'কংগ্রেস মুক্ত ভারত' এর স্বপ্ন বিফলে, উল্টে মান বাঁচানোর লড়াইয়ে বিজেপি
কংগ্রেস মুক্ত ভারত স্লোগান তৈরি করে ফেলেছিল বিজেপি নেতৃত্ব। তবে তা আর খাটছে না।
শুরুটা হয়েছিল ২০১৩ সাল থেকে। এই ছত্তিশগড়. মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানে জিতে বিজেপি সরকার গঠন করে। এরপরে ২০১৪ সালের নরেন্দ্র মোদী ঝড়ে কেন্দ্র দখলের পরবর্তীতে বিহার ও বাংলা বাদে যে কটি রাজ্যে ভোট হয়েছে, বিজেপি সেখানে দারুণ ফল করেছে। আর না হয় সরকার গঠন করে নিয়েছে।

গোটা উত্তর-পূর্ব ভারত কংগ্রেসের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। পাশাপাশি কাশ্মীর, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্রের মতো বড় রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। একইসঙ্গে, গোয়া, অসম, ত্রিপুরার মতো রাজ্য বিজেপি ছিনিয়ে নিয়েছে।
সেখান থেকেই কংগ্রেস মুক্ত ভারত স্লোগান তৈরি করে ফেলেছিল বিজেপি নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিভিন্ন সভায় ঘটা করে কংগ্রেস মুক্ত ভারত গড়ার আহ্বান জানান।
গতবছরে গুজরাত ভোটের ফলাফলের কয়েকদিন আগে রাহুল গান্ধীকে দলের সভাপতি করা হয়। তারপরে নির্বাচনের ফলাফল বেরোতে দেখা যায়, কংগ্রেস বিজেপিকে জোর টক্কর দিয়েছে। তবে তারপরও ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, মণিপুরের নির্বাচনে কংগ্রেস বিজেপিকে হারাতে পারেনি।
তবে কর্ণাটকের নির্বাচনে ফের ঘুরে দাঁড়ায় কংগ্রেস। জেডিএসকে সঙ্গী করে বিজেপির হাত থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিজেরা কর্ণাটকের মসনদে জোটসঙ্গী হিসাবে বসে পড়ে। তারপরে এবারের পাঁচ রাজ্যের ভোটে এসে প্রমাণ হয়ে গেল, কংগ্রেসকে মুছে ফেলা সহজ নয়।
দেশের সবচেয়ে পুরনো দল নানা রাজ্যে যেভাবে ভিত জমিয়ে রেখেছে, তাতে সরকারে না আসতে পারলেও পথের কাঁটা হয়ে উঠতে পারে নিঃসন্দেহে। আর তাছাড়া এখন আঞ্চলিক দলগুলিকে সঙ্গে নিয়ে লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্রের মোদী সরকারকে উৎখাতের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। ফলে সেদিক থেকে দেখলে এখন বিপদ বিজেপির বেশি।
কংগ্রেস তো রয়েইছে, সঙ্গে রাজ্যে রাজ্যে বিরোধীরা একজোট হয়ে বিজেপি বিরোধিতায় পথে নেমেছে। ফলে এখন বিজেপিই পাল্টা চাপে পড়ে গেল। এখান থেকে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা কোন পরিকল্পনায় বিজেপিকে ওপরে তুলে নিয়ে যেতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।












Click it and Unblock the Notifications