলা হাসপাতালের সিএমএস ডাঃ একে রায় করোনায় আক্রান্তদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য রেমডেসিভির দিতে পারছেন না। অথচ কিছুদিন আগেই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছিলেন যে রাজ্যে বেড-অক্সিজেন ও ওষুধের কোনও অভাবে নেই। তবে এই চিত্র শুধু উত্তরপ্রদেশের নয়। ভারতের দ্বিতীয় করোনা ভাইরাস মহামারির ওয়েভে কর্মরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে অধিকাংশ দিনই তাঁদের চোখের সামনে করোনা রোগীদের মরতে দেখছেন তাঁরা। অথচ তাঁদের হাতে কিছুই নেই, কারণ তাঁরা অসহায় হয়ে পড়েছেন।

দেশের অবস্থা

দেশের অবস্থা

বৃহস্পতিবার ভারতে নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৩৭৯,২৫৭ জন। দেশে এই মুহূর্তে মোট সংক্রমণের সংখ্যা ১.‌৮৩ কোটি, যা আমেরিকার পর দ্বিতীয় স্থানে। স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে যে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মৃত্যু হয়েছে ৩,৬৪৫ জনের এবং মোট মৃতের সংখ্যা ২০৪,৮৩২। তবে অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছে এই সংখ্যাটা অনেক বেশি। প্রসঙ্গত, দেশের যখন এরকম অবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে, হাসপাতালে বেড-অক্সিজেন-ওষুধের অভাবে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে, সেই সময় পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে লক্ষ লক্ষ মানুষ পোলিং স্টেশনে ভোট দিতে যাচ্ছেন। রাজ্যে গণ নির্বাচন জনসভা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তার বিজেপি সরকারকে তোপের মুখে পড়তে হয়েছে জনগণের। তবে শুধু বিজেপি নয়, অন্য রাজনৈতিক দলও নির্বাচনকে ঘিরে জনসভা, মিটিং-মিছিল করেছে।

 অসহায় কলকাতার চিকিৎসকরাও

অসহায় কলকাতার চিকিৎসকরাও

কলকাতার এক চিকিৎসক ডাঃ ইউ এইচ ফইজল, যিনি কলকাতার একটি হাসপাতালে রয়েছেন, তিনি জানান যে মরতে বসা রোগীর বেডের পাশে বসে থাকা ছাড়া তিনি আর কিছুই সেভাবে করতে পারেন না। তিনি বলেন, '‌এটা খুবই খারাপ যে পরিবারের সদস্যদের থেকে আলাদা হয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে একা মরতে হচ্ছে। অধিকাংশ দিনই যখন রোগীদের জন্য কিছুই করতে পারি না, আণি অন্তত চেষ্টা করি তাঁদের বেডের পাশে বসে থাকার যাতে একটু সহজ হতে পারে তাঁরা। কারণ পাশের বেডেই হয়ত অন্য কোনও রোগী মারা গিয়েছেন।'‌ তিনি আরও বলেন, '‌আমি সত্যি খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়ি প্রত্যেকটা শিফটের পর এবং আমি আদৌও কোনওদিন বাড়ি ফিরতে পারব কিনা এটা ভেবে চিন্তিত হয়ে যাই। কারণ আমি এই অবস্থায় বাড়ি ফিরতে পারব না, কারণ তাতে পরিবারের সদস্যরাও আক্রান্ত হয়ে পড়বে।'‌ ফইজল জানান যে তিনি মাঝে মাঝেই অসহায় বোধ করেন কারণ এই পরিস্থিতি খুব তাড়াতাড়ি ঠিক হওয়ার নয়। দেশের ছোট শহর ও নগরে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। কত ছোট ছোট বয়সের মানুষ মারা যাচ্ছে চোখের সামনে।

সরকারের সাহায্য পাওয়া যায়নি

সরকারের সাহায্য পাওয়া যায়নি

দিল্লির হাসপাতালে কর্মরত ডাঃ মণিশ জাঙ্গরা বলেন, '‌আমিও মনের ভেতর থেকে কেঁদে ফেলি।'‌ তিনি জানান, হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে প্রচুর মানুষকে মরতে দেখে অসহায় বোধ হয়। তিনি বলেন, '‌গতকাল আমি ট্রমা সেন্টারে গিয়ে দেখি ২ জন খুব বাজেভাবে কাঁদছে কারণ তাঁরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। এটা দেখার পর আমিও ভেতর থেকে কেঁদে ফেলি।'‌ তিনি জানান, দেশের চিকিৎসকরা এখন অসহায়। কারণ তাঁরা তাঁদের দেশকে বাঁচাতে পারছেন না কারণ আমাদের কাছে সীমিত সংখ্যায় চিকিৎসার উপাদান র‌য়েছে। দিল্লির একাধিক হাসপাতাল অক্সিজেন সরবরাহের অভাবে ধুঁকছে। এর জন্য একমাত্র দায়ি সরকার। সরকারের উচিত এই সমস্যার সমাধান দ্রুত করার। ডাঃ মণিশ বলেন, '‌খুব খারাপ চিত্র উঠে এসেছে। দয়া করে সাহায্য করুন। আমরা সত্যিই অসহায়। আমরা দেশের নাগরিকদের বাঁচাতে চাই। আমরা দেখতে পারছি না মানুষের মৃত্যু।'‌

দেশের হাসপাতালগুলির দৃশ্য এক

দেশের হাসপাতালগুলির দৃশ্য এক

একই অবস্থা দেশের প্রতিটি হাসপাতালের। চিকিৎসকরা অসহায়ের মতো রোগীর মৃত্যু দেখছেন চোখের সামনে অথচ কিছুই করতে পারছেন না। কেন্দ্র সরকারের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেনের যোগান দেওয়া হয়নি। মিলছে না রেমডেসিভির সহ বহু ওষুধও। তার ওপর হাসপাতালে বেডও নেই। ফলে সবদিক দিয়ে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের অবস্থাও শোচনীয়।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+