করোনা সংক্রমণ বাড়লেও মৃতের হার নিম্নমুখী হওয়ায় স্বস্তিতে দেশের বিশেষজ্ঞরা
দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। করোনার আরও একটি ওয়েভ (চতুর্থ ওয়েভের) আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু এরমধ্যেও আশার আলো, সংক্রমণ বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি করোনায় মৃত্যু৷ দেশে করোনাজনিত মৃত্যু এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোভিডে মৃত্যুর কোনও লক্ষণীয় বৃদ্ধি হয়নি। কেরালা ছাড়াও ( শুধুমাত্র কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুসারে) ভারতে গত সপ্তাহে ২৭ জনের করোনায় মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের মতোই । গত সপ্তাহে ৯৯৬ টি নতুন করোনা কেস রিপোর্ট করার পরে, মহারাষ্ট্রে আগের সপ্তাহের তুলনায় ৪৮% করোনা কেস বেড়েছে যেখানে কর্ণাটক এবং বাংলায় যথাক্রমে ৭১ এবং ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে করোনা কেস। ২৪ এপ্রিল রবিবার পর্যন্ত সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ১৫,৮৭৩ রিপোর্ট করা হয়েছে, যেখানে রিপোর্ট করা কোভিড মৃত্যুর সংখ্যা ২৪ ঘন্টায় ৪৪ বেড়ে ৫২২ ১৩৯ এ পৌঁছেছে।

সারা দেশে মোট ১৮৭ কোটিরও বেশি টিকাকরণ সম্পন্ন হয়েছে৷ সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ভারতে ২৫৪১টি নতুন কোভিড-১৯ রোগীর রিপোর্ট করা হয়েছে, সক্রিয় করোনা সংখ্যা ১৬৫২২-এ পৌঁছেছে। দৈনিক করোনা ইতিবাচকতার হার ০.৮৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ফেব্রুয়ারিতেই সতর্ক করেছিল যে ওমওক্রন বিএ.২ এর উপ-ভেরিয়েন্ট বিএ.১ স্ট্রেইনের চেয়ে বেশি সংক্রমণযোগ্য। তবে হু জানিয়েছিল যে এই স্ট্রেনটির মূল স্ট্রেনের চেয়ে বেশি মারণ ক্ষমতা নেই।
কিছুদিন আগেই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সম্পাদক অ্যান্টোনিও গুটারেজ কোভিড মাহামারি নিয়ে বিশ্বকে সকর্ত করে বলেছিলেন, কোভিড মহামারি শেষ হতে এখনও ঢের দেরি। এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে নতুন করে সংক্রমণ। কিন্তু কীভাবে মোকাবিলা করা যাবে এই স্ট্রেন জনিত সংক্রমণের? এক্ষেত্রেও সেই আগের রণনীতি নেওয়ার কথায় বলেছিলেন অ্যান্টোনিও। সমস্ত দেশের সরকার এবং ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাকে তিনি বলেছিলেন, তাঁরা যেন একজোট হয়ে কাজ করেন৷ বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে প্রত্যেক মানুষকে পর্যাপ্ত ওষুধ, টিকা পৌঁছে দেওয়া হয়।
অ্যান্টোনিওর কথায় ' প্রতিদিন ১.৫ মিলিয়ন মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন কোভিডে৷ এশিয়ায় ক্রমাগত সংক্রমণ বাড়ছে৷ একটি নতুন ঢেউ আবার আছড়ে পড়েছে ইউরোপেও। সেখানেও প্রচুর মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এই নতুন কোভিড ঠিক কত তাড়াতাড়ি মানব দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট তার বড় প্রমাণ। এবারেও টিকার গুরুত্ব অপরিসীম। কিছু উন্নত দেশ টিকার দ্বিতীয় বুস্টার ডোজের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এখনও পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ মানুষ টিকা পায়নি। আমাদের লক্ষ্য ছিল এই বছরের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিটি দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ যেন টিকাকরণের আওতায় আসেন। আমরা সেই লক্ষ্য থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছি এখনও।'












Click it and Unblock the Notifications