‘দলিত ও অনগ্রসর শ্রেণিকে ভরসা জোগাতে ব্যর্থ কংগ্রেস’, ভরা সভায় স্বীকার করলেন রাহুল গান্ধী
দলিত-অনগ্রসর শ্রেণিকে উপেক্ষা করেছে কংগ্রেস। জনসভায় দাঁড়িয়ে ভুল স্বীকার করে নিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। দিল্লি নির্বাচনের আগে রাহুলের এত বড় স্বীকারোক্তি স্বাভাবিক দলের অন্দরে চাপ বাড়িয়েছে।
কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দল নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, যদি কংগ্রেস গত ১০-১৫ বছরে দলিত এবং অনগ্রসর শ্রেণীর আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে পারত, তাহলে আরএসএস ক্ষমতায় আসতে পারত না।

বৃহস্পতিবার রাহুল গান্ধী "বঞ্চিত সমাজ: দশা অর দিশা" অনুষ্ঠানে দলিত সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নিয়ে এমন মন্তব্য করেন। রাহুল বলেন, "১৯৯০-এর দশকে কংগ্রেস দলিত ও অনগ্রসরদের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে"। যা তার মতে, 'একটি বড় রাজনৈতিক ভুল'।
তিনি ইন্দিরা গান্ধীর সময়ের সাথে তুলনা করে বলেন, "তখন দলিত, আদিবাসী ও অনগ্রসররা "পূর্ণ আত্মবিশ্বাস" নিয়ে কংগ্রেসের পাশে ছিলেন"।
তাঁর এই মন্তব্যের এই পরিপ্রেক্ষিতেই, জনসভায় উপস্থিত এক শ্রোতা যখন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পি.ভি. নরসীমা রাওকে এই পতনের জন্য দায়ী করেন, তখন রাহুল বলেন, "আমি কারও নাম নেব না, কিন্তু আমাদের কিছু ভুল ছিল যা স্বীকার করা দরকার"।
রাহুল গান্ধী বলেন, "শুধু রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব যথেষ্ট নয়, ক্ষমতার সুষম বণ্টনও নিশ্চিত করতে হবে"। তিনি উল্লেখ করেন যে, "পশ্চাদপদ শ্রেণীর জনসংখ্যা ৫০%, কিন্তু ক্ষমতার ভাগ মাত্র ৫%। দলিতদের জনসংখ্যা ১৫%, কিন্তু ক্ষমতার ভাগ মাত্র ১%। আর এতেই বোঝা যাচ্ছে, তাঁদের কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সমাজ গঠনের কাজে"।
কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, "বিজেপি ও আরএসএসকে পরাস্ত করতে হলে কংগ্রেসের "মূল ভিত্তি" ফিরিয়ে আনতে হবে। দলিত ও অনগ্রসর শ্রেণীর মানুষদের শুধু রাজনীতিতেই নয়, শিক্ষা, কর্পোরেট জগৎ ও বিচার বিভাগেও সুযোগ দিতে হবে। তাঁদের সবার সামনে এগিয়ে দিতে হবে। তাঁদেরকেও দিক নির্দেশকের দায়িত্ব দিতে হবে"।
রাহুলের কথায়, "আমরা শুধু রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের কথা বলব না। কাঁশি রামজি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের জন্য লড়াই করেছিলেন, কিন্তু বিজেপি এটিকে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। তাই এবার সেই সব ক্ষেত্রে বদলের প্রয়োজন"।
রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশলে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। দলিত ও অনগ্রসর শ্রেণীর মধ্যে আস্থা পুনরুদ্ধার করাই এখন কংগ্রেসের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। আর তাঁর শুরুয়াৎটা কি দিল্লি নির্বাচন থেকেই করতে চায় কংগ্রেস? উত্তর মিলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি, ফল ঘোষণার দিনই।












Click it and Unblock the Notifications