ডিজিটাল তথ্য সুরক্ষা আইন নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন, কেন্দ্রকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের
সংসদে পাস হওয়ার তিন বছর পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ২০২৩ সালের ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন। এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একাধিক আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে মতামত চেয়ে নোটিস জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি। তাঁরা জানিয়েছেন, আইনের কয়েকটি ধারা সাংবিধানিকভাবে কতটা সঙ্গত, তা বিশদে খতিয়ে দেখা হবে। তবে আবেদনকারীদের আর্জি সত্ত্বেও আপাতত আইন কিংবা তার ভিত্তিতে জারি হওয়া বিধির উপর স্থগিতাদেশ দিতে রাজি হয়নি আদালত।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বিতীয় মেয়াদে ২০২৩ সালের অগাস্ট মাসে বিরোধীদের আপত্তি উপেক্ষা করেই সংসদে পাস হয় এই বিল। কেন্দ্রের দাবি, ডিজিটাল যুগে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা, তথ্যের অপব্যবহার রোধ ও ভুয়ো কল ও প্রতারণামূলক বার্তা বন্ধ করতেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
তবে বিরোধীদের অভিযোগ, আইনটির বেশ কিছু দিক অস্পষ্ট। বিশেষ করে তথ্য পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারের ক্ষমতার সীমা ও প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে নির্ধারিত নয়। আরও বড় প্রশ্ন উঠেছে সরকারি সংস্থাগুলিকে দেওয়া ছাড় নিয়ে। অভিযোগ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি থাকলেও সরকারি সংস্থাগুলির হাতে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের ব্যাপক ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে তথ্যের গোপনীয়তার আড়ালে তথ্য জানার অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেই দাবি আবেদনকারীদের।
আইনে একটি তথ্য সুরক্ষা পর্ষদ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যা ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস বা গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচার করবে। কিন্তু বিরোধীদের মতে, ওই পর্ষদে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের প্রাধান্য থাকলে তার নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি, সরকারি স্তর থেকে কারও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হলে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিক কীভাবে প্রতিকার পাবেন, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার শুনানির সময় আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, বিষয়টি অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল। এখানে মূলত দুটি মৌলিক অধিকারের তথ্য জানার অধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে।
এই মামলায় আবেদন করেছে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম দ্য রিপোর্টার্স কালেক্টিভ, সাংবাদিক নিতিন শেঠি ও ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর পিপলস রাইট টু ইনফরমেশন এর পক্ষে ভেঙ্কটেশ নায়ক। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে আবেদনগুলি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
ডিজিটাল পরিসরে নাগরিকের গোপনীয়তা বনাম স্বচ্ছতার অধিকার এই দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত মীমাংসার দিকে এখন তাকিয়ে দেশ।
-
আরও একটি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন, আর কত নাম নিষ্পত্তি হওয়া বাকি? -
বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী -
ভোটের আগেই কমিশনের কড়া নির্দেশ! অনুমতি ছাড়া জমায়েত নয়, নিয়ম ভাঙলেই গ্রেফতার, রাজ্যজুড়ে জারি কঠোর নির্দেশ -
দাগি নেতাদের নিরাপত্তা কাটছাঁট কতটা মানল পুলিশ? স্টেটাস রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন -
যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই বড় রদবদল! মার্কিন সেনা প্রধানকে সরাল ট্রাম্প প্রশাসন, কারণ কী, জল্পনা তুঙ্গে -
আরও একটি মার্কিন F-35 যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের, কী বলছে আমেরিকা? -
এপ্রিলে শক্তিশালী ত্রিগ্রহী যোগ, শনি-সূর্য-মঙ্গলের বিরল মিলনে কাদের থাকতে হবে সতর্ক? -
এপ্রিলেই বাড়ছে গরমের দাপট! আগামী সপ্তাহেই ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার আশঙ্কা, কী জানাচ্ছে হাওয়া অফিস -
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব! শিল্পে ধাক্কা, একলাফে বাড়ল ডিজেলের দাম, কত হল? জানুন -
পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ভোটের আগে তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতাকে ইডির তলব -
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ! MRI Scan-এর খরচ আকাশছোঁয়া হতে পারে, বিপাকে পড়তে পারেন রোগীরা -
অমিত শাহের রাজ্যে থাকার ঘোষণায় তীব্র কটাক্ষ মমতার, বললেন, যত বেশি থাকবে, তত ভোট কমবে












Click it and Unblock the Notifications