গেরুয়া পোশাকে অফিসে হাজির কংগ্রেস নেতা, কড়া শাস্তি বিধান করলেন কর্মীরাই
গেরুয়া পোশাক পরে দলীয় কার্যালেয় এসেছিলেন কংগ্রেস নেতা। তা মানতে পারেননি কর্মীরা। তাই নিজেরাই তাঁর শাস্তি বিধান করলেন বলে অভিযোগ। কর্মীদের হাতে প্রহৃত হলেন কংগ্রেস নেতা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। কিন্তু কংগ্রেসের তরফে এই ঘটনাকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।
আমেঠি জেলা কংগ্রেসের পার্টি অফিসে গেরুয়া পোশাক পরে আসার জন্য প্রাক্তন সহ সভাপতি অখিলেশ শুক্লাকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয় অভিযোগ। যদিও যুব কংগ্রেসের জেলা সভাপতি শুভম সিং এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, কংগ্রেসের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করেই এইসব অপপ্রচার করা হয়েছে।

অখিলেশ শুক্লার অভিযোগের ভিত্তিতে কংগ্রেসের জেলা শাখার সভাপতি প্রদীপ সিংগাল, যুব কংগ্রেসের জেলা সভাপতি শুভম সিং-সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে গালিগালাজ, মারধর ও প্রাণনাশের জীবনের হুমকি দেওয়ার জন্য এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আমেঠি কোতোয়ালি থানার স্টেশন হাউস অফিসার অরুণ কুমার দ্বিবেদী তা জানান।
আমেঠি কংগ্রেসের প্রাক্তন সহ-সভাপতি ছিলেন অখিলেশ শুক্লা। তাঁর কথায়, তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যখন গেরুয়া কুর্তা এবং সাদা প্যান্ট পরে দুর্গাপুর রোডের পার্টি অফিসে গিয়েছিলেন, তখন দলীয় কর্মীরা তাঁর পোশাকের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপিকে সমর্থন করার অভিযোগ তোলেন।
তা নিযে বিতর্কের জেরে দলীয় কর্মীরা তাঁর উপর চড়াও হয়, মারধর করে বলে অভিযোগ। তাঁর পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। অখিলেশ শুক্লার অভিযোগের উদ্ধৃতি দিয়ে ভারতীয় দণ্ডবিধির অধীনে একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
সামনেই উত্তরপ্রদেশের আরবান লোকাল বডির নির্বাচন। পুরসভার এই নির্বাচনের জন্য প্রচার চলছে জোরদার। সেই প্রচার চলাকালীন কংগ্রেসের অন্তর্কলহ সামনে চলে এসেছে। কংগ্রেসের মধ্যে গেরুয়া পোশাক নিয়ে কোন্দল সামনে এসে পড়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, ষড়যন্ত্র করে কংগ্রেসকে গেরুয়া রংয়ের বিরোধী করে দেখানোর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন আসছে। তার আগে রাহুল গান্ধীর আমেঠি কেন্দ্রে এই ধরনের কোন্দল সামনে এল কংগ্রেসের। কংগ্রেস এখানে কামব্যাকের স্বপ্ন দেখছে। বিজেপি চাইছে কংগ্রেস কামব্যাক রুখতে। এই লড়াইয়ে কংগ্রেসের গেরুয়া-বিদ্বেষকে ঘূঁটি করতে চাইছে বিজেপি।
উল্লেখ্যষ ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে প্রথমবারের জন্য হারতে হয়েছিল আমেঠি কেন্দ্রে। উত্তরপ্রদেশে বারবার বদল ঘটলেও আমেঠিতে কোনোদিন পরিবর্তন হয়নি। এটি গান্ধীদের পারিবারিক আসন হিসেবে রয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ২০১৯-এ রাহুল গান্ধীকে হারিয়ে পরিবর্তন আনেন স্মৃতি ইরানি।












Click it and Unblock the Notifications