নানা অজুহাতে প্যারোলে জেলের বাইরে থাকতেন বিলকিস বানো মামলার দোষীরা, উঠছে সাক্ষীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ
নানা অজুহাতে প্যারোলে জেলের বাইরে থাকতেন বিলকিস বানো মামলার দোষীরা, উঠছে সাক্ষীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ
কখনও ঘরোয়া অনুষ্ঠান তো কখনও ছেলের বিয়ে, আবার কখনও মায়ের হাঁটু প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারের কারণ দেখিয়ে বিলকিস বানো মামলায় দোষী ১১ জন একাধিকবার প্যারোলের আবেদন করেছে। তারা লম্বা সময়ের জন্য জেলের বাইরে থেকেছেন। সেই সময় সাক্ষীদের হুমকি দিত দোষীরা বলে অভিযোগ উঠছে। আইনজীবী জানিয়েছেন, দোষীরা ঘন ঘন প্যারোলের আবেদন করতেন। গুজরাত সরকার বিলকিস বানো গণধর্ষণ ও খুনের মামলায় দোষী ১১ জনকে ক্ষমা প্রদর্শন করেছে। ১৫ অগস্ট তারা জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

ঘরোয়া অনুষ্ঠানের জন্য তিন মাসের প্যারোলের আবেদন
বিলকিস বানো মামলার অন্যতম দোষী রাধেশাম শাহ চলতি বছর এপ্রিলে ২৮ দিনের একটি প্যারোলের আবেদন করেছিলেন। সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, ঘরোয়া একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই প্যারোলে মুক্তি পেতে চায়। যদিও গুজরাত আদালত তার আবেদন অস্বীকার করে। বিচারপতি এএস সুপেহিয়া বলেন, প্যারোলের জন্য যে আবেদনটি করা হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, রাধেশ্যাম শাহ ইতিমধ্যে তিন মাস প্যারোলে জেলের বাইরে ছিল। সেই সময় একই ধরনের অজুহাত দেখানো হয়েছিল। আদালত উল্লেখ করে চলতি বছর ২৯ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আদালতে মামলা চলার সময় রাধেশ্যাম শাহ তিন মাসের জামিনের আবেদন করেছিলেন। ২০১১ সালে মায়ের হাঁটু প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারের কারণ দেখিয়ে তিনি জামিনের আবেদন করেছিলেন। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি ভিএম কানাডে ও এএম থিপসের একটি ভিডিশনাল বেঞ্চ এই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।

ছয় মাসের জন্য প্যারোলে মুক্ত ছিল দোষী
শুধু রাধেশ্যাম শাহ নয়, আরও দোষীরা লম্বা সময়ের জন্য প্যারোলে জেলের বাইরে ছিলেন। ২০১৯ সালের মে মাসে বিলকিস বানো মামলার অন্যতম দোষী কেশর ভোহানিয়ার ছেলের বিয়ের জন্য প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু গুজরাত হাইকোর্টের বিচারপতি উমেশ ত্রিবেদি সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। গুজরাত হাইকোর্টের তরফে জানানো হয়, কেশর ভোয়ানিয়ার ২০১৮ সালের অগস্ট থেকে ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত ৯০ দিনের প্যারোলে বাইরে ছিল। সেই কারণে মে মাসে ফের প্যারলে মুক্তি দেওয়া যাবে না।

সাক্ষীদের হুমকির অভিযোগ
বিলকিস বানো মামলার অন্যতম সাক্ষী আবদুল রজ্জাক মনসুরির ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুজরাতের তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদীপপ্রতাপ সিং জাদেজার কাছে একটি স্মারকলিপি ও অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, বিলকিস বানো মামলার দোষীরা প্যারলে বাইরে থাকার সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। তারা ব্যবসা করছে। সম্পত্তি তৈরি করছে। দোষীরা প্যারোলে মুক্তির পর ক্রমাগত সাক্ষীদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। যাঁরা আইনত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছে, তাদের ভয়ে সাক্ষীদের গুটিয়ে থাকতে হচ্ছে। তিনি অন্যতম দোষী শৈলেশ ভাটের কথা উল্লেখ করেছিলেন। অভিযোগে মনসুরি বলেছিলেন, শৈলেশ ভাট প্যারোলে মুক্ত থাকার সময় বিজেপির একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিল। সেখানে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নিয়েছিল। প্যারোলে থাকার সময় তিনি বিলকিস বানো মামলার সাক্ষীদের হুমকি দিয়েছিলেন বলে মনসুরি অভিযোগ করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications