ওয়াকফ বিলের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাবে কংগ্রেস, হুঁশিয়ারি জয়রাম রমেশের
এবার ওয়াকফ সংশোধনী বিলের সাংবিধানিকতাকে শীঘ্রই চ্যালেঞ্জ জানাতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে চলেছে দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। শুক্রবার কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য তথা সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এমনটাই ঘোষণা করেন। তিনি জানান, খুব শীঘ্রই কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টে এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে আর্জি জানাতে চলেছে।
শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে জয়রাম রমেশ জানান, "কংগ্রেস খুব শীঘ্রই ওয়াকফ সংশোধনী বিলের সাংবিধানিকতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানাবে। ভারতের সংবিধানে বর্ণিত যাবতীয় আদর্শ বিধি ও সাংবিধানিক নীতি পালনের যা কিছু আছে মোদি সরকার তার ওপর আঘাত হানছে। তবে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী এবং দৃঢ় বিশ্বাসী, এই আঘাতকে আমরা প্রতিহত করতে পারবই।"

এই বিলের বিরুদ্ধে জয়রাম রামেশ আরও জানিয়েছেন, তথ্য জানার অধিকার আইন, সুপ্রিম কোর্টে ২০০৫ এর ২০১৯ সালের সংশোধনী নিয়ে কংগ্রেসের চ্যালেঞ্জের শুনানি এখনও চলছে। ২০২৪ সালে নির্বাচনী বিধি সংস্কারের বৈধতা নিয়েও সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নাড়ে কংগ্রেস। এরপর ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়েও ফের শীর্ষ আদালতে দরজায় যেতে চলেছে কংগ্রেস।
রাজ্যসভায় ১২৮ জন সদস্যের পক্ষে ভোট পড়ে, অন্যদিকে ৯৫ জন এর বিরোধিতা করে বিলটি পাস হয়। বৃহস্পতিবার লোকসভায় এটি পাস হয়, যেখানে ২৩২ জন ভিন্নমত পোষণ করে ২৩৮ জন সমর্থন করে ২৮৮ ভোটে এটি পাস হয়। বিলটি ১৯৯৫ সালের আইন সংশোধন এবং ভারতে ওয়াকফ সম্পত্তির প্রশাসন এবং ব্যবস্থাপনা উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংসদে ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাশের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই বিলটি ভারতের আর্থ-সামাজিক ন্যায় বিচার, স্বচ্ছতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি "অভূতপূর্ব মুহূর্ত"। প্রধানমন্ত্রী জানান, "এতদিন যারা প্রান্তিক এবং বঞ্চিত ছিলেন, ওয়াকফ সংক্রান্ত নতুন আইন তাদের সাহায্য করবে।" এই বিল নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটিকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেওয়ার জন্য সাংসদ এবং সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
তিনি লেখেন, "বিস্তারিত আলোচনা এবং বিতর্কে প্রয়োজনীয়তা আরো একবার প্রমাণিত হল। বহু দশক ধরে ওয়াকফ ব্যবস্থা আর স্বচ্ছতার অভাব কার্যত সমর্থক ছিল। যার কারণে মুসলমান মহিলা, গরীব মুসলমান এবং পসমন্দা মুসলমানদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে সংসদে পাস হওয়া এই বিল স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে এবং মানুষের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।"
অন্যদিকে বিতর্কিত ওয়াকফ বিলকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলার যাতে কোনও বিঘ্ন না ঘটে, তাই দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির সংবেদনশীল এলাকা, জামিয়া নগর এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আধা সামরিক বাহিনী সমর্থিত দিল্লি পুলিশ সমাজ বিরোধীদের দ্বারা সম্ভাব্য অস্থিরতা প্রতিরোধ করার জন্য একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications