মোদীকে অনাস্থা কংগ্রেসেরও! জোট-অঙ্কে কি মিলবে ‘ম্যাজিক ফিগার’, দেখে নিন একনজরে
শুক্রবার কংগ্রেসের তরফ অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে নোটিশ দেন এই অনাস্থা প্রস্তাব পেশের জন্য।
এতদিন ওয়াইএসএর কংগ্রেস ও তেলেগু দেশম পার্টির আনা অনাস্থা প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছিল কংগ্রেস। এবার নিজেরাই সরাসরি কেন্দ্রের মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করতে চলেছে। ইতিমধ্যেই নোটিশ দিয়েছে কংগ্রেস। মঙ্গলবার সংসদ খোলার পরই এই প্রস্তাবটি পেশ করবেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে।

উত্তরপ্রদেশে উপনির্বাচনে বিজেপি গোহারা হওয়ার পরই সংসদে চাপে পড়ে যায় বিজেপি। বিজেপির বিরুদ্ধে এনডিএ ছেড়ে বার্তা দেয় তেলেগু দেশম পার্টি। এনডিএ থেকে বেরিয়ে গিয়েই তারা অনাস্থা প্রস্তাব আনে। আর সেই অনাস্থা প্রস্তাবে প্রথমে সমর্থন দেয় ওয়াইএসআর কংগ্রেস। সমর্থন দেয় কংগ্রেস-তৃণমূল-সিপিএম-সহ অন্যান্য বিরোধীরাও। তারপরও কিন্তু বারবার হই হট্টগোলে সেই প্রস্তাব পেশ করা যায়নি। বারবার মুলতবি হয়ে যায় অধিবেশন।

এই অবস্থায় শুক্রবার কংগ্রেসের তরফ অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে নোটিশ দেন এই অনাস্থা প্রস্তাব পেশের জন্য। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন মঙ্গলবারই তাঁরা অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চলেছেন। এখন প্রশ্ন তাহলে কি ম্যাজিক সংখ্যা রয়েছে কংগ্রেসের সঙ্গে? তা না হলে কোন অঙ্কে এতদূর এগোচ্ছে কংগ্রেস।

এবার লোকসভায় বিজেপি একাই সংখ্যা গরিষ্ঠ দল। সেই বিজেপিকে ৪৮ সদস্য নিয়ে কী করে হারাবে কংগ্রেস। তেলেগু দেশম পার্ট এনডিএ ছাড়তে পারে, বিদ্রোহ করতে পারে শিবসেনা-লোক জনশক্তি পার্টি। কিন্তু তা দিয়ে কি ম্যাজিক সংখ্যায় পৌঁছনো যাবে? বিজেপি একাই ২৮২ আসন পেয়েছিল এবার। এনডিএ ৩৩৬। তাকে নামিয়ে আনতে হবে ২৭২-এ। মুখের কথা নয়।

বিজেপি এখন ২৮২ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২৭৪-এ। তবুও তাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। অবশ্য এর মধ্যে ৫ আসনে উপনির্বাচন রয়েছে। আর এনডিএ ত্যাগী টিডিপির রয়েছে ১৬ জন সাংসদ, ওয়াইএসআর কংগ্রেসের ৯ জন। কংগ্রেসের মাত্র ৪৮। আর এই অনাস্থায় যাদের সঙ্গে পাওয়া যাবে, তারা হল- এআইএডিএমকে ৩৭, তৃণমূল কংগ্রেস ৩৪, সিপিএম ৯। এছাড়াও সঙ্গে পাওয়া যাবে সমাজবাদী পার্টি, জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি, আরজেডি, আপ প্রভৃতি দলকে। আর মুখ্য ভূমিকা নিতে পারে বিজু জনতা দল ২০, শিবসেনা ১৮, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি ১১, লোকজনশক্তি পার্টি ৬।

এই অবস্থায় বড় অঙ্কের খেলায় নেমে পড়ল কংগ্রেসও। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণের জন্য ৫০ বা তার বেশি সংসদের সমর্থন লাগে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী জোটে তার থেকে অনেক বেশি সাংসদ রয়েছেন। তার ফলে ২০১৪ সালের পর এই প্রথম কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারে চাপের মুখে পড়তে চলেছে।
সেইমতোই সংসদে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে চান বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। এর ফলে মঙ্গলবার ফের নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়বে লোকসভায়। বিজেপি অবশ্য আত্মবিশ্বাসী সংখ্যাগরিষ্ঠাতার প্রশ্নে। অনাস্থা ভোটে তাঁরা দেখিয়ে দেবে, ম্যাজিক ফিগার তাঁদের সঙ্গে। আর এই জয় নরেন্দ্র মোদী সরকারের হাতকেই শক্ত করবে।












Click it and Unblock the Notifications