কংগ্রেসের টার্গেট বিজেপির লিঙ্গায়েত ভোটব্যাঙ্ক! কর্নাটক নির্বাচন জয়ের পরিকল্পনায় মাস্টারস্ট্রোক
কর্নাটক রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে লিঙ্গায়েতদের। আর এই লিঙ্গায়েত ভোটে বরাবর প্রাধান্য দেখিয়ে এসেছে বিজেপি। তারা ঐতিহ্যগতভাবে বিজেপিকে ভোট দিয়ে আসছে বলে মনে করা হয় কর্নাটকের রাজনীতিতে। এবার কিন্তু সেই লিঙ্গায়েত ভোট থাবা বসাতে চলেছে কংগ্রেস।

লিঙ্গায়েত ভোটে ভরসা কংগ্রেসের
বিজেপির অন্তকর্লহের সুয়োগ নিয়ে কংগ্রেস এবার তাদের প্রার্থীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে লিঙ্গায়েতদের একটা বড় অংশকে। কংগ্রেস ২২৪ সদস্যের বিধানসভায় কমপক্ষে ১৫০টি আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পনা সাজিয়েছে। সেখানে এবার লিঙ্গায়েত ভোটে কংগ্রেস অ্যাডভান্টেজ নিতে চাইছে।

১৭ শতাংশ লিঙ্গায়ত এবং বীরশৈবকে টার্গেট
কর্নাটকের জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ লিঙ্গায়ত এবং বীরশৈব। কর্নাটকের অন্তত ১০০টি আসনে লিঙ্গায়ত বা বীরশৈবদের প্রভাব রয়েছে। ২২৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১০০টি কেন্দ্রে লিঙ্গায়ত বা বীরশৈবরা নির্ধারক। আর এই কেন্দ্রগুলির বেশিরভাগই উত্তর কর্নাটকে। কর্নাটকে এই সম্প্রদায় থেকে ন'জন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।

লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে ২৮ জন প্রার্থী
আসন্ন কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এবার প্রার্থী তালিকায় মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে ২৮ জনকে প্রার্থী করে। লিঙ্গায়েতদেরই তুরুপের তাস করে এবার বাজি জিততে চাইছে কংগ্রেস। একেবারে অঙ্ক কষে তারা এবার এগোচ্ছে। সেই অঙ্ক মেলাতে পারলেই সাফল্য ধরা দেবে বলে করছে প্রদেশ কংগ্রেস।

২২ জন ভোক্কালিগা প্রার্থীও করেছে কংগ্রেস
কর্নাটক নির্বাচনে প্রথম দফার তালিকায় প্রার্থী করা হয়েছে সাতজন পঞ্চমশালী লিঙ্গায়েত সদস্য, পাঁচজন রেড্ডি লিঙ্গায়ত সদস্য, তিনজন সদর লিঙ্গায়ত, তিনজন বীরশৈব লিঙ্গায়ত, চার জন অন্যান্য লিঙ্গায়ত, তিনজন বানজিগা লিঙ্গায়ত, দুই গণিগা লিঙ্গায়ত এবং একজন নোনাবা লিঙ্গায়েত সদস্য। এছাড়াও ২২ জন ভোক্কালিগা প্রার্থীও হয়েছেন।

লিঙ্গায়েতবাদকে এবার আঁকড়ে ধরেছে কংগ্রেস
এখানে উল্লেখ্য, লিঙ্গায়তবাদের প্রতিষ্ঠা এই কর্নাটক থেকে। দ্বাদশ শতাব্দীর একজন দার্শনিক, কবি এবং সমাজ সংস্কারক বাসভন্নকে মূলত লিঙ্গায়তবাদের প্রতিষ্ঠাতা বলে মনে করা হয়। লিঙ্গায়েতরা শিবের উপাসক। বাসভন্নের লিঙ্গায়তবাদ ভক্তি আন্দোলনের সময় বৃদ্ধি পেয়েছিল বর্ণ শ্রেণিবিন্যাস। উপনয়নের মতো হিন্দু আচার-অনুষ্ঠান বা পৈতে পরার বিরোধী ছিলেন এঁরা।

বীরশৈবদের ভোটকেও টার্গেট কংগ্রেসের
আর বীরশৈবরাও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কর্নাটকে। বীরশৈবরা শিবের উপাসক এবং তারা ছিলেন বাসভন্নের পূর্ববর্তী। বীরশৈবধর্মের উপাসকরা বেদ থেকে এসেছেন। এই সম্প্রদায়ের পাঁচটি পীঠ। তা হল-রামভপুরী, উজ্জয়িনী, কেদার, শ্রীশৈল এবং কাশী। বীরশৈবধর্মের অনুসারীরা মূলত কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও মহারাষ্ট্রে কেন্দ্রীভূত। এই দুই সম্প্রদায়ের ভোট এবার কংগ্রেসের দিকে যাবে বলেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত।

লিঙ্গায়ত ভোটারদের প্ররোচনা বিজেপির
লিঙ্গায়েতদের ধর্মীয় সংখ্যালঘু মর্যাদা দাবি করে আসছে দীর্ঘদিন। ২০১৮ সালে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করা হয়েছিল এই মর্মে। কিন্তু লিঙ্গায়েতদের ধর্মীয় সংখ্যালঘু মর্যাদা দেওয়া হবে। বিজেপি সরকার এখন মুসলমানদের জন্য ৪ শতাংশ ওবিসি সংরক্ষণ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে লিঙ্গায়ত ভোটারদের প্ররোচিত করা শুরু করেছে।
ছবি সৌ:পিটিআই












Click it and Unblock the Notifications