অভিনব প্রাণভিক্ষার আর্জি নির্ভয়াকাণ্ডে সাজাপ্রাপ্তের
দিল্লির হাওয়া-পানি এমনিই প্রাণঘাতী, তাহলে মৃত্যুদণ্ড কেন? প্রশ্ন তুলে প্রাণভিক্ষার আর্জি নির্ভয়াকাণ্ডে সাজাপ্রাপ্তের
২০১২ সালে দিল্লির নির্ভয়া ধর্ষণ ও খুন মামলায় সাজাপ্রাপ্তের অভিনব প্রাণভিক্ষার আবেদন। নিজের প্রাণভিক্ষার আবেদনে অক্ষয় কুমার সিং নামক দোষী বলেন, 'দিল্লির বাতাস ও জল এমনিতেই এত দূষিত যে এমনিতেই তার আয়ু কমে যাচ্ছে। এই ক্ষেত্রে আমার প্রণদণ্ড অর্থহীন।'

সুপ্রিমকোর্টে জমা আবেদন
সুপ্রিমকোর্টে জমা করা এক রিভিউ পিটিশনে দিল্লির বায়ুদূষণের দোহাই দিয়ে এভাবেই প্রাণভিক্ষা চাইল অক্ষয়। তার হয়ে এই আবেদনটি জমা করে তার আইজীবী এপি সং আরও দাবি করেন, ঘটনার সময় দিল্লিতে উপস্থিতও ছিল না অক্ষয়। এপি সিংয়ের অভিযোগ, এই মামলায় দোষীসাব্যস্ত রাম সিংয়ের জেলে মৃত্যু হওয়াটা আদতে খুন ছিল, সেটা আত্মহত্যা নয়।

ফাঁসির প্রস্তুতি
এদিকে সূত্রের খবর, বিহারের বক্সার জেলের কাছে ইতিমধ্যেই নির্দেশ এসে গিয়েছে , যে তারা যেন ফাঁসির দড়ি আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রস্তুত করে ফেলে। যদিও সেই খবর নস্যাৎ করছে তিহার কর্তৃপক্ষ। সূত্রের দাবি, আপাতত ১০ দড়ি প্রস্তুতির নির্দেশ এসেছে। আর এবার তিহার জেল সূত্রেও এমনই ইঙ্গিত মিলছে নির্ভয়া গণধর্ষণ মামলা ঘিরে । ধীরে ধীরে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য , ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ২০১২ সালের যেদিন নির্ভয়ার গণধর্ষণ হয়েছিল দিল্লির রাস্তায়, সেদিনই ২০১৯ সালে দোষীদের মৃত্যুদণ্ড লাগু হতে পারে। এমনই জল্পনা তুঙ্গে।

ফাঁসুড়ের খোঁজের প্রক্রিয়া শুরু
তিহার জেল সূত্রের খবর ইতিমধ্যেই তারা ঘরোয়া প্রক্রিয়া শুরু করেছেন ফাঁসুড়ের খোঁজে। তবে যতক্ষণ না পর্যন্ত এবিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সম্মতি মিলছে ততক্ষণ নির্ভয়া দোষীদের নিয়ে কোনও কথা বলতে রাজি নয় জেল কর্তৃপক্ষ। তিহারের অন্দরে জেল নং ৩ -এ রয়েছে একটি ফাঁসির চেম্বার। আর সেই চেম্বার সর্বদাই প্রস্তুত থাকে বলে জানিয়ে দিয়েছে দেশের অন্যতম বড় জেল তিহার কর্তৃপক্ষ। আর সেই গোপন চেম্বার ঘিরে তিহার জেল কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে সূত্রের দাবি।

নির্ভয়া কাণ্ড
২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে রাজধানী দিল্লির রাস্তায় একটি বাসের মধ্যে ২৩ বছরের প্যারামেডিক্যাল ছাত্রীকে নির্মমভাবে গণধর্ষণ করা হয়। যৌনাঙ্গে রড ঢুকিয়ে চলে নারকীয় অত্যাচার। ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে ৭ বছর ধরে গড়ায় মামলা। ২০১৯ আরও এক টা ১৬ ডিসেম্বর দেখতে চলেছে।

অপর দোষী বিনয়ও আবেদন জানিয়েছিল
এদিকে নির্ভয়া কাণ্ডে দোষী ধর্ষণকারী বিনয় শর্মার ক্ষমাপ্রার্থনার আবেদন খারিজ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এর আগে এই একই আবেদন জানিয়ে দিল্লি সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিল দোষী সাব্যস্ত। দিল্লি সরকারও সেই আবেদন খারিজ করে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠিয়ে দেয়। এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও একই পথে হেঁটে আবেদনটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেয়। এরপর একদিন আগে রাষ্ট্রপতি থেকে সেই আবেদন প্রত্যাহার করার আবেদন করে বিনয়।












Click it and Unblock the Notifications