নিয়োগের পরই জেএনইউ–এর প্রথম মহিলা উপাচার্যের টুইট ঘিরে বিতর্ক
জেএনইউ–এর প্রথম মহিলা উপাচার্যের টুইট ঘিরে বিতর্ক
এই প্রথমবার দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় পেল মহিলা উপাচার্য। জেএনইউতে উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে অধ্যাপিকা শান্তিশ্রী ধুলিপুড়ি পণ্ডিতকে। তাঁর নিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে উঠে এসেছে আরও একটি বিতর্ক। ৫৯ বছরের মহিলা উপাচার্যের শান্তশ্রীডি নামের টুইটার হ্যান্ডেলের এক টুইটকে ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। যেখানে মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে, পাশাপাশি বিজেপির বিরোধী, সংখ্যালঘু ও কৃষক সংগঠনগুলির সমালোচনা করে তীক্ষ্ণ টুইট করা হয়েছে।

পরে এই টুইটার হ্যান্ডেল থেকে টুইটটি মুছে দেওয়া হলেও এই বিষাক্ত টুইটের স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে। একটি টুইটে যেখানে কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধীকে 'ইতালির রিমোট কন্ট্রোল’ বলা হয়েছে, আবার অন্য টুইটে সংখ্যালঘুদের কটাক্ষ করে বলা হয়েছে 'অমুসলিমরা জেগে উঠুন এবার লাভ জিহাদের নাম করে অন্য সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে।’ কিছু টুইটে জেএনইউ, জামিয়া এবং সেন্ট স্টিফেন কলেজকে কটাক্ষ করে এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে অর্থায়ন নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উপাচার্য নিয়োগের তীব্র সমালোচনা করে তৃণমূলের মুখপাত্র সকেত গোখলে টুইটে বলেছেন, 'জেএনইউয়ের নতুন উপাচার্য খ্রিষ্টানদের ভাতের থলে ধর্মান্তরিত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি এখন ভারতের অভিজাত লিবারেল আর্ট ইউনিভার্সিটির প্রধান হবেন। জেএনইউতে খ্রিষ্টান পড়ুয়াদের সঙ্গে এভাবেই আচরণ করা হবে কিনা এবং এটি ভারতীয় সরকারের নীতি হলে শিক্ষামন্ত্রীকে এটা স্পষ্ট করা উচিত।’
বর্তমানে মহারাষ্ট্রের সাবিত্রী ফুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান শাখার অধ্যাপিকা শান্তিশ্রী পণ্ডিত। তিনি অধ্যাপক হিসাবে রয়েছেন,পলিটিক্স ও পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে। উল্লেখ্য, ৫৯ বছর বয়সী অধ্যাপক শান্তিশ্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ও পিএইচডি করেছেন ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস-এ। তিনি পাঁচ বছরের জন্য জেএনইউয়ের উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ হয়েছেন। এর আগে জেএনইউতে উপাচার্য পদে ছিলেন এম জগদেশ কুমার। সেই সময়কালে বহু কারণে খবরের শিরোনাম কাড়ে জেএনইউ। তাঁর উত্তরসূরি শান্তিশ্রী পণ্ডিতের যোগদানের খবরে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ওই অধ্যাপিকাকে অভিনন্দন জানেন বর্তমান উপাচার্য জগদেশ কুমার। রাশিয়াতে জন্ম হলেও পণ্ডিত তাঁর স্কুলের পড়াশোনা শেষ করেন চেন্নাইতে। তিনি চেন্নাইয়ের প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯৮৩ সালে ইতিহাস ও সোশ্যাল সাইকোলজিতে স্নাতক হন এবং প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণ পদক পান। তিনি একই কলেজ থেকে সনাতকোত্তর হন এবং সেই সময় তিনি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। তেলেগু, তামিল ও সংস্কৃত সহ তিনি ৬টি ভাষায় কথা বলতে পটু। জেএনইউতে তাঁর নিয়োগের পরই তিনি জানিয়েছিলেন যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিকে শ্রেষ্ঠ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় মনোযোগ দেবেন এবং জাতীয় শিক্ষা নীতি বাস্তবায়নের জন্য একটি লিঙ্গ-সংবেদনশীল পরিবেশ প্রদান করা হবে।












Click it and Unblock the Notifications