বাংলার মতোই জোট করে ত্রিপুরার নির্বাচনে লাভ হল কংগ্রেসের, ক্ষতি সিপিএমের
ত্রিপুরাতেও দেখা গেল আশা জাগিয়েও হতাশ করল বাম-কংগ্রেস জোট। বাম-কংগ্রেস জোট একটা সময় এগিয়ে গিয়েছিল বিজেপির থেকে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
বাংলায় মতোই জোট করে ত্রিপুরার কোনও ফায়দা তুলতে পারল না সিপিএম ও কংগ্রেস। বাম-কংগ্রেসের এই জোট আবারও মুখ থুবড়ে পড়ল ত্রিপুরায়। বাংলায় ২০১৬ সালের নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোট করেছিল। আবার ত্রিপুরাতেও একই পথে হেঁটেছিল তারা, কিন্তু কোনও ফায়দা লুটতে পারল না এবারও।

২০১৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি
২০১৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস এক সঙ্গে জোট করে তৃণমূলকে হারানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। কিন্তু আদতে দেখা যায় বাম-কংগ্রেস মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিপুলভাবে জিতে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। আর বাম-কংগ্রেসের জোট ৭৬টি আসনে জয়লাভ করে। তার মধ্যে কংগ্রেস ৪৪টি এবং বামেরা ৩২টি আসন পায়। কংগ্রেস হয়ে যায় প্রধান বিরোধী দল

বাংলার মতো ত্রিপুরাতেও হতাশ করল বাম-কংগ্রেস জোট
ত্রিপুরাতেও দেখা গেল আশা জাগিয়েও হতাশ করল বাম-কংগ্রেস জোট। বাম-কংগ্রেস জোট একটা সময় এগিয়ে গিয়েছিল বিজেপির থেকে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বাম-কংগ্রেসের জোট ২৪টি আসনে এগিয়ে গিয়েও কমতে কমতে ১৪টিতে দাঁড়ায তার মধ্যে সিপিএম পায় ১১টি আসনে জয়, আর কংগ্রেসের দখলে আসে তিনটি আসন।

কংগ্রেসের জন্য জোট ফলদায়ক হলেও সিপিএমের জন্য নয়
২০১৮ সালের নির্বাচনে সিপিএম ১৬টি আসনে জিতেছিল। আর কংগ্রেস ছিল শূন্য। সেখানে কংগ্রেস তিনজন প্রতিনিধি পাঠাতে পাচ্ছে। আর সিপিএম বা বামেরা ১৫ থেকে নেমে ১১-য় পৌঁছেছে। সেইদিক দিয়ে জোট করে লাভ হয়েছে কংগ্রেসের। কংগ্রেসের জন্য জোট ফলদায়ক হলেও বামফ্রন্ট বা সিপিএমের জন্য তা হয়নি।

ত্রিপুরায় ভোট কমেছে সিপিএম, বেড়েছে কংগ্রেসের
শুধু আসন সংখ্যার নিরিখেই নয়, ২০১৮ সালের সিপিএম ভোট পেয়েছিল ৪২ শতাংশ। সেখানে এবার তারা ভোট পেয়েছে ২৪.৬ শতাংশ। অর্থাৎ ১৭.৫ শতাংশ ভোট কমেছে এবার। সেই নিরিখে দেখা যাচ্ছে কংগ্রেসের ভোট বেড়েছে। কংগ্রেসের ভোট ১.৮ শতাংশ ছিল ২০১৮ সালের নির্বাচনে। এবার ২০২৩ সালের নির্বাচনে তা বেড়ে হয়েছে ৬.৭ শতাংশ।

ফায়দা তুলতে পারল না বাম-কংগ্রেস জোট
কিন্তু জোট গড়েও কেন ফায়দা তুলতে পারল না বাম-কংগ্রেস। আসলে এই জোট স্বতঃস্ফূর্তভাবে হয়নি। জোটবদ্ধ প্রচারও তাই দেখা যায়নি. নীচুতলার নেতৃত্ব চেয়েছিল বলেই তড়িঘড়ি জোট করা হয়েছিল। তাও এই জোটকে জোট না বলে আসন সমঝোতা বলাই ভালো। সেই আসন সমঝোতার ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়ে গিয়েছিল।

উভয় পার্টিরই একাংশ জোটের পক্ষে ছিলেন না
বাম-কংগ্রেস উভয় পার্টিরই একাংশ জোটের পক্ষে ছিলেন না। এতদিন বাম ও কংগ্রেসকে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হতে দেখেছে ত্রিপুরা। হঠাৎ তাদের এই সখ্যতা মেনে নেয়নি একাংশ। তার ফলে জোট সেভাবে ফায়দা তুলতে পারল না বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

বিজেপিরও ভোট শেয়ার কমেছে ২০২৩-এ
২০২৩ সালের ভোটে বিজেপিরও ভোট শেয়ার কমেছে। বিজেপি ২০১৮ সালের থেকে ৪.৬ শতাংশ ভোট কম পেয়েছে। বিজেপির ভোট গিয়েছিল বিরোধীদের বাক্সে। বিশেষ করে টিপ্রামোথা পেয়েছে বাম ও বিজেপির ভোটের অনেকাংশ। সেই কারণেই টিপ্রামোথা দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসতে পেরেছে।
ছবি সৌ:ফেসবুক












Click it and Unblock the Notifications