স্বস্তি পবন খেরার! মোদীকে নিয়ে 'অপমানসূচক' মন্তব্যের অভিযোগে গ্রেফতারের পরে আদালতে ধাক্কা অসম পুলিশের
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নির্দেশে পবন খেরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনটাই অভিযোগ করেছেন কংগ্রেসের অপর মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা।
দিল্লি বিমানবন্দরে বিমানে ওঠার সময় বাধা। তারপরেই দিল্লি পুলিশ গ্রেফতার করে কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরাকে। অসম পুলিশ দিল্লি পুলিশকে গ্রেফতারের অনুরোধ করে বলে জানা গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপমানসূচক মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। তবে কংগ্রেসের অভিযোগ অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নির্দেশেই এই গ্রেফতার। তবে দিনের শেষে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্বস্তি পান পবন খেরা।

স্লিপ অফ টাং
সম্প্রতি পবন খেরা এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি মোদীর পুরো নাম উল্লেখ করতে গিয়ে নরেন্দ্র গৌতমদাস মোদী বলে সম্বোধন করে। তবে সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সংশোধন করেন। কংগ্রেস দাবি করেছে, সেটা ছিল স্লিপ অফ টাং। পাল্টা কংগ্রেসের তরফে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূকথা বলার অভিযোগ করা হয়েছে। কংগ্রেস বলেছে, কেন এখন কেউ নেহরুর উপাধি ব্যবহার করেন না, বলে খারাপ কাজ করেছেন মোদী।
|
কংগ্রেসের নিশানায় অসমের মুখ্যমন্ত্রী
কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেছেন, পুলিশ কোনও ওয়ারেন্ট এবং এফআইআৎ ছাড়াই পবন খেরাকে গ্রেফতার করেছে। আর এই গ্রেফতার করা হয়েছে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নির্দেশে। হিমন্ত বিশ্বশর্মা কি ঈশ্বর, প্রশ্ন করেছেন সুরজেওয়ালা।
প্রসঙ্গত এদিন অন্য কংগ্রেসর নেতাদের সঙ্গে নিয়ে পবন খেরা নয়া দিল্লি থেকে রায়পুরগামী বিমানে চাপেন। কিন্তু পবন খেরাকে নেমে যেতে বলা হয়। বলা হয়, লাগেজে কিছু সমস্যার জন্য তাঁকে নামতে হবে। সেই সময় পবন খেরা বলেন, হাতের লাগেজ ছাড়া তার কাছে কোনও লাগেজ নেই। পরে পবন খেরাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

টারম্যাকে বিক্ষোভ
বিমান থেকে নেমে সব কংগ্রেস নেতারা বিক্ষোভ অবস্থান শুরু করেন। সেই সময় অবশ্য দিল্লি এবং অসম পুলিশ বিমানবন্দরে পৌঁছে গিয়েছিল। বিমানে দেরির কারণে অন্যযাত্রীদের নেমে যেতে বলা হয়। অন্য যাত্রীদের জন্য বিকল্প একটি বিমানের ব্যবস্থা করা হয়। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, অসম পুলিশের তরফে আইজি আইনশৃঙ্খলা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে, হাফলং থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা থাকায় পবন খেরাকে গ্রেফতার করতে দিল্লিতে গিয়েছেন আধিকারিকরা। পবন খেরাকে গ্রেফতার করতে দিল্লি পুলিশকে অনুরোধ করার কথাও জানিয়েছে অসম পুলিশ। স্থানীয় আদালতের অনুমতি নিয়ে পবন খেরাকে অসম নিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানানো হয় অসম পুলিশের তরফে।
|
পবন খেরাকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি
এদিকে পবন খেরাকে নিয়ে এদিন সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়। কংগ্রেস এবং পবন খেরার তরফে পবন খেরার বিরুদ্ধে এফআইআরগুলিকে একসঙ্গে করা এবং সুরক্ষার জন্য আবেদন করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে দিনের শেষে স্বস্তি পান পবন খেরা। অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের জন্য তাঁকে দিল্লির বিচারকের সামনে আবেদন করতে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনাতের প্রশ্ন, পবন খেরাটকে গ্রেফতারের কারণটা কী। এটা একটা দীর্ঘ যুদ্ধ, তারা লড়াই করতে প্রস্তুত বলেও জানান ওই নেত্রী।












Click it and Unblock the Notifications