Coromandel Express accident: ‘কবচ’ তত্ত্ব সার! মিলল না সুরক্ষা, মোদীর মন্ত্রীকে পাশে নিয়ে রেলের ‘সহজপাঠ’ মমতার
ওড়িশার বালেশ্বরে কলমণ্ডল এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনায় রক্ষা কবচ ফর্মুলাও ফেল করেছে। কারণ এই করমণ্ডল এক্সপ্রেসে 'কবচ ছিল না। সেই কারণেই ঘটে গিয়েছে শতাব্দীর সবথেকেবড় দুর্ঘটনা। যার খেসারত দিতে হয়েছে হাজার মানুষকে। প্রাণ চলে গিয়েছে তিন শতাধিক। আর মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন শত শত মানুষ।
শনিবার ঘটনাস্থল সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রীকে পাশে দাঁড় করিয়েই তিনি পড়ালেন 'রেলের সহজপাঠ'। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, কিছু একটা ঘটেছে। তা না হলে এত ঘটা করে কবচের ব্যবস্থা সত্ত্বেও কেন কবচ রইল না করমণ্ডল এক্সপ্রেসে। কেন মানুষের প্রাণ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হল?

ট্রেনে কবচ থাকার অর্থ, একই ট্র্যাকে দুটো ট্রেন এলেই তা থমকে যাবে। শুধু মুখোমুখি নয়, একই ট্র্যাকে থাকলেই ট্রেন আর চলবে না। অটোমেটিক ট্রেন বন্ধ হয়ে যাবে নয়া প্রযুক্তিতে। কিন্তু একই ট্র্যাকে চলে আসার পরও করমণ্ডল এক্সপ্রেস থকে যায়নি। তা ঘণ্টায় ১২৭ কিলোমিটার বেগে একই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়িকে ধাক্কা মেরে লাইনচ্যুত হয়ে হিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করমণ্ডল এক্সপ্রেসে যদি কবচ থাকত, তবে এ যাত্রায় রক্ষা পেতেন যাত্রীরা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। আস্ত কবচই 'হরণ' হয়ে গিয়েছিল করমণ্ডল থেকে। যার ফলে করমণ্ডল এক্সপ্রেস মৃত্যুমণ্ডল হয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল কেন করমণ্ডলে কবচ পদ্ধতি চালু হয়নি? আর সেই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন খোদ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অ্যান্টি কলিশন ডিভাইস সংঘর্ষ রোধে সহায়ক। একই ট্র্যাকে ট্রেন থাকলেই তা সতর্ক করে দেবে। ফলে মুখোমুখি বা সামনে থাকা ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা এড়াতে পারবে কোনো দ্রুতগামী ট্রেন। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের দেড় হাজার রুটে এই পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে চালু হয়েছে বলে জানানোর পরও কেন করমণ্ডলের ক্ষেত্রে তা ছিল না, সেই প্রশ্ন উঠে পড়েছে।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব দাবি করেছিলেন, এই কবচ প্রযুক্তি ব্যবহারে ১০ হাজার বছরে এক বার দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকবে। এত জনপ্রিয় প্রযুক্তি তাহলে কেন করমণ্ডলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনে ব্যবহার করা হল না, সেই প্রশ্ন এড়াতে পারছেন না রেলমন্ত্রী। এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে পাশে নিয়েই এই প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন।

গত বছরে জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির দোমহনিতে দুর্ঘটনায় পড়ে আপ বিকানের-গয়াহাটি এক্সপ্রেস। লাইনচ্যুত হয় ৮টি কামরা। এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৯ যাত্রী। তারপর রেলমন্ত্রী ময়নাগুড়ি হিয়েছিল উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের পর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সমন্বিত কবচ পদ্ধতি প্রয়োগের পরিকল্পনা নেন।
দেশের তিন হাজার কিলোমিটার রেলপথে পর্যায়ক্রমে ওই ব্যবস্থা চালু আছে। কিন্তু এই অটোমেটেড ট্রেন প্রোটেকশন সিস্টেম প্রয়োগই হল না করমণ্ডল এক্সপ্রেসের রুটে। ঘটে গেল শতাব্দীর সবথেকে বড় ট্রেন দুর্ঘটনা। তাহলেই কি যে দাবি করা হয়েছিল, তা যথার্থ ছিল না!












Click it and Unblock the Notifications