কংগ্রেস ৫ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অগ্রণী, কর্নাটকে প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই নেওয়া হল যে সিদ্ধান্ত
কংগ্রেস ৫ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কর্নাটকের ভোট প্রচারে। সরকারে এসেই সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হল কর্নাটকের সিদ্দারামাইয়া সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে।
শনিবার নবনির্বাচিত কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী শপথ গ্রহণের পরই মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে তিনি পাঁচ প্রতিশ্রুতি পূরণের আদেশ জারি করেন। নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের দেওয়া প্রতিশ্রুতি হল গৃহজ্যোতি, গৃহলক্ষ্মী, অন্ন-ভাগ্য, যুবনিধি ও উচিতা প্রয়াণা।

প্রতি পরিবারের জন্য ২০০ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রদানের জন্য গৃহজ্যোতি প্রকল্প, প্রতিটি পরিবারের গৃহকর্ত্রীকে ২০০০ টাকা মাসিক সহায়তার জন্য গৃহলক্ষ্মী প্রকল্প, বিপিএল পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে বিনামূল্যে ১০ কেজি চাল প্রদানের জন্য অন্নভাগ্য প্রকল্প রূপায়ণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এছাড়া বেকার স্নাতক যুবকদের জন্য প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা এবং বেকার ডিপ্লোমাধারীদের জন্য ১৫০০ টাকা দু-বছরের জন্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয় যুবনিধি প্রকল্পে। এই প্রকল্প উভয়ক্ষেত্রেই ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের জন্য। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে ভ্রমণের জন্য উচিতা প্রয়াণা প্রকল্প রূপায়ণের নির্দেশও দেওয়া হয়।
এদিন প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে এক সাংবাদিক বৈঠকে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বলেন, "ইস্তাহারে পাঁচটি গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছিল। সেই পাঁচটি গ্যারান্টি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরেই আমরা প্রতিশ্রুতি রাখতে বদ্ধপরিকর। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠক ডাকা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, কর্নাটকে কংগ্রেসের এই পাঁচটি 'গ্যারান্টি' প্রস্তাব রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ৫০,০০০ কোটি টাকা খরচ বাড়াতে পারে। কংগ্রেস সেই কথা না ভেবে ভোটের স্বার্থে জনহিতৈষী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এখন সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে কোষাগারে চাপ বাড়ছে।
কর্নাটকে প্রচারের সময় রাহুল গান্ধী এবং অন্যান্য কংগ্রেস নেতারা বারবার বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলেই তাদের সরকার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাঁচ প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে। কংগ্রেসের ইস্তেহার খসড়া কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক কে ই রাধাকৃষ্ণ বলেছিলেন পাঁচটি গ্যারান্টি স্কিম বাস্তবায়নে বার্ষিক ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ হবে না।
কংগ্রেসের জন্য পাঁচটি গ্যারান্টি ইস্তেহারের খসড়ায় রেখে গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। কিন্তু কংগ্রেসের কিছু নেতারও ধারণা রয়েছে যে, এই পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়ন করা যাবে না। তবে রাধাকৃষ্ণ বলেন, আমি খুব নিশ্চিত এই কারণেই যে, আমি আর্থিক প্রভাবগুলি নিয়ে কাজ করেছি। এই ৫০ হাজার কোটি টাকাও দাতব্য নয়, এটি হল ক্ষমতায়ন।

এই প্রকল্পগুলি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, কর্নাটক সরকারের মোট বাজেট প্রায় তিন লক্ষ কোটি টাকা। যে কোনো ভালো অর্থনীতির রাজস্বের অন্তত ৬০ শতাংশ উন্নয়ন খাত ব্যয় করা হয়। রাধাকৃষ্ণ বলেন, এটা সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ এবং ক্ষমতায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে যায়।
সুতরাং, তিন লাখ কোটি টাকার বাজেটের ১.৮০ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। তাহলে আমাদের কাছে আরও ১.২০ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করার জন্য তহবিল থাকবে। তারপর কংগ্রেস তার ইস্তেহারে ৫ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বিশাল সোলার পার্ক স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটি প্রতিটি গ্রামে একটি ছোট সোলার ক্লাস্টার স্থাপন হবে।












Click it and Unblock the Notifications