দুর্নীতিই ডুবিয়েছে BJPকে! কর্নাটক নির্বাচনে হার নিয়ে প্রতিক্রিয়া বাজপেয়ীর প্রাক্তন সহযোগী সুধীন্দ্র কুলকার্নি
শুক্রবার সকালে গণনার শুরুর কিছু পর থেকেই পরিষ্কার হয়ে যেতে থাকে এবার সেখানে ক্ষমতায় আসতে চলেছে কংগ্রেস। সেই মতো উৎসব শুরু হয়ে যায় দিল্লিতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। বাজপেয়ীর প্রাক্তন সহযোগী সুধীন্দ্র কুলকার্নি বিজেপির এই হারে দুর্নীতিই অন্যতম কারণ বলে বর্ণনা করেছেন। এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে তিনি তাঁর মত প্রকাশ করেছেন।
সুধীন্দ্র কুলকার্নি বলেছেন, কর্নাটকে বিজেপির হারে অনেক কট্টর বিজেপি সমর্থকও খুশি হয়েছেন। কেননা রাজ্যে উচ্চপর্যায়ে দুর্নীতি নিয়ে তাঁরা বিরক্ত ছিলেন। বিজেপির এই হারে তাঁরা দুর্নীতিকেই বৈধতা দিয়েছেন। তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথাও বর্ণনা করেছেন।

সুধীন্দ্র কুলকার্নি নিজের এক বন্ধু তথা জাতীয় পর্যায়ে স্বনামধন্য চলচ্চিত্র নির্মাতার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। ওই ব্যক্তি চলচ্চিত্র তৈরির জন্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সেই ছবি প্রশংসিতও হয় বিভিন্ন মহলে। কিন্তু তিনি যখন সরকারের কাছে অর্থের জন্য আবেদন করেন, তখন এক মন্ত্রী ৩০ শতাংশ কমিশন দাবি করেছিলেন বলে অভিযোগ।
চলচ্চিত্র নির্মাতা সেই ব্যক্তি ঘুষ দেননি। ফলে সেই মন্ত্রী শুধু অর্থই আটকে রাখেননি, ছবিটির প্রদর্শন বন্ধ করার নির্দেশও দিয়েছিলেন। তখন সেই চলচ্চিত্র নির্মাতা দেশের শীর্ষস্থানীয় আরএসএসের এক নেতাকে ফোনে বিষয়টি জানান। সেই ব্যক্তির হস্তক্ষেপের পরেও বিষয়টিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে গিয়েছেন সেই মন্ত্রী, এমনটাই অভিযোগ সুধীন্দ্র কুলকার্নির।
দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর প্রাক্তন সহযোগী সুধীন্দ্র কুলকার্নি জানিয়েছেন, কর্নাটকের এক অরাজনৈতিক সমাজকর্মীর এক আত্মীয় কট্টর বিজেপি সমর্থক। সেই ব্যক্তিও নিজের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন। সেই ব্যক্তির শাশুড়ি কয়েকমাস আগে মারা যান। ওই মহিলার শেষ ইচ্ছা ছিল সম্পত্তি মেয়ে অর্থাৎ কট্টর বিজেপি সমর্থকের স্ত্রীর নামে করে দিতে।
সেই অনুযায়ী রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট অফিসে গেলে, সেখানে তাঁর কাছে বিপুল পরিমাণ ঘুষ দিতে বলা হয়। যা ওই ব্যক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর ওই ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে যান বিজেপির এক মন্ত্রীর কাছে। সেই মন্ত্রীও ঘুষ দিতে কাজ করানোর পরামর্শ দেন বলে দাবি। মন্ত্রী সেই সময় নাকি বলেছিলেন, সরকারকে তেল না দিলে কিছুই চলে না।

তৃতীয় উদাহরণ হিসেবে কুলকার্নি বলেছেন, বেঙ্গালুরুর এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, পুলিশের ওপর থেকে নিচের তলা পর্যন্ত প্রায় সবাইকেই পোস্টিংয়ের জন্য টাকা দিতে হয়। সেই টাকা মন্ত্রী থেকে বিয়কদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন তিনি। পুলিশেই যদি ঘুষ দিতে হয়, তাহলে রাজনীতিবিদরা কীভাবে পরিষ্কার থাকবেন, সেই প্রশ্ন করেছেন তিনি।
বেঙ্গালুরুর একটি কন্নড় দৈনিকের সুপরিচিত সম্পাদক তাঁকে জানিয়েছেন, উচ্চ শিক্ষার জন্য যে পোর্টালচগুলি রয়েছে, সেগুলিও দুর্নীতি মুক্ত নয়। কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে উপাচার্য হওয়াটা সেখানে নাকি সাধারণ ব্যাপার।
এর আগে কর্নাটকের কন্ট্রাক্টরদের অ্যাসোসিয়েশন প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল মন্ত্রীরা সরকারি প্রকল্পে ৪০ শতাংশ কমিশন দাবি করেন। যে কারণে কট্টর এক আরএসএস সমর্থক নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছিলেন। সুইসাইড নোটে ঘুষের জন্য মন্ত্রীর হয়রানির কথা উল্লেখ করেছিলেন ওই ব্যক্তি। নির্বাচনী প্রচারে রাহুল গান্ধী ৪০ শতাংশ কমিশনের কথা তুলেছিলেন বারে বারে।












Click it and Unblock the Notifications