ধীরগতিতে কমছে করোনা কেস, পুনরুত্থান কি হতে পারে কোভিড–১৯ মহামারির? সতর্ক কেন্দ্রের
ধীরগতিতে কমছে করোনা কেস, পুনরুত্থান কি হতে পারে কোভিড–১৯ মহামারির? সতর্ক কেন্দ্রের
তৃতীয় ওয়েভের আতঙ্কের মাঝেই দেশে কোভিড–১৯ মহামারির পুনরুত্থান নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করল কেন্দ্র সরকার। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে যে কোভিড–১৯ কেসের ধীরগতিতে হ্রাস পাওয়া 'উদ্বিগ্নের কারণ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এও আর্জি করা হয়েছে যে দেশবাসী যাতে কোভিড–যথাযথ আচরণ বিধি পালনে কোনও শিথিলতা না দেখান কারণ করোনা ভাইরাসের সঙ্গে অন্যান্য সংক্রমণও এই বর্ষার মরশুমে সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

ধীরগতিতে হ্রাস করোনা কেসের
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লভ আগরওয়ালা বলেন, 'কোভিড-১৯ কেসগুলির ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক গড় ধারাবাহিকভাহে হ্রাস পেয়েছে। তবে অতীতের করোনা কেস হ্রাসের সঙ্গে আজকের তুলনা করলে, এই হ্রাস উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে আমরা রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনায় বসব।' দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সংবাদিক সম্মেলনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হল।

গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট
❑ ১১ মে শেষ হওয়া সপ্তাহের পর থেকে প্রতিদিনের নতুন কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে ধারাবাহিক হ্রাস রিপোর্ট করা হয়েছে।
❑ কোভিড-১৯ কেস হ্রাস পাওয়ার প্রবণতা ধীর, যা উদ্বেগের কারণ।
❑ নীতি আয়োগের সদস্য (স্বাস্থ্য) ভিকে পাল জানিয়েছেন যে ২২টি জেলা, যার মধ্যে কেরল থেকে সাতটি, মণিপুর থেকে পাঁচটি, মেঘালয় থেকে তিনটে সহ অন্যান্য জেলা গত ৪ সপ্তাহ ধরে দৈনিক করোনা কেস বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
❑ তবে ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে সক্রিয় করোনা কেস এবং সুস্থতার সংখ্যা বাড়ছে। যা স্বস্তির খবর।
❑ ভারত জুড়ে এমন ৫৪ টি জেলা রয়েছে যেগুলি ২৬ জুলাইয়ে শেষ হওয়া সপ্তাহে ১০ শতাংশের বেশি পজিটিভ হারের রিপোর্ট করেছে।
❑ দেশবাসীকে কোভিড যথাযথ বিধি পালন করার পরামর্শ দিয়ে লভ আগরওয়াল জানিয়েছেন যে, 'কোভিড-১৯ কেসের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার জন্য মহামারিটি এখনই দূর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আমরা হয়ত ক্লান্ত হয়ে পড়ব, কিন্তু ভাইরাস ক্লান্ত হবে না।'
❑ স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এও বলা হয়েছে যে করোনার পাশাপাশি অন্যান্য সংক্রমণ যাতে না হয় তার জন্য আগাম সতর্কতা প্রয়োজন কারণ তা বর্ষার মরশুমে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ভিকে পাল এও জানিয়েছেন যে ভাইরাসের আচরণকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।
❑ স্বাস্থ্য মন্ত্রক এও জানায় যে উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলিতে কোভিড-১৯ টেস্টের পজিটিভ হার ১০ শতাংশের ওপর রয়েছে।
❑ ভিকে পাল বলেন, 'আমরা মনে করছি অগাস্টের মধ্যে প্রায় ১৫ কোটি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ডোজ উপলব্ধ হয়ে যাবে, যার অর্থ হল অগাস্ট থেকে ভারতে দৈনিক কোভিড-১৯ টিকাকরণে ৫০ লক্ষ ডোজ ব্যবহার হবে।'
❑ আগরওয়াল এও জানিয়েছেন যে এখনও ৬২টি এমন জেলা রয়েছে যেখানে প্রতিদিন একশোর ওপর করোনা কেস রিপোর্ট হচ্ছে। এই কেসগুলি জেলার স্থানীয় ও সীমিত এলাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

কেরল ও মহারাষ্ট্রে মৃত্যু কম
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতে, কেরল কনটেইনমেন্টের ওপর যথেষ্ট মনোযোগ না দেওয়ার ফলে এই রাজ্যে ৫০ শতাংশ নতুন করোনা কেসের রিপোর্ট হচ্ছে। অপরদিকে, মহারাষ্ট্রেও ৫০ শতাংশ নতুন করোনা কেস রিপোর্ট হয়েছে। তবে এই রাজ্যগুলিতে ভালো স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং কনটেইনমেন্টের চেয়ে করোনা কেসের চিকিৎসার ওপর বেশি মনোযোগ দেওয়ায় করোনায় মৃত্যর সংখ্যা এখানে কমেছে।

দৈনিক সংক্রমণ কমেছে
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ১৩২ দিন পর মঙ্গলবার করোনা ভাইরাসের নতুন কেস ৩০ হাজারের নীচে চলে যায় এবং ১২৪ দিন পর সক্রিয় করোনা কেস চার লক্ষের কম ছিল বলে জানা গিয়েছে। এদিন ২৯,৬৮৯টি নতুন করোনা কেস দেশের মোট সংক্রমণকে নিয়ে গিয়েছে ৩,১৪,৪০,৯৫১-তে এবং নতুন করে করোনায় ৪১৫ জনের মৃত্যু হওয়াতে মৃতের সংখ্যা ৪,২১,৩৮২-তে এসে দাঁড়িয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications