করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মরশুমি, শীতকালেই এর প্রকোপ বেশি, দাবি সমীক্ষার
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মরশুমি, শীতকালেই এক প্রকোপ বেশি, দাবি সমীক্ষার
বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস মহামারি আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এই মারণ রোগ থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায় সে বিষয়ে এখনও আশার আলো দেখাতে ব্যর্থ তাবড় তাবড় গবেষকরা। এরই মধ্যে গবেষকরা জানিয়েছেন যে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ মরশুমি হতে পারে। স্থানীয় জলবায়ু ও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে যোগাযোগ সূত্র স্থাপন করে গবেষকরা জানিয়েছেন যে বায়ুমণ্ডলীয় আদ্রতা এক শতাংশ হ্রাস হলেই তা ৬ শতাংশ কোভিড–১৯ কেস বাড়িয়ে দিতে পারে।

করোনা ভাইরাস মরশুমি সংক্রমণ
এই সমীক্ষাটি প্রকাশিত হয়েছে ট্রান্সবাউন্ডারি অ্যান্ড এর্মাজিং ডিজিস জার্নালে। যেখানে দক্ষিণ গোলার্ধের জলবায়ু এবং কোভিড-১৯ এর মধ্যে সম্পর্কের মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং দাবি করেছে যে এই রোগটি মরশুমি হতে পারে। এই গবেষণার সহ-লেখক ও সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারিবিদ মাইকেল ওয়ার্ড বলেন, ‘কোভিড-১৯ মরশুমি রোগের মতো বলেই মনে হচ্ছে যা নিম্ন আদ্রতার সময় পুনরাবৃত্তি হতে পারে। আটা আমাদের মনে রাখতে হবে যে যদি এটা শীতকাল হয় তবে এটা অবশ্যই কোভিড-১৯-এর সময়।'

গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে
যদিও গবেষকরা তাঁদের বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে এটার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ দক্ষিণ গোলার্ধের শীতকালে সহ করোনার সঙ্গে তার এই সম্পর্কটি কীভাবে কাজ করে তা সন্ধানের বৈধতা এবং তা ব্যাখ্যা করার জন্য প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, আদ্রতা কতটা কম হলে কোভিড-১৯ কেসের হার কতটা হবে সে বিষয়টিও এখনও অজ্ঞাত। গবেষকরা জানিয়েছেন যে সম্প্রতি এক সমীক্ষায় চিনের কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবে এই রোগের সংক্রমণ ও দৈনিক তাপমাত্রা এবং আপেক্ষিক আদ্রতার মধ্যে একটি সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে। ওয়ার্ড বলেন, ‘এই মহামারি চিন, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় শীতকালে দেখা দেয় সুতরাং আমরা আগ্রহী ছিলাম যে গ্রীষ্মের শেষের দিকে এবং শরৎলের প্রথমদিকে অস্ট্রেলিয়ায় কোভিড-১৯ কেস এবং জলবায়ুর মধ্যে সম্পর্ক আলাদা ছিল কিনা তা বোঝার জন্য।'

আদ্রতা কমলে করোনা সংক্রমণ বাড়বে
গবেষকদের মতে, ঠাণ্ডা তাপমাত্রার চেয়েও নিম্ন আদ্রতায় করোনা ভাইরাস বেশি হওয়ার সম্ভাবনা। ওয়ার্ড বলেন, ‘এর অর্থ হল শীতকালে যখন আদ্রতা কমবে তখন কোভিডের ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।' কিন্তু উত্তর গোলার্ধে যেখানে কম আদ্রতাযুক্ত অঞ্চল বা সময়কালে যখন আদ্রতা কমে আসে, সেখানে সম্ভবত গ্রীষ্মের মাসগুলিতেও করোনার ঝুঁকি রয়েছে। অতএব পর্যবেক্ষণ জারি রাখতে হবে।' ওয়ার্ড জানিয়েছেন, বায়ুবাহিত ভাইরাস সংক্রমণে কেন আর্দ্রতার বিষয়টি জড়িত তার পেছনে জৈবিক কারণ রয়েছে। ওয়ার্ড জানিয়েছেন, আদ্রতা যখন নিম্নগামী থাকে তখন বাতাস শুকনো হয়ে যায়, এরোসল ছোট হয়ে পড়ে। ওয়ার্ড বলেন, ‘যখন আপনি হাঁচি দিচ্ছেন বা কাশছেন তখন সেই জীবাণুগুলো ছোট সংক্রমিত এরোসল রূপে বাতাসে দীর্ঘসময় থাকে। এরপর যখন বাতাসে আদ্রতা ফিরে আসে এরোসল বড় ও ভারি হয়ে যায়, তখন তারা পড়ে যায় ও পৃষ্ঠদেশে দ্রুত আঘাত করে।'

শীতকালে সাবধান থাকতে হবে
সম্প্রতি এক সমীক্ষায় ওয়ার্ড ও তাঁর দল ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে ৭৪৯টি স্থানীয় কোভিড-১৯ কেসের ওপর সমীক্ষা চালিয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রেটার সিডনি থেকে। বিজ্ঞানীরা রোগীর পিন কোডের সঙ্গে কাছাকাছি থাকা আবহাওয়া দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও আদ্রতা সম্পর্কে খোঁজ নেন। গবেষকরা তা বিশ্লেষণ করে দেখেন যে নিম্ন আদ্রতা এক শতাংশ কম হলেই তা ৬ শতাংশ কোভিড-১৯ কেস বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। এর অর্থ আসন্ন শুষ্ক শীতকালে সতর্ক থাকতে হবে সকলকে। এর সঙ্গে ওয়ার্ড এও জানিয়েছেন যে সিডনিতে গড় আর্দ্রতা আগস্টে সবচেয়ে কম হয়। এর অর্থ আগস্ট মাসেও অস্ট্রেলিয়ায় কোভিড-১৯ কেস দেখা দিতে পারে। শীতকাল পড়লে অনবরত টেস্ট ও পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যেতে হবে এই মারণ রোগের সঙ্গে লড়তে হলে।












Click it and Unblock the Notifications