মেন লাইন ছেড়ে লুপ লাইনে ঢুকে পড়াই কাল হল করমণ্ডলের, চালকের ভুল নাকি যান্ত্রিক ত্রুটিই দায়ী
Coromandel Express accident: কয়েক মিনিট আগে মেন লাইন ছেড়ে লুপ লাইনে ঢুকে পড়েছিল শালিমার-চেন্নাই আপ করমণ্ডল এক্সপ্রেস। এই একটা ভুলেই সব শেষ। ডাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়ির পিছনে ধাক্কা। তারপর একে একে সব কামরা লাইনচ্যুত হয়ে গেল। এমনকী ডাউন লাইনে থাকা যশবন্তপুর এক্সপ্রেসও রক্ষা পেল না দুর্ঘটনা থেকে।
কিন্তু কেন মেন লাইন থেকে লুপ লাইনে ঢুকে পড়ল করমণ্ডল এক্সপ্রেস। চালকের ভুলেই কি ঘটে গেল এমন ঘটনাঁ? নাকি যান্ত্রিক ত্রুটিই এ জন্য দায়ী। সিগন্যাল সিস্টেমে কোনো গলদ এর নেপথ্যে নেই তো, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ঠিক কার ভুলে ঘটে গেল এতবড়ো ভয়াবহ দুর্ঘটনা, তা জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত।

এই দুর্ঘটনার কয়েক মিনিট আগে ভুল ট্র্যাকে চলে গিয়েছিল করমণ্ডল এক্সপ্রেস। ঘণ্টায় তখন ১২৭ কিলোমিটার বেগে ছুটছিল করমণ্ডল এক্সপ্রেস। ওড়িশার বালেশ্বর জেলায় করমণ্ডল এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনা ২৫০ জনেরও বেশি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এই ট্র্যাজেডির কয়েক মিনিট আগে ট্রেনটি ভুল ট্র্যাক চলে যাওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা বলে সিগন্যালিং কন্ট্রোল রুমের প্রাথমিক রিপোর্ট মনে করছে রেল।
তবে এখনই তা নিশ্চিত করে বলতে রাজি নয় রেল। কারণ পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করা যাবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে আধিকারিকরা। রেলওয়ের খড়গপুর ডিভিশনের সিগন্যালিং কন্ট্রোল রুমের একটি ভিডিও অনুসারে প্রাথমিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন আধিকারিকরা।

তবে কার গলদ ছিল, তা এখনই স্পষ্ট করে বলতে রাজি নয় রেল। চেন্নাইগামী করমণ্ডল এক্সপ্রেস শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিট নাগাদ বাহানগর বাজার স্টেশন অতিক্রম করার পরই মেন লাইন ছেড়ে লুপ লাইনে চলে যায়। ওই লুপ লাইনেই দাঁড়িয়ে ছিল মালগাড়িটি। মালগাড়ির পিছনে দাক্কা মারে করমণ্ডল এক্সপ্রেস।
সিগন্যালিং কন্ট্রোল রুমের ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, দুটি প্রধান লাইন এবং দুটি লুপ লাইন-সহ চারটি রেলপথ রয়েছে। সেখানে মেন লাইন ছেড়ে পাশের লুপ লাইনে ঢুকে পড়ে করমণ্ড এক্সপ্রেস। সংঘর্ষের কয়েক মিনিটের মধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা হাওড়াগামী যশবন্তপুর এক্সপ্রেস করমণ্ডল এক্সপ্রেসের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

তবে কীভাবে ঘটল এবং কেন দুর্ঘটনা হল তা রেল বোর্ডের তদন্তের পরই নিশ্চিত করে জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে এটি একটি মানবিক ত্রুটি বলে মনে হচ্ছে। অর্থাৎ চালকের ভুলেই এই দুর্ঘটনা হতে পারে। বা সিগন্যালিংয়ের ভুলেই তা ঘটতে পারে।
১৯৯৫ সালে উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদে একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেও তিনটি ট্রেনের সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই দুর্ঘটনায় প্রায় ৩৫০ জন নিহত হন। উদ্ধার অভিযান তিন দিন ধরে চলে। আর এবারা বালেশ্বরের দুর্ঘটনাও একইরকম ভয়াবহ।












Click it and Unblock the Notifications