১৫৪ দিনে আজ সর্বনিম্ন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা, শেষ ২৪ ঘণ্টায় ২৫ হাজার ১৬৬ কেস
করোনার জেরে তৃতীয় স্রোতের মধ্যেই বহুদিন বাদে আজ দেশে নামল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। ১৫৪ দিনে আজ সর্বনিম্ন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা।শেষ ২৪ ঘণ্টায় ২৫ হাজার ১৬৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর। দেশে অ্যাক্টিভ কেস এদিন ৩,৬৯,৮৪৬ এ এসে ঠেকেছে। প্রসঙ্গত, একদিকে করোনার দ্বিতীয় স্রোত কাটিয়ে উঠছে দেশ, অন্যদিকে,সামনেই করোনার তৃতীয় স্রোতের আশঙ্কা। সেই পরিস্থিতিতে দেশে বহুদিন বাদে করোনার আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ হাজারের ঘরে নেমেছে। যা নিঃসন্দেহে একটি স্বস্তিদায়ক ঘটনা। যেখানে দেশে কেরল , সহ মহারাষ্ট্রেও গত কয়েকদিনে করোনার বাড়বাড়ন্ত ছিল, সেখানে বর্তমানে যেভাবে হু হু করে নামছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা তাতে রীতিমতো তোলপাড় দেশ।

পরিসংখ্যান বলছে, দেশে করোনার জেরে সুস্থতার হার ৯৭.৫১ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা কার্যত ১৫৪ দিনে আজ সর্বনিম্ন। দেশে আজ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ২২ লক্ষ ৫০ হাজার ৬৭৯ জন। এদিন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের তরফে দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, মোট ৪ লক্ষ ৩২ হাজার ৭৯ জন। এরমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৪৩৭ জনের। যে সংখ্যা আগের দিনের থেকে কম। করোনার আক্রান্তের সংখ্যায় যেখানে গত কয়েকদিনে হু হু করে বেড়েছে সংখ্যা, সেখানে আজ আক্রান্তের সংখ্যা নামতে থাকায়, খানিকটা স্বস্তি দেখা গিয়েছে। দেখা যাচ্ছে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৬ হাজার ৮৩০ জন। এদিকে, অ্যাক্টিভ কেস এদিন এক ধাক্কায় অনেকটাই নেমেছে। সেই জায়গা থেকে এদিন ৩ কোটি ১৪ লাখ ৪৮ হাজার জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সুস্থতার হার অর্থাৎ করোনা জয়ীর সংখ্যা ৯৭.৫১ শতাংশ।
দেশে করোনার টিকা পেয়েছেন ৫৪ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ। করোনার জেরে দেশে প্রবল বিধ্বস্ত অবস্থা কয়েক মাস আগেই ছিল। এপর করোনায় দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা নামলেও দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আর ভ্যালু হু হু করে বাড়ছে। আর তার জেরেই দেশে প্রবল আকার নিয়েছে করোনা পরিস্থিতি। কয়েকদিন গেই কেন্দ্র জানিয়েছে যে করোনার আর ভ্যালু বাড়তে থাকায় দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও কোনও মতেই কোনও লাভের লাভ হচ্ছে না। এর আগে গতকালের রিপোর্টে বলা হয়েছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আক্রান্ত হয়েছেন ৩২,৯৩৭ জন।
তবে গতকাল ছুটির দিন থাকায় তেমন করোনা পরীক্ষা হয়নি বলে মনে করা হচ্ছিল। ফলে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সেদিন কমতিতে থাকার পর আজ ফের একবার আরও নামতে থাকায়, রীতিমতো স্বস্তি ফিরেছে দেশে। তবে করোনার আরভ্যালু কোনদিকে রয়েছে, তা নিয়ে রয়েছে কৌতূহল। করোনা ছড়িয়ে পড়া থেকে দেশকে রক্ষার একমাত্র রাস্তা টিকাকরণ। ইতিমধ্যেই এইমস প্রধান রণদীপ গুলেরিয়া একথা জানিয়েছেন। এদিকে এই পরিস্থিতির মধ্যে গতকাল খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে মুম্বই।
২০২০ সালের এপ্রিলের পর গতকালই মুম্বইতে সর্বনিম্ন ছিল করোনা দাপট। এই পরিস্থিতিতে, মহারাষ্ট্র জুড়ে ডেল্টা প্লাস ভ্য়ারিয়েন্টের কেস ক্রমশঃ বাড়তে আরম্ভ করেছে। মহারাষ্ট্রে সেখামের রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সোমবার জানানো হয়েছে ডেল্টা প্লাস কেসের সংখ্যা বেড়ে ৭৬ হয়ে গিয়েছে রাজ্যে। এর পাশাপাশি এখনও পর্যন্ত এই মারাত্মক ভ্যারিয়ান্টে মারা গিয়েছেন পাঁচ জন। ফলে কর্মাগত ডেল্টা আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে মহারাষ্ট্রে বাড়ছে হু হু করে করোনা কেস। যা পরবরর্তী সময়ে ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, মহারাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় ভয়াবহ আকার নিয়েছে ডেল্টা। সেখানে করোনা চিকার পরও আক্রান্তের ব্রেক থ্রু কেস দেখা যাচ্ছে। অর্খাৎ করোনা টিকার পরও মহারাষ্ট্রে হু হু করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে রীতিমতো ভয়াবহ আকার নিয়েছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। মহারাষ্ট্রে, এই মারাত্মক ভ্যারিয়ান্টে মারা গিয়েছেন পাঁচ জন।মৃতদের মধ্যে সকলেই পয়ষট্টি বছরের ঊর্ধ্ব এবং গুরুতর রোগে আক্রান্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ। এরমধ্যে আবার ২ জন যাঁরা করোনা টিকা নেওয়ার পর করোনা আক্রান্ত হয়ে ডেল্টার দাপটে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েন। তাঁরা মারা গিয়েছেন বলে খবর।












Click it and Unblock the Notifications