শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ হাজারের উপর দেশের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা , একনজরে গ্রাফ
তৃতীয় স্রোতের মাঝে দেশের করোনার দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ঘিরে রীতিমতো আতঙ্ক চড়ছে। এই পরিস্থিতিতে এদিন গতকালের থেকেও বেড়েছে দেশের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪, ৬৪৩ জন। সুস্থ হয়েছে ৪১,০৯৬ জন। এদিকে, করোনার জেরে দেশে ফের একবার তৃতীয় স্রোতের আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রথম স্রোতের স্মৃতি উস্কে দিয়ে ফের একবার করোনা আক্রান্তের সংখ্য়ায় কেরল ভারতে সবচেয়ে এগিয়ে। দেশের ৫০ শতাংশ করোনা আক্রান্তের ঘটনা উঠে এসেছে কেরল থেকেই। এরপর দেশের করোনা পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে ,দেখে নেওয়া যাক।

দেশের করোনা পরিস্থিতি
শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনার জেরে আক্রান্তদের সংখ্যায় উদ্বেগ থাকলেও, মৃতের সংখ্যা ৫০০ এর অনেকটাই কমে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৪৬৪ জন। আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪,৬৪৩ জন। সুস্থ হয়েছেন ৪১ ০৯৬ জন। প্রসঙ্গত, করোনার বাড়বাড়ন্তের জেরে ফের একবার প্রশ্ন উঠছে যে তাহলে কি ভারতে তৃতীয় স্রোতের প্রারম্ভ হয়ে গিয়েছে? প্রশ্ন রয়েছে কেরলকে ঘিরেও। ক্রমাগত সপ্তাহের বিচারে কেরলের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা অবাক করছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন যে, তাহলে কি কেরলে আক্রান্তের সংখ্যার জেরে এবার দক্ষিণী এই শহরই করোনার তৃতীয় স্রোতের এপিসেন্টার হতে চলেছে? প্রশ্ন রেখেই যাচ্ছে দেশের নয়া করোনা পরিস্থিতি।

করোনার সর্বমোট পরিসংখ্যান
করোনার জেরে দেশে এপর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ১৮ লক্ষ ৫৭ হাজারে পৌঁছেছে। শুক্রবার ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সূত্রে যে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে, আপাতত মৃতের সংখ্যা মোট ৪ লক্ষ ২৬ হাজার ৭৫৪ জন। এদিকে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৪৬৪ জনের। প্রসঙ্গত, এই সংখ্যাটা আগের দিনের থেকে অনেকটাই কম। এদিকে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৪১ হাার ৯৬ জন। দেশে সুস্থতার হার ৯৭.৩৭ শতাংশ। এপর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ কোটি ১০ লক্ষ ১৫ হাজার মানুষ। দেশের অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা ৪,১৪,১৫৯ জন।

ভ্যাকসিনেশন
দেশে এই মুহূর্তে ভ্যাকসিনেশন একটি বড় ইস্যু। গত ১৬ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরে দেশে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। দেশেদেশে করোনা ভ্যাকসিন পেয়েছেন এপর্যন্ত মোট ৪৯ কোটি ৫৩ লক্ষ ২৭ হাজার ৫৯৫ জন। এদিন জানা গিয়েছে, দেশের ১৩৬ কোটি মানুষকে কোভ্যাক্সিন ও কোভিশিল্ড দেওয়ার কাজ অগাস্ট ও ডিসেম্বরে সম্পন্ন হতে হবে, এমন টার্গেট নিয়েই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক আরও গতি বাড়িয়েছে ভ্যাকসিনেশনের। এদিকে বিশেষজ্ঞদের বার্তা , যে করোনার জেরে দেশে রোগ ছড়িয়ে পড়ার বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে গেলে অবশ্যই প্রয়োজন ভ্যাকসিন। যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁরাই এমন পরিস্থিতিতে ভ্যাকসিন নিলে কমতে পারে আক্রান্ত বেড়ে যাওয়ার ঘটনা। এদিকে, দেখা যাচ্ছে বিশ্বে ১৩ শতাংশ এমন মানুষও রয়েছেন যাঁরা করোনার টিকা নিয়েও আক্রান্ত হচ্ছেন কোভিডে। সেক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, করোনা থেকে যাঁরা সুস্থ হয়েছেন তাঁদের ভয়ঙ্কর করোনা ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম। এছাড়াও ডেল্টার সঙ্গে জোরদার লড়াই করতে পারে কোভিশিল্ডও।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাড়বাড়ন্ত হতে শুরু করে দিয়েছে করোনা। ডেল্টার প্রবল প্রকোপ মার্কিন মুলুক থেকে চিন পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়েছে। গত ছয় মাসের মধ্যে এই মাসেই করোনার সবচেয়ে বেশি পিক দেখা গিয়েছে মার্কিন মুলুকে। স্বাভাবতই সেখানে প্রবল করোনা স্রোত নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এদিকে, সেদেশে টিকাকরণের একটা বড় অংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই জায়গা থেকে ডেল্টা ভ্যারিয়ন্টের রমরমা ঘিরে রয়েছে উদ্বেগ।

ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে আশঙ্কা
এদিকে দেখা যাচ্ছে যদি কোনও কোভিড ভ্যারিয়েন্ট সেভাবে রমরমা না দেখায় , তাহলে করোনার জেরে আসন্ন তৃতীয় স্রোত সেভাবে ভয়ঙ্কর হবে না। তবে কোভিড ভ্যারিয়েন্ট যে একেবারেই আসবে না, বা তার প্রকোপ দেখাবে না ভারতে তা নিশ্চিত একেবারেই নয়। কারণ করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের রমরমা ইতিমধ্যেই দেখা যেতে শুরু করেছে।












Click it and Unblock the Notifications