চিনের সঙ্গে বৈঠককে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ, শাকসগাম উপত্যকার উপর বেজিংয়ের মালিকানা দাবি
ভারতের সীমান্তে চিনের বাড়তি তৎপরতা ও দাবি ঘিরে ফের দেশজুড়ে উত্তাপ। এবার বিরোধীপক্ষ কংগ্রেস সরাসরি কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারকে নিশানা করে অভিযোগ তুলল বেজিং যখন জম্মু কাশ্মীরের শাকসগাম উপত্যকার উপর দাবি জোরালো করছে ও নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তখন দিল্লিতে বিজেপি নেতারা চিনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত!
মঙ্গলবার কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনেটে প্রশ্ন তোলেন, "চিন শাকসগাম ভ্যালিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করছে। সেখানে বহুদিন ধরেই সিপেক প্রকল্পের নামে নির্মাণ চলছে। লাদাখের পর এবার এতটা ভিতরে ঢুকতে চিনকে সুযোগ কে দিল?" একই সঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে জানান, সীমান্তে উত্তেজনা চরমে, আর রাজধানীতে চলছে 'চায়ের আড্ডা' দুই ছবির বিপরীত বাস্তবই বেশি ভাবাচ্ছে দেশবাসীকে।

শ্রীনেটে আরও বলেন, "গালওয়ানে ভারতীয় জওয়ানরা শহিদ হয়েছেন। লাদাখে অনধিকার প্রবেশের পর এবার অরুণাচলে গ্রাম বসাচ্ছে চিন। পাকিস্তানকে সমর্থনও করছে। এসবের মাঝেই বিজেপি সিপিসির বৈঠক! এটাকে কি বলা হবে?" একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের মূলধারার বড় অংশের সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে নীরব।
বিতর্কের জবাব দিয়েছে বিজেপি। দলের বিদেশ বিষয়ক দপ্তরের প্রধান বিজয় চৌথাইওয়ালে জানান, চিনা কমিউনিস্ট পার্টির একটি প্রতিনিধিদল দিল্লিতে এসে 'ইন্টার পার্টি ডায়ালগ' বা দলীয় স্তরের যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যেই বৈঠক করেছে। চিনের রাষ্ট্রদূতও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক এখানেই থামছে না। অনেকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন ২০২০ সালের সেই তীব্র বাকযুদ্ধের কথা, যখন বিজেপির পক্ষ থেকে কংগ্রেসকে চিনের সঙ্গে 'গোপন চুক্তি' ও কূটনৈতিক রহস্য নিয়ে আক্রমণ করা হয়।
শাকসগাম উপত্যকা ইস্যুতে চিনের নতুন দাবি ও নির্মাণ কাজ দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রশ্নে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তার উপর দিল্লির রাজনৈতিক টানাপোড়েন নতুন মাত্রা যোগ করায় বিষয়টি আরও জটিল আকার নিচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।












Click it and Unblock the Notifications