২০১ দিন পর প্রথমবার শেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমিত ২০ হাজারের নিচে, উৎসবের মরশুমে বড় স্বস্তি দেশে
সামনেই দুর্গাপুজো, তারপর দিওয়ালি-কালীপুজো ঘিরে দেশ কার্যত উৎসবের মেজাজে প্রবেশ করতে চলেছে। তার আগেই করোনার সতর্কতা নিয়ে একাধিক বিধি জারি করেছে কেন্দ্র। এরই মাঝে দেখা যাচ্ছে যে দেশের মোচ আক্রান্তের সংখ্যার ৫০ শতাংশই আসছে কেরল থেকে। এই পরিস্থিতিতে বহু উদ্বেগের মাঝে স্বস্তির হাওয়া জাগিয়ে শেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দেশে ১৮,৭৯৫ জন। কার্যত ২০১ দিন পর প্পথমবার দেশে ২০ হাজারের নিচে নামল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। দ্বিতীয় স্রোতের পর এটিই দেশের প্রথম স্বস্তির বার্তা।

দুর্গাপুজোর আগে বড়সড় স্বস্তি দেশে
উল্লেখ্য, করোনা বিধি মেনেই এই মুহূর্তে বাংলার দিকে দিকে দুর্গা পুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বাঙালি। তবে পুজোর কেনাকাটার ভিড়ে বহু জায়গাতেই মাস্ক , স্যানিটাইজার নিয়ে সতর্কতা কতটা রয়েছে তার উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্বস্তি দিল দেশের গত ২৪ ঘণ্টার করোনা গ্রাফ। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ২০ হাজার জনের নিচে গিয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। ফলে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক যে রিপোর্ট দিয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে, একদিনে দেশে আক্রান্ত হয়েছেন, ১৮,৭৯৫ জন। অ্যাক্টিভ কেস রয়েছে২,৯২,২০৬ জনের। শেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১৭৯ জনের।

মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা
মোট আক্রান্তের সংখ্যা করোনার জেরে দাঁড়িয়েছে ৩,৩৬,৯৭,৫৮১ জন। মোট সুস্থতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২,৯,৫৮,০০২ জন। মৃতের সংখ্যা করোনার জেরে মোট দাঁড়িয়েছে ৪,৪৭,৩৭৩ জন। অ্যাক্টিভ কেস ২,৯২,২০৬ জন। উল্লেখ্য, করোনার জেরে দেশে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে বিধ্বস্ত দেশ। এই পরিস্থিতিতে পর পর দুটি স্রোতের প্রবাহ দেখেছে ১৩০ কোটির ভারত। এরপর আরও একটি করোনা স্রোত আসার আশঙ্কা রয়েছে। সেউ জায়গা থেকে অগাস্টের শেষের দিকেই এই স্রোত আছড়ে পড়ার আশঙ্কা বহু গবেষণায় করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উৎসবের মরশুমে সুস্থতার সংখ্যা ধরে রাখা প্রশাসন ও নাগরিকদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

ভ্যাকসিনেশন ও কেরল ফ্যাক্টর
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভ্যাকসিনেশন ৮৭,০৭,০৮,৬৩৬ জনের করা হয়েছে। কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ৮৪.৭০ কোটি ভ্যাকসিন রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলিতে প্রদান করেছে দিল্লি। আরও ৪২.৮৩ লাখ ভ্যাকসিন পাইপলাইনে রয়েছে রাজ্যগপলিকে সরবরাহ করার জন্য। এদিকে, বারবার কেরলের করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যার ৫০ শতাংশই কেরলে অবস্থান করছেন। সেই জায়গা থেকে আতঙ্কের রেশ থেকে যাচ্ছে। যেখানে ডেল্টার মতো ভ্যারিয়েন্ট ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি করেছে, সেখানে এই অঙ্ক উদ্বেগের।

ছয় মাসে প্রথম স্বস্তি
২০২১ সাল পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই করোনার দ্বিতীয় স্রোত আছড়ে পড়ে ভারতে। পরিস্থিতি যেভাবে খারাপ দিকে যেতে থাকে,তাতে কার্যত ভেঙে পড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। সেই জায়গা থেকে এই প্রথমবার ১৮ হাজারের ঘরে রয়েছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২৬,০৩০ জন। যে রাজ্যগুলিতে করোনার জেরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা রয়েছে, তা হল কেরল। যেখানে করোনার জেরে শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন, ১১,৬৯৯ জন। মিজোরামে ১৮৪৬ জন। তামিলনাড়ুতে ১৬৫৭ জন। এদিকে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় কর্ণাটকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫০৪ জন। দেখা যাচ্ছেে দেশের ৮৬.৮৬ শতাংশ করোনা কেস দেশের পাঁচটি রাজ্যে হয়ে যাচ্ছে। একটা সময় পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী দেখা যা. কেরল একাই দেশের ৬২.২৫ শতাংশ আক্রান্তের জন্য দায়ী। এদিকে, দেশে এই পরিস্থিতিতে শেষ ২৪ ঘণ্টায় যেভাবে কমেছে মৃতের সংখ্যা , তাতেও ফিরছে স্বস্তি। উল্লেখ্য়, করোনার দ্বিতীয় স্রোতের সময় দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। সেই জায়গা থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ হাজারে নেমে এসেছে। এদিকে,, গতকালের রিপোর্ট অনুযায়ী, শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ২৬,০৪১ জন। কমেছে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যাও। গতাকালের রিপোর্ট বলছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে মারা গিয়েছেন ২৭৬ জন। সেই জায়গা থেকে আজকের পরিসংখ্যান বেশ স্বস্তি দিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications