পাইলট সঙ্গী তানখা! উদ্বেগ-অনিশ্চয়তায় কংগ্রেস রাজস্থানে গুরুদায়িত্ব দিল বেণুগোপালকে
রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গেরা শচীন পাইলটকে নিয়ে বসেও সুরাহা করতে পারেননি। আপেক্ষিকভাবে রাজস্থানে পাইলট-গেহলট দ্বন্দ্ব মেটার আভাস দেওয়া হয়েছিল বৈঠকের পরে। কিন্তু দ্বন্দ্ব যে মেটেনি শচীন পাইলট ও অশোক গেহলটরা রাজস্থানে ফিরেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।
শচীন পাইলটকে নিয়ে রাজস্থানে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে কংগ্রেসে। এই অবস্থায় রাজস্থানে গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপালকে। রাহুল গান্ধী বিদেশ সফরে, এই অবস্থায় শচীনকে ঠেকানোর দায়িত্ব তাঁর উপরই। তাই মিশন বেণুগোপালে রাজস্থানে গড় রক্ষা হয় কি না, সেটাই দেখার।

উদ্বেগ এবং অনিশ্চয়তা শচীন পাইলটকে এই সপ্তাহান্তে মাইহারে মা শারদা মন্দিরের জন্য নিয়ে যায়। তিনি যান মনস্থির করতে, বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তাঁর কী করা উচিত। পাইলটের উপস্থিতির কয়েক ঘন্টা পরে নয়া দিল্লিকে কংগ্রেসের উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল।
সেই বৈঠকে কংগ্রেস নেতৃত্ব এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালকে রাজস্থানের অচলাবস্থা ভাঙতে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেন। পাইলটকে তিনি তৎক্ষণাৎ সমঝোতার প্রস্তাব দেন। গেহলট সরকারের বিরুদ্ধে শচীনের দাবির বিষয়ে কংগ্রেস যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হয়। কংগ্রেস মনে করছে এই বিষয়টি সমঝোতা করতে পারলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এদিকে মজার বিষয় হল- মন্দিরের শহর মাইহারে শচীন পাইলটের সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ এবং প্রাক্তন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল বিবেক তানকা। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যোগদানের আগে রাজ্য স্তরের একাধিক রাজনৈতিক দল গঠনের আইনি প্রমাণপত্রাদি পেয়েছিলেন।
তিনি ১৯৯১ সালে গন্ডোয়ানা গণতন্ত্র পার্টি, ১৯৯৬ সালে মধ্যপ্রদেশ বিকাশ কংগ্রেস, ২০০৫ সালে লোক জনশক্তি পার্টি এবং অন্যান্য পার্টি গড়তে পার্টি লাইন উপেক্ষা করা নেতাদের উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেছিলেন। এক্ষেত্রে তিনি শচীন পাইলটের সঙ্গী হওয়া কংগ্রেসের কপালের ভাঁজ আরও বেড়েছে।

যদিও পাইলট-তানখা সসেই রাজেশ পাইলটের সময় থেকে। তানখা প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা ছিলেন। তাঁর শ্বশুর কর্নেল অজয় নারায়ণ মুশরান দিগ্বিজয় সিং সরকারের অধীনে দীর্ঘ দশ বছর মধ্যপ্রদেশের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। তানখার মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় রাজীব গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহকারী প্রয়াত ক্যাপ্টেন সতীশ শর্মার ছেলের।
এদিকে বিবেক তানখার সঙ্গে শচীন পাইলটের মাইহার সফরের পর নতুন দল গড়ার জল্পনা আরো বেড়েছে। সম্প্রতি জল্পনা তৈরি হয় প্রশান্ত কিশোরকে ভোট কৌশলী হিসেবে রেখে শচীন পাইলট কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গড়তে পারেন। রাহুল গান্ধী বিদেশ সফর থেকে ফেরার আগে ১১ জুন বাবা রাজেশ পাইলটের মৃত্যু বার্ষিকীতেই বড়ো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন শচীন।












Click it and Unblock the Notifications