শীতকালেও এই করোনা হামলা হতে পারে, আশঙ্কার কথা শোনালেন এইমসের চিকিৎসক
শীতকালেও এই করোনা হামলা হতে পারে, আশঙ্কার কথা শোনালেন এইমসের চিকিৎসক
দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ, লকাডাউন, অর্থনৈতিক মন্দা সব মিলিয়ে ভারতের হাল এই মুহূর্তে খুবই খারাপ। এরই মধ্যে আরও এক আশঙ্কার খবর শোনালেন এইমসের ডিরেক্টর ডাঃ রণদীপ গুলেরিয়া, যিনি ভারতে কোভিড–১৯ এর প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনার কৌশলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে বলেছেন, 'কোভিড–১৯–এর সঙ্গে আরও কিছু সময় থাকতে হবে আমাদের। দ্বিতীয়বার এই করোনা হামলা করতে পারে শীতকালে।’

করোনা দেশে দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে
ডাঃ রণদীপ গুলেরিয়া বলেন, ‘আমাদের একে দীর্ঘমেয়াদি একবছরের যুদ্ধ হিসাবে দেখা উচিত।' তিনি জানিয়েছেন, হটস্পট এলাকাগুলিতে করোনা কেস হ্রাসের জন্য আরও বেশি করে মনোযোগ দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘চারপাশে থাকা কোভিড-১৯-এর ওপর ভিত্তি করে নতুন কৌশল গড়া উচিত। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কৌশলের দরকার। সকলের জন্য একরকমের দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করবে না। হটস্পট এলাকাগুলির ওপর নজরদারি বাড়ানো উচিত।' দেশটির মহামারি পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ দলের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের অংশ ডাঃ গুলেরিয়া জানিয়েছেন সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ সংক্রমণের বিস্তারকে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করেছে। করোনার চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের কার্যকারিতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ওষুধ আপাতত স্বাস্থ্যকর্মী এবং কোভিড-১৯ রোগীর সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন তাঁদের জন্যই ব্যবহার্য।' ইবোলার চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত রেমেডিসিভির তেমন ভাবে কার্যকর হয়নি বলেন তিনি। তবে এ ব্যাপারে কাজ যে প্রাথমিক স্তরে রয়েছে, সে কথাও বলেছেন গুলেরিয়া।

ভারতে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়নি
ভারতে টেস্টের কৌশল সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, যাঁরা বিদেশ থেকে এসেছেন, তাঁদের পরীক্ষা করা হবে। এর পর যখন সংক্রমণ সংখ্যা ১০ হাজারে পৌঁছায়, তখন আমরা প্রতিদিন ৭৫ হাজার জনের টেস্ট শুরু করি।' গোষ্ঠী সংক্রমণ সম্পর্কে তিনি জানান, সারা দেশে এই পরিস্থিতি এখনও শুরু হয়নি। মেট্রো শহরগুলিতে কীভাবে রোগ ছড়ানো আটকানো যায়, সে ব্যাপারে বিভিন্ন কৌশল নিতে হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন গুলেরিয়া। তিনি জানান, গোটা বিষয়টায় মাইক্রো স্তরে পরিকল্পনা দরকার, কেবল সমগ্র কার্ভ দেখলেই চলবে না।

এগিয়ে আসতে হবে বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে
কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবাকেও এগিয়ে আসতে হবে বলেছেন তিনি। ‘এতদিন পর্যন্ত বেসরকারি হাসপাতালের তরফে আমরা তেমন কোনও উদ্যোগ দেখিনি। অন্য সমস্ত রকমের সার্জারি বন্ধ থাকায় বেসরকারি হাসপাতালের উপর চাপ বেড়েছে। কোভিড-১৯-এ স্বাস্থ্যকর্মীরা সংক্রমিত হচ্ছেন এ বিষয়টিও গভীর উদ্বেগের।'












Click it and Unblock the Notifications