দলবদলের হিড়িক বাংলার মতো মোদী-রাজ্যেও, আপের পর ভোটের মুখে বিজেপিতেও ভাঙন
বাংলায় একুশে নির্বাচনের মুখে যেমন দলবদলের হিড়িক পড়েছিল, মোদী-রাজ্য গুজরাতেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ভোটের মুখে প্রায় প্রতিদিনই দলবদল লেগে রয়েছে।
বাংলায় একুশে নির্বাচনের মুখে যেমন দলবদলের হিড়িক পড়েছিল, মোদী-রাজ্য গুজরাতেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ভোটের মুখে প্রায় প্রতিদিনই দলবদল লেগে রয়েছে। একদিন আগে আম আদমি পার্টি ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরে গিয়েছেন ইন্দ্রনীল রাজগুরু। এবার প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যের প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিজেপি ছাড়লেন, তাঁরও সম্ভাব্য গন্তব্য কংগ্রেস।

ভোটের মুখে আম আদমি পার্টি ও বিজেপিতে ভাঙন
২০১৭-র নির্বাচনে কাঁটে কা টক্করে কংগ্রেসকে হারিয়ে গুজরাতের কুর্সি দখল রেখেছিল বিজেপি। এবার আবার কংগ্রেসের পাশাপশি বিজেপির চ্যালেঞ্জার হিসেবে উঠে এসেছে আম আদমি পার্টিও। তাঁরাও রাজ্যে কংগ্রেস ও বিজেপি ভেঙে বেড়ে উঠেছে এবার। ফলে ত্রিমুখী লড়াইয়ে কার কপালে জয়টিকা উঠবে, সেই প্রশ্ন রয়েই গিয়েছে। এই অবস্থায় ঠিক ভোটের মুখে আম আদমি পার্টি ও বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদান তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আপ ছেড়ে পুরনো দল কংগ্রেসে ফেরা
মাত্র ৬ মাস আগে কংগ্রেস ছেড়ে আম আদমি পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন ইন্দ্রনীল রাজগুরু। রাজনৈতিক মহল মনে করছিল, কংগ্রেস থেকে আসা ইন্দ্রনীল রাজগুরুকেই মুখ্যমন্ত্রী মুখ করবে আম আদমি পার্টি। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল এক বছর আগে সংবাদিকতা ছেড়ে রাজনীতিতে আসা ইসুদান গাদভিকে মুখ্যমন্ত্রী মুখ করা হয়েছে আম আদমি পার্টির তরফে। তারপরই ইন্দ্রনীল রাজগুরু ৬ মাসের সম্পর্ক ছিন্ন করে তাঁর পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরে আসেন। ফলে সৌরাষ্ট্রে ফেরে কংগ্রেসের শক্তি বাড়ে।

বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বিজেপি ছাড়লেন মোদীর মন্ত্রী
এরপর গুজরাতের প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জয়নারায়ণ ব্যাস বিজেপি ছাড়লেন শনিবার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন জয়নারায়ণ ব্যাস ছিলেন তাঁর মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি গুজরাতের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বিজেপি ছাড়লেন এবং বিজেপি ছাড়ার পর বললেন হাঁফিয়ে উঠেছি। তাই বিজেপি ছাড়লাম। তাহলে তাঁর গন্তব্য কোথায়, সে প্রশ্নে অবশ্য ধরা দেননি জয়নারায়ণ।

বিজেপি কি এবার গড় সামলাতে পারবে?
শনিবার দুপুরে বিজেপি ছাড়ার কথা ঘোষণা করে জয়নারায়ণ ব্যাস জানান, হাঁফিয়ে উঠেছিলাম। আমি বিরক্ত। তাই দল ছাড়লাম। দলের পরিচিত মুখ প্রবীণ নেতা দল ছাড়ায় বিধানসভা নির্বাচনের মুখে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিজেপির ভবিষ্যৎ নিয়ে। বিজেপি কি এবার গড় সামলাতে পারবে? নাকি ভরাডুবি হবে এবার নির্বাচনে?

কংগ্রেস বা আপে যোগদান বিজেপি ছেড়ে
জয়নারায়ণ ব্যাস প্রাক্তন মন্রীকে শুধু নয়, চারবারের বিধায়ক। তবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন সাতবার। তিনি তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্র সিদ্ধপুর থেকে এবারও লড়াই করতে চান। তিনি বিজেপি ছেড়ে বলেছেন, কংগ্রেস বা আম আদমি পার্টি যেখানে হোক তিনি যোগ দিতে পারেন। কিন্তু কংগ্রেসে তিনি তাঁর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। কেননা এই কেন্দ্রে তিনি কংগ্রেসের কাছে হারেন গতবার। কংগ্রেস নিশ্চয়ই বর্তমান বিধায়ককে বাদ দিয়ে তাঁর কাছে হারা নেতাকে প্রার্থী করবে না।

বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের বনিবনা না হওয়ায় দলবদল
তাই রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, প্রাথমিকভাবে তাঁর কংগ্রেসে যাওয়ারও সম্ভাবনা বেশি থাকলেও, জয়নারায়ণ যদি ওই কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দেন, তখন তাঁর আপে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কেননা কংগ্রেস তো বিধায়ককে বাদ দিয়ে দলবদলুকে প্রার্থী করবে না! তবে কংগ্রেসের এক নেতা জানিয়েছেন ব্যাসের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে। আপের পক্ষ থেকেও একই দাবি করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের বনিবনা না হওয়াতেই তিনি দল ছেড়েছেন। নিজেকে সিদ্ধপুরের সবথেকে জনপ্রিয় নেতা হিসেবেও দাবি করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications