'দিল্লিতে কেন্দ্রের অকর্মণ্যতা ঢাকতেই কি বিচারপতি এস মুরলিধরের বদলি?'
দিল্লির হিংসা নিয়ে বিচারপতি এস মুরলিধরের বাসভবনে মধ্যরাতে অভূতপূর্ব শুনানি হয় বৃহস্পতিবার। আর এরপরই আইন ও বিচারমন্ত্রক বদলি করল বিচারপতি এস মুরলিধরকে। তাঁকে দিল্লি হাইকোর্ট থেকে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। বদলির আগে বুধবার তিনি দিল্লির হিংসা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছিলেন। তাঁর এই বদলিতে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।

বিচারপতি বদল নিয়ে বিজেপিকে তোপ কংগ্রেসের
এই বিষয়ে কংগ্রেস নেতা মনীশ তিওয়ারি টুইট করে সরকারের প্রতি তাঁর ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি লেখেন, 'কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বিচারপতি মুরালিধরকে চণ্ডীগড়ে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে দিল্লিতে হিংসা নিয়ে তাঁর বাসভবনে মধ্যরাতের শুনানির পরই তাঁকে চলে যেতে বলা হল। সেই শুনানির ফলেই দিল্লিতে অনেক লোকের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। তবে কেন্দ্র ক্ষমতায় মত্ত হয়ে যা খুশি তাই করছে। কেন্দ্র কোনও কাজ করছে না দিল্লিকে শান্ত করতে।'

'বিচার বিভাগকে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে'
তিনি আরও লেখেন, 'দিল্লিতে কেন্দ্রের অকর্মণ্যতা ঢাকতেই কি বিচারপতি এস মুরলিধরের বদলি? দিল্লির হিংসার শুনানির মাঝেই এভাবে বিচারপতি এস মুরালিধরকে স্থানান্তর করে বিচার বিভাগকে ভয় দেখানোর অপরিশোধিত প্রচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা করা উচিত ভারতের প্রতিটি আইনজীবি এবং বিচারকদের।'

দিল্লি পুলিশের কড়া সমালোচনা করেছিলেন বিচারপতি মুরলিধর
এর আগে মধ্যরাতের শুনানিতে বিচারপতিদের বেঞ্চ নির্দেশ দেয যে দিল্লি হিংসায় জখমদের জিটিবি বা আশেপাশের অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হবে, তাদের চিকিৎসার জন্য তা জরুরি। দিল্লিতে শান্তির ফেরানোর দাবিতে এবং আহতদের সুচিকিৎসার দাবিতে কনসার্ন সিটিজেন ফর পিস আবেদন জানিয়েছিল হাইকোর্টে। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই এই শুনানি হয়েছিল। দিল্লির হিংসা নিয়ে শুনানিতে বিচারপতি এস মুরলিধর দিল্লি পুলিশের কাজ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছিলেন। উস্কানিমূলক বক্তৃতা দেওয়া হলেও, কেন অভিযুক্ত বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।

বিচারপতির বদলি নিয়ে কেন্দ্রের বক্তব্য
এদিকে আইন ও বিচারমন্ত্রকের নির্দেশিকার বলা হয়েছে, সংবিধানের ২২২ নম্বর ধারা অনুসারে রাষ্ট্রপতি দেশের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনার পরে বিচারপতি এস মুরলিধরকে দিল্লি হাইকোর্ট থেকে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলি করেছেন। আরও জানানো হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম বিচারপতি এস মুরলিধরকে দিল্লি হাইকোর্ট থেকে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলির সুপারিশ করা হয়েছিল।

কড়া রায় দেওয়ার জন্য পরিচিত বিচারপতি মুরলীধর
এর আগেও বিচারের সময় তাঁকে কড়া নির্দেশ দিতে দেখা গিয়েছিল। ১৯৮৭ সালে উত্তর প্রদেশে গণহত্যার ঘটনায় কড়া নির্দেশ উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি ১৯৮৪ সালে দিল্লিতে শিখ দাঙ্গার ঘটনায় কংগ্রেস নেতা সজ্জনকুমারকে হাজতবাসের নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন। বিরোধীদের অভিযোগ সরকারের অকর্মণ্যতা ঢাকতেই এই নির্দেশিকা জারি করে বদলি করা হল তাঁকে।












Click it and Unblock the Notifications