করোনা অ্যান্টিবডির মেয়াদ বেশিদিন নয়, পুনরায় সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে

করোনা অ্যান্টিবডির মেয়াদ বেশিদিন নয়, পুনরায় সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পাশাপাশি এখন আরও একটি বিষয় উদ্বেগের হয়ে দাঁড়িয়েছে তা হল কোভিড–১৯ থেকে সুস্থ হয়ে যাওয়ার পরও আবারও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে এ ধরনের ঘটনা লক্ষ্য করা গিয়েছে। প্রসঙ্গত, সার্স–কোভ–২ ভাইরাসের সুরক্ষায় অ্যান্টিবডির উপস্থিতি জরুরি এ বিষয়টি নিয়ে আগেও বহু গবেষণা হয়েছে। কিন্তু এই অ্যান্টিবডি সর্বদা করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খোদ বিজ্ঞানীরা। তাঁরা জানার চেষ্টা করছেন করোনার বিরুদ্ধে কোন ধরনের অ্যান্টিবডি কার্যকর, তা কতদিনের ও কত দীর্ঘ সময়ের জন্য।

অ্যান্টিবডির অর্থ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে আগে

অ্যান্টিবডির অর্থ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে আগে

ভারতের করোনা ভাইরাস এমনিতেই উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সোমবার একদিনে এই দেশে নতুন করে ৯০,০৬২টি আক্রান্ত হয়েছে, যা দেশকে ৪২ লক্ষ সংক্রমণের ঘরে নিয়ে গিয়েছে। বিজ্ঞানীরা অ্যান্টিবডির প্রকৃতি বোঝার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এবং বোঝার চেষ্টা করছেন যে অ্যান্টিবডি কীভাবে এই রোগের অগ্রগতির ওপর প্রভাব ফেলবে। তবে এ নিয়ে এখনও সমীক্ষা-গবেষণা চলছে। যদিও এটা খুব অনিশ্চয়তার সঙ্গে বলা যেতে পারে যে কারোর শরীরে আন্টিবডি পাওয়ার অর্থ হল সেই ব্যক্তি ইতিমধ্যেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

দু’‌ধরনের অ্যান্টিবডি রয়েছে

দু’‌ধরনের অ্যান্টিবডি রয়েছে

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে দু'‌ধরনের অ্যান্টিবডি রয়েছে। এক নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি (‌ন্যাবস)‌ ও সিম্পল বা সাধারণ অ্যান্টিবডি। যেখানে ন্যাবস শরীরের কোষের মধ্যে করোনা ভাইরাসের প্রবেশকে প্রতিরোধ করে, তেমনি অন্য অ্যান্টিবডিগুলিও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে চলে, বলে মনে করে পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স, এডুকেশন ও রিসার্চের বিনীতা বল। তিনি এও জানিয়েছেন যে সাধারণ অ্যান্টিবডিগুলি শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতির ইঙ্গিত দিলেও তা ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে একেবারেই উপযোগী নয়। ইমিউনোলজিস্ট বিনীতার মতে, সাধারণ অ্যান্টিবডি এটা প্রমাণ করে যে ওই ব্যক্তি সার্স-কোভ-২-এ আক্রান্ত হয়েছিলেন কিন্তু তা নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডর অনুপস্থিতিতে ভাইরাস থেকে শরীরকে রক্ষা করবে এর নিশ্চয়তা নেই।

 ন্যাবস ও সাধারণ অ্যান্টিবডির কাজ

ন্যাবস ও সাধারণ অ্যান্টিবডির কাজ

শরীরে ন্যাবসের উপস্থিতির অর্থ হল তা যে কোনও ভাইরাসকে ঢুকতে বাধা দেয় এবং যদি কোনও ভাইরা ঢুকেও পড়ে তা নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে শরীর সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে বলে জানান বিনীতা। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ধরনের অ্যান্টিবডি শরীরে ভাইরাসের সঙ্গে যুক্ত হলে তার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায় এবং ভাইরাস ঢোকার রাস্তা মসৃণ করে। প্রসঙ্গত ভারতে বিভিন্ন ধরনের সেরো সমীক্ষা হয়েছে গত কয়েক মাসে। লক্ষ্য এটাই ছিল যে দেশে সংক্রমণের প্রকৃত সংখ্যা বের করা। সেরো সার্ভেতে ব্যক্তির রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে এটা দেখা হত যে সেখানে অ্যান্টিবডি রয়েছে কিনা, যদি থাকে তবে সেই ব্যক্তি অতীতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং এখন সুস্থ রয়েছেন। সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, করোনা সংক্রমণের প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে দেশে আরও অনেক বেশি জন আক্রান্ত হয়েছে।

অ্যান্টিবডি করোনার ভাইরাস রোধ করতে সফল নয়

অ্যান্টিবডি করোনার ভাইরাস রোধ করতে সফল নয়

দেশের অন্যতম ভাইরোলজিস্ট ডাঃ সত্যজিত রথ জানিয়েছেন যে সেরো সমীক্ষায় সকলের ক্ষেত্রে একই ধরনের অ্যান্টিবডি টেস্ট হয়নি। আসলে বাজারে উপলব্ধ সব অ্যান্টিবডি টেস্ট একই ধরনের ভাইরাল প্রতিরোধ করতে সহায়তা করতে পারে না। তবে শরীরে কতটা অ্যান্টিবডি থাকছে তার পরিমাপ জানার কোনও রাস্তা বের হয়নি। তাই সেক্ষেত্রে শরীরে প্রবেশ করা ভাইরাসের সঙ্গে অ্যান্টিবডি কতটা লড়াই করতে পারবে তাও সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। অনেক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রোগীর শরীরে অ্যান্টিবডির মেয়াদ মাত্র চারমাস। তাই করোনা ভাইরাসের বাধা হয়ে উঠবে অ্যান্টিবডি, তা সবক্ষেত্রে বলা সঠিক নয়।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+