দুর্গাপুজোর আমেজে শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আক্রান্তের সংখ্যা কোথায় ঠেকল! একনজরে পরিসংখ্যান
করোনা পরিস্থিতিতে গত কয়েকদিনে যেভাবে মণ্ডপে মণ্ডপে উপচে পড়েছে ভিড়, তাতে সন্ত্রস চিকিৎসকমহল। বারবার বিশেষজ্ঞদের তরফে বলা হচ্ছে, কোনও মতেই মাস্ক বা স্যানিটাইজার ব্যবহার ছাড়া বাইরে ঘোরা উচিত নয়। তবে মণ্ডপের সামনে সোশ্যাল ডিসটেন্সিংকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে অনেকেই সেলফি তোলার ভিড়ে মত্ত হয়েছেন বলে দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলায় করোনা সংক্রমণের পরিমাণ বাড়তে শুরু করেছে বলে দেখা গিয়েছে। শেষ ২৪ ঘণ্টায় শুধু কলকাতাতেই ২০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, জানিয়েছে ১৪ অক্টোবর রাজ্যের করোনা রিপোর্ট। এদিকে, দেশে শেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ২০ হাজারের নিচে। গত একদিনে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৮৯৮৭ জন ।

শেষ ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় যখন ৭০০ এর বেশি জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর এসেছে, তখন দেশে শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজারের নিচে রয়েছে। ১৮ হাজারের ঘরে এদিনও রয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। এদিন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, শেষ একদিনে আক্রান্তের সংখ্যা ১৮,৯৮৭ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৯,৮০৮ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ২৪৬ জন। এদিকে, মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩,৪০, ২০,৭৩০ জন। অ্যাক্টিভ কেস রয়েছে ২,০৬,৫৮৬ জন। মোট সুস্থতার সংখ্যা ৩,৩৩,৬২,৭০৯ জন। দেশে মোট করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৪,৫১,৪৩৫ জন। করোনার জেরে ভ্যাকসিনেশন দেশে এপর্যন্ত রয়েছে ৯৬,৮২,২০, ৯৯৭ জন। এদিকে, দপর্গাপুজোর মরশুমে যাতে কোনও মতেই করোনা না ছড়ায় তার জন্য বহু আগেই কেন্দ্রের তরফে জারি করা হয়েছে একাধিক নিয়ম। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, যে এলাকায় করোনার পজিটিভিটি রেট ৫ শতাংশের বেশি, সেখানে কিছুতেই জমায়েত করা যাবে না। এদিকে এই পরিস্থিতিতে কার্যত দুর্গাপুজোর সময়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সেই জায়গা থেকে দুর্গাপুজোর পর বাংলায় করোনা পরিস্থিতি কোনদিকে যেতে পারে তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে দেশ। এদিকে পরিসংখ্যার বিচারে দেখা যাচ্ছে শেষ একদিনের তুলনায় এদিন করোনার আক্রান্তের সংখ্যা গতকালের তুলনায় ১৯.৯৯ শতাংশ বেড়েছে। ফলে স্বস্তিতে থাকার পরিস্থিতি বর্তমানে নেই।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় করোনা স্রোতের ভয়াবহতার আগে ৫ রাজ্যে বিধানসভা ভোটে পর পর রাজনৈতিক জমায়েতে প্রবল ভিড় দেখা গিয়েছিল। এরপর কেরলে ওনম উৎসব উপলক্ষ্যে মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসবের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। পরবর্তী পর্যায়ে সারাদেশে মোট করোনা আক্রান্তের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তার অর্ধেকের জন্যই দায়ী হয় কেরল। এরপর বাংলায় দপর্গাপুজো। যদিও তার আগে মহারাষ্ট্রে গণেশ পুজোর পর দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা শেষ ১৭ মাসে গত পরশুতেই দেখা গিয়েছে সবচেয়ে কম। তবে, এই পরিস্থিতিতে করোনার জেরে বাংলার গ্রাফ কোনদিকে যায় , তা নিয়ে শঙ্কিত চিকিৎসকমহল।












Click it and Unblock the Notifications