কংগ্রেসে সিন্ধিয়াকে একঘরে করার পিছনে কি প্রিয়াঙ্কাকে রাজ্যসভায় পাঠানোর অঙ্ক!

খুব শীঘ্রই মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভার তিনটি আসনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার আগেই মধ্যপ্রদেশে কমলনাথের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের নির্ঘণ্ট বেজে গিয়েছে। এর জেরে কংগ্রেস যে শুধু আদতে প্রিয়াঙ্কাকে রাজ্যসভায় পাঠাতে কোণঠাসা করা হয় জ্যোতিরাদিত্যকে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত, এই করাণে দলের একাংশ এমন এক চক্রব্যূহে সিন্ধিয়াকে ফেলেছিলেন যে সেখান থেকে বেরিয়ে দলের হয়ে কাজ করা প্রায় অসাধ্যতে পরিণত হয়েছিল তাঁর জন্য। আর এর জেরেই তিনি বাধ্য হন দল ছাড়তে। মাত্র একটি রাজ্য হারাতে চলেছে তা নয়। বরং, রাজ্যসভাতে বিজেপিকে কোণঠাসা করার সুযোগও হারাতে চলেছে কংগ্রেস।

রাজ্যসভায় প্রিয়াঙ্কাকে পাঠাতে চেয়েছিল কংগ্রেস হাইকমান্ড

রাজ্যসভায় প্রিয়াঙ্কাকে পাঠাতে চেয়েছিল কংগ্রেস হাইকমান্ড

সূত্রের খবর, মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভার যেই তিনটি আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা। সেখান থেকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে সংসদের উচ্চকক্ষে পাঠানোর ভাবনা চিন্তা শুরু হয়। তবে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাজ্যসভায় যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধ্যাও। তবে গান্ধী পরিবারের সদস্যের কাছে তাঁকে হারতে হয়েছে বলেই কংগ্রেস ছাড়তে হল জ্যোতিরাদিত্যকে। এমনই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

দলের হয়ে কাজ করেও কোণঠাসা হয়েছিলেন সিন্ধিয়া!

দলের হয়ে কাজ করেও কোণঠাসা হয়েছিলেন সিন্ধিয়া!

২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের সর্বস্ব দিয়ে রাজ্যে দলকে আশাতীত ফল এনে দেওয়ার পিছনে বড় ভূমিকা ছিল জ্যোতিরাদিত্যর। নিজের অঞ্চলে ২৩ জন বিধায়ককেই জিতিয়ে এনেছিলেন এই কংগ্রেস নেতা। তবে এরপরও মুখ্যমন্ত্রিত্ব পদ পাননি। জোটেনি রাজ্য সভাপতির পদও। পরীবর্তে না চেয়েও কপালে জুটেছে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব। যাতে তিনি মোটেই খুশি ছিলেন না। তবে প্রিয়াঙ্কার অধীনে কাজ করে চেষ্টা করে গিয়েছিলেন।

দেখা করতে চাইলেও রাহুলের কাছে উপেক্ষিত হন সিন্ধিয়া!

দেখা করতে চাইলেও রাহুলের কাছে উপেক্ষিত হন সিন্ধিয়া!

তাতেও দলের হাইকমান্ডকে খুশি করতে ব্যর্থ হন জ্যোতিরাদিত্য। কংগ্রেসের অন্দরে কোণঠাসা হয়েছিলেন বহুদিন। কমনাথ-দিগ্বিজয় সিং লবির কাছে বারবার পর্যদস্তু হচ্ছিলেন। এই কারণেই হয়ত দলবদলের ভাবনা শুরু হয় তাঁর মাথায়। তার আগে অবশ্য গত কয়েক মাস ধরে তিনি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। তবে রাহুল সাক্ষাৎ করতে চাননি তাঁর সঙ্গে।

২২ জন বিধায়ক নিয়ে বিজেপির পথে সিন্ধিয়া!

২২ জন বিধায়ক নিয়ে বিজেপির পথে সিন্ধিয়া!

বিজেপির পথে যে তিনি পা বাড়িয়ে দিয়েছেন তা স্পষ্ট হয়ে যায় হোলির দিন সকালেই। মঙ্গলবার সকাল সকাল প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে যান প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধ্যা। সিন্ধিয়া যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মোদীর বাসভবনে ঢোকেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। জল্পনা ছিল আগেই। তবে এই ছবি সামনে আসতেই আর সব সন্দেহ চলে যায়। এর পরপরই কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেন সিন্ধিয়া ঘনিষ্ঠ ১৯ জন বিধায়ক। পরে ইস্তফা দেন আরও বেশ কয়েকজন। মোট ২২ জন বিধায়ক কংগ্রেস ছেড়ে দেন। এদের সকলেরই পরবর্তী গন্তব্য বিজেপি।

রাজ্যসভায় অ্যাডভান্টেজ বিজেপি!

রাজ্যসভায় অ্যাডভান্টেজ বিজেপি!

জানা যাচ্ছে বিজেপির থেকে রাজ্যসভার টিকিট নিশ্চিত হতেই এই দলবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিন্ধিয়া। পাশাপাশি জুটতে পারে মন্ত্রিত্ব। এই ইস্তফার হিড়িকে কমলাথের সরকারের পতন এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। ২২ জন কংগ্রেস বিধায়ক ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কমল নাথ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরাও আছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত কমল নাথ সরকারের সঙ্গে ১২০ জন বিধায়কের সমর্থন ছিল। সেখানে বিজেপির সদস্য সংখ্যা ১০৭। সরকার গড়তে দরকার ১১৫-জন বিধায়কের সমর্থন। সেক্ষেত্রে কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করা ২২ জন বিজেপিতে যোগ দিলে সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে কমল নাথের সরকার। পাশাপাশি একধাক্কায় সরকার গড়ার ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে যাবে বিজেপি। আর সঙ্গে রাজ্যসভাতেও কংগ্রেসের সদস্য পাঠানোর পথ কঠিন হতে চলেছে এবার।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+