এক লাফে দেশে করোনার দৈনিক সংক্রমণ আজ ৩৭ হাজারের ঘরে, একনজরে পরিসংখ্যান
গতকাল যেখানে দেশের করোনা রিপোর্ট বলেছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ হাজারের ঘরে ছিল। তবে আরও ২৪ ঘণ্টা পার হতেই ভারতে করোনা আক্রন্তের সংখ্যা দৈনিক গ্রাফে হু হু করে উপরে উঠে গিয়েছে। শেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনার জেরে দেশে ৩৭,৫৯৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ৩৪,১৬৯ জন।

ডেল্টা ভাইরাসের দাপটের মাঝে যেখানে গোটা দেশ কার্যত ত্রস্ত , সেখানে গতকালই খানিকটা স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়ে করোনা গ্রাফ ২৫ হাজারের ঘরে ছিল গতকাল সেখানে আজ একলাফে দেশে সংক্রমণের পরিমাণ ৪৭.৬ শতাংশ সংক্রমণ বেড়ে ৩৭ হাজারের ঘরে রয়েছে করোনার সংক্রমণ। শেষ ২৪ ঘণ্টার নিরিখে গতকালের রিপোর্টে করোনা সংক্রমণ হয়েছে ২৫,৪৬৭ জনের। আর আজ শেষ ২৪ ঘণ্টার নিরিখে করোনা সংক্রমণের হার ৩৭,৫৯৩ জন। এই পরিস্থিতিতে রোজই করোনা গ্রাফের উত্থান পতনের মধ্যে ফারাকের অঙ্ক রীতিমতো ভয় দেখাচ্ছে । এদিকে , ভারতকে সতর্ক করে এন্ডেমিকের বার্তা দিয়েছেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বিজ্ঞনী সৌম্য স্বামীনাথন। তিনি সাফ জানিয়েছেন এবার থেকে ভারতে করোনা পরিস্থিতি সম্ভবত স্থানীয় স্তরে গিয়ে ঠেকবে আগামী সময়ে।
করোনা পরিস্থিতির মাঝে একদিনে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৬৪৮ জনের। এদিকে তার আগে করোনার জেরে দেশে মোট আক্রান্তের মধ্যে করোনার জেরে মৃতের সংখ্যাও বেশ তাক লাগাচ্ছে। গতকালের রিপোর্টে শেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা ৩৫৪ জন ছিল। যে ঘটনা রীতিমতো তাৎপর্যপূর্ণ। এদিকে, দেখা যাচ্ছ, করোনার জেরে আপাতত ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্য়া ৩,২৫,১২,৩৬৬ জন। মোট সুস্থতার সংখ্যা ৩,১৭,৫৪,২৮১ জন। অ্যাক্টিভ কেস ৩,২২৩২৭ জনের মধ্যে রয়েছে দেশে। মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩৫, ৭৫৮ এ। এদিকে, কলকাতায় গত কয়েকদিন ধরে বহু শিশুর মধ্যে জ্বর ও কাশির সমস্যা দেখা দিতে শুরু করেছে। এরপর পরীক্ষ করে তাদের মধ্যে করোনরা কোনও লক্ষণ দেখা না গেলেও টিউবারকিউলেসিসের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এদিকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, বলা হচ্ছে, অক্টোবরেই ভারতে করোনার স্রোত শিখর ছুঁতে পারে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় এই ইনস্টিটিউটের বার্তা অনুযায়ী অক্টোবরে প্রায় ৫ লক্ষ আক্রান্ত হতে পারেন করোনার জেরে দৈনিক। এদিকে, দ্বিতীয় করোনা স্রোতের আতঙ্কের রেশ থেকে কার্যত বেরিয়ে আসতে পারেনি দেশ। সেই সময় হু হু করে বেড়ে যাওয়া করোনার দাপটের মাঝে বিভিন্ন হা,পাতালে বেড না পাওয়ার যন্ত্রণা সহ একাধিক সমস্যা দানা বাঁধে। এমন পরিস্থিতিতে পার্কগুলিকে শ্মশান স্থান বানিয়ে বহু জায়গায় করোনায় তদের সৎকার করা হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় স্রোতে আক্রান্তের দৈনিক হার ছিল ১ লক্ষ থেকে শুরু করে ৪ লক্ষ পর্যন্ত। তবে এপর করোনর থার্ড ওয়েভ রীতিমতো ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, করোনা দমনে একমাত্র মারণ অস্ত্র হিসাবে মানব জাতির কাছে রয়েছে ভ্যাকসিন। এই ভ্যাকসিন এপর্যন্ত দেশে ৫৫,৫৯,০৪৫৯৫ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৬১,৯০,৯৩০ জনকে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশে করোনা সংক্রমণ যাতে না ছড়িয়ে পড়ে তার জন্য একমাত্র রাস্তা হিসাবে বারবার চিকিৎসকরা ভ্যকসিন নেওয়া র কথা বলছেন। এদিকে হু এর বিশেষজ্ঞ সৌম্য স্বামীনাথনের মতে, আগামী বছরের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ করোনা ভ্যাকসিন পেয়ে যাবেন। ফলে সেক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে নিতে মানুষের সামনে সেভাবে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারবে না। এদিকে, করোনার জেরে দেশে ইতিমধ্যেই ভয়াবহ আকার নিয়েছে পরিস্থিতি। সেই জায়গা থেকে এন্ডেমিকের দিকে করোনা পরিস্থিতি যাচ্ছে বলে দাবি করছেন সৌম্য স্বামীনাথন। অর্থাৎ স্থানীয়তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ভারতের করোনা স্তর। এদিকে এক সাম্প্রতিক গবেষণায় জানানো হয়েছে যে সম্ভবত এবার করোনার দাপট নভেম্বর মাসে শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। আইআইটি কানপুরের এক গবেষণা অনুযায়ী, করোনার দাপট নভেম্বর মাসে অর্খাৎ ঠিক পুজোর মরশুম কেটে যেতেই দেখা দিতে পারে । সেই সময় নতুন করে করোনা স্রোত আসার প্রবল সম্ভাবনা থেকে যাবে বলেও মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রীতিমতো আতঙ্কে গোটা দেশ। সামনেই বাংলায় দুর্গাপুজো। সেই জায়গা থেকে পরিস্থিতি কোনদিকে যায় তার দিকে কড়া পাহাড়া প্রশাসনের।












Click it and Unblock the Notifications