লোকসভা ভোটের লড়াইয়ে কংগ্রেস নিম্নগামী! একনজরে ভোটের ইতিহাসে বিজেপির সঙ্গে সংখ্যাতাত্ত্বিক তুলনা
Lok Sabha Election 2024: লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ইন্ডিয়া ব্লকের শরিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে কংগ্রেস। তবে কোনও রাজ্য থেকে এখনও পরিষ্কার কোনও সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি। যেমন বিহারে চূড়ান্ত কোনও ঘোষণা না হলেও জেডিইউ ও আরজেডি ১৬ টি করে আসন দাবি করেছে। বাকি আট আসনের পাঁচটি কংগ্রেস ও তিনটি বামেদের জন্য ধার্য করা হয়েছে। সেখানে সিপিআই তিনটি আর সিপিআইএমএল পাঁচটি আসনের দাবি করেছে।
অন্য রাজ্যগুলির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল জানিয়েছে, তারা কংগ্রেসকে দুটির বেশি আসন ছাড়বে না। সমাজবাদী পার্টি উত্তর প্রদেশে আশিটির মধ্যে ৬৫ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে জানিয়েছে। তারা ১৫ টি আসন রাখতে চাইছে কংগ্রেস ছাড়াও রাষ্ট্রীয় লোকদলের জন্য। মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ইউবিটি ২৩ টি আসনে লড়াই করতে চাইছে। বাকি ২৫ টি আসন তারা রাখতে চাইছে কংগ্রেস ও এনসিপির জন্য।

এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস অবশ্য ইন্ডিয়া ব্লকের শরিকদের প্রতি কিছুটা নরম বলেই মনে হচ্ছে। কংগ্রেসের তরফে ইন্ডিয়া ব্লকের শরিকদের সঙ্গে আলোচনার জন্য অশোক গেহলট, ভূপেশ বাঘেল, মুকুল ওয়াসনিক, সলমন খুরশিদ ও মোহন প্রকাশকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের জোট কমিটি তৈরি করেছে। তাঁরাই আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কংগ্রেসের তরফে প্রতিটি লোকসভা আসনকে মূল্যায়ন করতে সমন্বয়কারী নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
এরই মধ্যে সভাপতি খাড়গে জানিয়েছিলেন, কংগ্রেস এবার ২৫৫ টি আসনে মনোনিবেশ করছে। তাহলে কি কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত ২৫৫ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যদি তাই হয়, তাহলে তা হবে স্বাধীনতার পর থেকে লড়াই করা সব থেকে কম আসন। কারণ এখনও পর্যন্ত ১৯৫১ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১৭ টি লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস গড়ে ৪৭৮ টি আসনে লড়াই করেছে।
কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত ২০০৪ সালে সব থেকে কম আসনে লড়াই করেছে। সেই বছর বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে সরাতে কংগ্রেস ৪১৭ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। ১৯৯১ থেকে পিভি নরসীমা রাওয়ের নেতৃত্বে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পরে ১৯৯৬ সালে কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত সব থেকে বেশি ৫২৯ টি আসনে লড়াই করেছিল। আর ২০১৪ ও ২০১৯-এ কংগ্রেস লড়াই করেছিল যথাক্রমে ৪৬৪ ও ৪২১ টি আসনে।
অন্যদিকে বিজেপি ১৯৮৪ সালে ২২৯ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটি আসনে জয় পেয়েছিল। সেই বছরই তাদের প্রথম প্রকাশ। ১৯৯১ সাল থেকে তারা ৩০০ টির কম আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি। আর ২০১৯-এ তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৪৩৬ টি আসনে।
একদিকে যখন কংগ্রেসের লড়াই করা ও জয়ী আসনের স্ট্রাইক রেট কমেছে, সেখানে বিজেপির ক্ষেত্রে তা বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৫১ ও ১৯৫৭ সালে স্ট্রাইক রেট ছিল ৭৫ শতাংশ। মধ্যে তা কমে যায়। তবে ১৯৮৪ সালে তা পৌঁছে গিয়েছিল ৮০ শতাংশে। তারপর থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সেই স্ট্রাইক রেট কখনই ২৫ শতাংশের নিচে নামেনি। ২০১৪ সালে সেই স্ট্রাইক রেট ৯.৪৮ শতাংশে নেমে আসে, যা এখনও পর্যন্ত সব থেকে কম। ২০১৯-এ তা বেড়ে ১২.৩৫ শতাংশ হয়। অন্যদিকে, ১৯৮৪ সালে যেখানে বিজেপির স্ট্রাইক রেট ছিল ০.৮৭ শতাংশ, সেখানে ২০১৯-এ তা বেড়ে হয়েছিল ৬৯.৫ শতাংশ।
কংগ্রেস যদি এবার শেষ পর্যন্ত ২৫৫ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, এবং ইন্ডিয়া ব্লকের বাকি ২৭ শরিকের জন্য ২৮৮ টি আসন ছেড়ে দেয়, তাহলে ২০১৯-এর নির্বাচনের থেকে তাদের স্ট্রাইক রেট ব্যাপকভাবে উন্নত করতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications