পাইলটের ঘর ওয়াপসির শর্ত জানাল কংগ্রেস! গেহলট সরকারের টাল সামলাতে ময়দানে হাইকমান্ড
ফের একবার দলের সঙ্গে কথা বলে সব মিটিয়ে নেওয়ার জন্য সচিন পাইলট সহ রাজস্থানের ১৯জন বিদ্রোহী বিধায়কদের আহ্বান জানালেন কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা। এদিন তিনি এই বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, 'যদি সচিন পাইলট ও তাঁর সঙ্গে থাকা বিধায়করা হরিয়ানা ছেড়ে দলে সঙ্গে কথা বলতে চান তবে ফের আমরা তাঁদের দলে ফিরিয়ে নিতে চাইব।'

পাইলটকে সুরজেওয়ালার বার্তা
এদিন সুরজেওয়ালা বলেন, 'যে রাজ্যে এত খুন হচ্ছে। মানুষকে রক্ষা করার জন্য সেখানে পুলিশ নেই। আইন শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, সেখানে ১৯ জন অভিমানী বিধায়কদের সুরক্ষার জন্য ১০০০ জন পুলিশ মোতায়েন।' প্রসঙ্গত, পাইলট ও তাঁর অনুগামীরা হরিয়ানার হোটেলে থাকায় প্রথম থেকেই পাইলট-বিজেপি আঁতাতের অভিযোগ তুলেছিল গেহলট ও কংগ্রেস।

রাজস্থানে অধিবেশনের অপেক্ষায় কংগ্রেস
দীর্ঘ টাল বাহানার পর অবশেষে রাজস্থানে অধিবেশন বসার সম্মতি মেলে। ১৪ অগাস্ট থেকে রাজস্থান বিধানসভার অধিবেশন শুরু করতে সম্মতি দিলেন রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্র। বুধবার এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্যপালের দপ্তর৷ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৪ অগাস্ট থেকে বিধানসভার পঞ্চম অধিবেশন শুরুতে সায় দিয়েছেন রাজ্যপাল৷ তবে করোনা পরিস্থিতিতে বিধানসভায় সবরকম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

কংগ্রেসের ইচ্ছায় জল ঢালতে তৈরি পাইলট
তবে যেকারণে বা অভিসন্ধিতে এই অধিবেশন ডাকা হয়েছিল, তা ব্যর্থ হতে চলেছে বলে আশঙ্কা গেহলট ক্যাম্পের। কারণ, দলীয় হুইপ জারি হলেই আসন্ন অধিবেশনে যোগ দেবেন সচিন পাইলট শিবিরের কংগ্রেস বিধায়করা। বল্লাভাবনগরের বিধায়ক গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতের এই ঘোষণাতেই মরু রাজ্যের রাজনীতিতে ফের ঝড়ের আভাস।

বিধায়ক কেনা বেচার অভিযোগ
আর এরপরই ফের প্রধানমন্ত্রীকে তোপ দাগেন অশোক গেহলট। মূলত সচিন পন্থীদের বিধানয়ভআয় উপস্থিত না হওয়ার উপরই ভরসা করে ছিলেন অশোক। তবে সেই আশাও ভেস্তে যেতে দেখে ফের বিজেপির দিকে বিধায়ক কেনা বেচা নিয়ে আঙুল তোলেন গেহলট। প্রধানমন্ত্রীকে তোপ দেগে অশোক গেহলট বলেন, তামাশা বন্ধ করুন, কেন্দ্র থেকে হস্তক্ষেপ করে বিধায়ক কেনার চেষ্টা বন্ধ করুন। বিধানসভা অধিবেশন যত কাছে আসছে তত বিধায়কদের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে বিজেপি।

রাজস্থানের হোটেল রাজনীতি
এই আবহে গত শুক্রবারই অশোক গেহলটকে সমর্থন জানানো সব বিধায়কদের ঠিকানা ফের বদল হল। জানা গিয়েছে এদিনই জয়পুরের হোটেল ছেড়ে জয়সলমেরের এক রিসর্টে পৌঁছান কংগ্রেস বিধায়করা। ১৪ তারিখ অধিবেশন শুরু আগে পর্যন্ত শেখানেই থাকবেন তাঁরা। মোট কথা, সরকার বাঁচাতে একপ্রকারে বিধায়কদের আগলে রেখেছেন গেহলট। এর আগে অবশ্য গেহলট বলেছিলেন যে হাইকমান্ড যদি সচিনকে ক্ষমা করে তাহলে তাঁকে দলে ফেরাতে কোনও আপত্তি নেই।

গেহলটের ফতোয়া
সরকার নড়বড়ে হওয়ায় দলের সকল বিধায়কদের হোটেলে রাখা হয়েছে। এরই মাঝে নানা অনুষ্ঠান থাকায়, সকল কংগ্রেস বিধায়ককে হোটেলে থেকেই ঈদ, রাখি বন্ধন এবং জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান পালন করতে বলা হয়েছে। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে উৎসব পালনের জন্য হোটেলেই যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications