আজীবন থাকবে করোনা ভাইরাস, এন্ডেমিক স্তরে পৌঁছতে পারে মার্চে, দাবি আইসিএমআরের
আজীবন থাকবে করোনা ভাইরাস, এন্ডেমিক স্তরে পৌঁছতে পারে মার্চে, দাবি আইসিএমআরের
মঙ্গলবারই এসবিআইয়ের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে করোনা ভাইরাসের তৃতীয় ওয়েভ শিখরে পৌঁছতে পারে সর্বোচ্চ তিন সপ্তাহের মধ্যে। আর বুধবার আইসিএমআরের মহামারি বিভাগের প্রধান সমীরণ পাণ্ডা অন্য এক আশঙ্কার কথা শোনালেন। তিনি জানিয়েছেন যে এ বছরের ১১ মার্চ কোভিড–১৯ স্থানীয় অর্থাৎ এন্ডেমিক হয়ে উঠবে।

কোভিড–১৯ আঞ্চলিক রোগে পরিণত হবে
তিনি বলেন, 'যদি আমাদের প্রতিরক্ষা কবচ ঠিকঠাক থাকে এবং কোনও নতুন ভ্যারিয়েন্ট মাথা চাড়া দিয়ে না ওঠে তবে কোভিড-১৯ স্থানীয় রোগ হয়ে উঠবে ১১ মার্চের মধ্যে।' তিনি আরও বলেন, 'যদি ওমিক্রন ডেল্টাকে প্রতিস্থাপন করে তবে তা এন্ডেমিক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি কোনও নতুন ভ্যারিয়েন্ট দেখা না দেয় তাহলে কোভিড আঞ্চলিক রোগে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।' তবে সমীরণ পাণ্ডা এও জানিয়েছেন যে ১১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের ওয়েভ তিনমাস পর্যন্ত থাকবে।

১১ মার্চ থেকে করোনা কেস কমতে পারে
তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, '১১ মার্চ থেকে আমরা কিছুটা বিরাম দেখতে পাব। দিল্লি এবং মুম্বইয়ে কোভিড মামলাগুলি শিখরে পৌঁছেছে এবং সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি শেষ হয়েছে কিনা তা বলার জন্য আমাদের আরও দু'সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। আমরা মাত্র কিছুদিনের মধ্যে এই প্রবণতা শেষ হওয়ার কথা বলতে পারি না। করোনা কেস এবং পজিটিভিটি হ্রাস পেলেও আমরা এখনই এটি বলতে পারি না।'

আজীবন থাকবে করোনা ভাইরাস
এর আগেও সমীরণ পাণ্ডা এই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়ে ছিলেন যে দেশ থেকে একেবারে নিশ্চিহ্ন হবে না করোনা ভাইরাস। ধীরে ধীরে তা এন্ডেমিক স্তরে পৌঁছে তা ইনফ্লুয়েঞ্জায় পরিণত হবে। যার মানে, করোনা ভাইরাস ইনফ্লুয়েঞ্জা আকারে 'আজীবন বেঁচে থাকবে' একটি নির্দিষ্ট এলাকার নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে।

ওমিক্রন ও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের অনুপাত
প্রসঙ্গত, দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসে কেস দ্রুততার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে। দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, কেরল সহ একাধিক রাজ্যে করোনা কেস যথেষ্ট উচ্চ। দেশজুড়ে জারি করা হয়েছে একাধিক বিধি-নিষেধ ও নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবার ওপরও। এই পরিস্থিতিতে পাণ্ডা জানিয়েছেন যে দিল্লি ও মুম্বইতে করোনা ভাইরাসের ওমিক্রন ও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের অনুপাত হল ৮০:২০। এখানে উল্লেখ্য বিভিন্ন রাজ্যে মহামারি বিভিন্ন স্তরে রয়েছে এবং ভাইরাসের মহামারি সংক্রান্ত বৈচিত্র্য ও মহামারি তার গতিপথ পরিবর্তন করার কারণে আইসিএমআর তার পরীক্ষার কৌশলও পরিবর্তন করেছে।

মহামারি চরিত্র বদলাচ্ছে
সমীরণ পাণ্ডা এ বিষয়ে বলেছেন, 'আমরা রাজ্যগুলিকে কখনও বলিনি যে করোনা টেস্ট হ্রাস করতে। আমরা আরও নির্দেশিত এবং উদ্দেশ্যমূলক পরীক্ষার জন্য বলেছি। মহামারি তার চরিত্র বদল করছে এবং সে কারণে করোনা টেস্ট ও পরিচালনার কৌশলও পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা হোম টেস্টিং ইত্যাদি বিষয়ে স্থানীয় ভাষায় নির্দেশিকা জারি করে রাজ্যগুলিকে সঠিক বার্তা পাঠাব।' জিনোমিক সিকোয়েন্সিং সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, 'জিনোমিং সিকোয়েন্সিং একটি গতিশীল ঘটনা। কিন্তু মৃতদেহের জিনোমিক সিকোয়েন্সিং বোঝার জন্য তার ওমিক্রন আছে কিনা তা একটি সাধারণ যুক্তি। অনেক রোগী অন্তর্নিহিত অবস্থার কারণে মারা যায়। তবে হ্যাঁ, আমরা হাসপাতালের সংক্রমণের তীব্রতা বোঝার জন্য অধ্যয়ন করছি।'












Click it and Unblock the Notifications