মমতা ‘দিবা-স্বপ্ন’ দেখছেন জাতীয় রাজনীতিতে! ইউপিএ অস্তিত্বহীন কটাক্ষে পাল্টা তোপ কংগ্রেসের
মমতা ‘দিবা-স্বপ্ন’ দেখছেন জাতীয় রাজনীতিতে! ইউপিএ অস্তিত্বহীন কটাক্ষে পাল্টা তোপ কংগ্রেসের
শারদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউপিএ-র কোনও অস্তিত্ব নেই বলে দাবি করে কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে তিনি জানালেন কংগ্রেসের নিষ্ক্রিয়তার জন্যই বিজেপির এত বাড়বাড়ন্ত। তাই বিজেপি-বিরোধী শক্তিশালী ঐক্য গড়তে হবে সমস্ত আঞ্চলিক দলকে নিয়ে। তৃণমূল সুপ্রিমোর এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছে কংগ্রেস।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন শারদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেন মুম্বইয়ে। তারপর কংগ্রেসের দিকে তিনি কটাক্ষ ছুড়ে দেন। সেই কটাক্ষের জবাবে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল বলেন, কংগ্রেস ছাড়া বিজেপিকে হারানো দিবাস্বপ্ন ছাড়া আর কিছু নয়। তৃণমূল সেই দিবা স্বপ্ন দেখছে। ভারতীয় রাজনীতির এই বাস্তবটা সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।
কংগ্রেসের আরও বক্তব্য, সবার কাছে এটাও পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কার সুবিধা করে দিচ্ছে। আর তৃণমূল আদতে কী চাইছে। মুখে বিজেপি বিরোধিতার কথা বললেও তৃণমূল বিজেপিকেই সহায়তা করছে রাজ্যে রাজ্যে। কংগ্রেসকে ভেঙে বিজেপির সুবিধা করে দিচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী ভোটে ভাঙন ধরিয়ে দিচ্ছে তৃণমূল।
শারদ পাওয়ারের কথা রেশ ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেশে যে ফ্যাসিজম চলছে, তার বিরুদ্ধে একটি বিকল্প শক্তিশালী বিকল্প তৈরি করতে হবে। বিজেপির বিরুদ্দে কেউ একা লড়াই করতে পারবে না। প্রয়োজন একটি শক্তিশালী মঞ্চের। এরপরই মমতা তাঁর কথার রেশ ধরে শক্তিশালী ঐক্য গড়ার কথা বলেন। সঙ্গে সঙ্গে মমতাকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, আপনরা কি মনে হয় শারদজির ইউপিএ নেতৃত্ব দেওযা উচিত? তা শুনে মমতার চটজলদি জবাব, কোথায় ইউপিএ! ইউপিএ-র কোনও অস্তিত্বই নেই।
এদিন কংগ্রেস ও তৃণমূলের সংঘাত আরও বাড়ল। ফলে আসন্ন ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে ফাটল তৈরি হল বিরোধী ঐক্যে। কংগ্রেসকে সরিয়ে তৃণমূল প্রধান বিরোধী দল হয়ে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। মাত্র একটি রাজ্যে প্রতিনিধিত্ব করে কি সম্ভব বিজেপির বিরুদ্ধে ৫৪৩ আসনে লড়াই করা। ত্রিপুরায় কংগ্রেসকে ভেঙে ২০ শতাংশ ভোট পেয়েই যদি তৃণমূল মনে করে দেশে বিজেপির বিকল্প হয়ে উঠছে তাহলে মুর্খের স্বর্গে বাস করছেন তারা। এমনই অভিযোগ কংগ্রেসের।
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, কংগ্রেস ছাড়া বিজেপিকে হারানো সম্ভব নয় অঙ্কের বিচারে। সব বিরোধী দলও প্রায় তা-ই মনে করছে। কারণ কংগ্রেসের সঙ্গে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ আসনে সরাসরি লড়াই হবে বিজেপির। আর তৃণমূলের সঙ্গে এখন পর্যন্ত ৪২। তা বেড়ে বড়জোড় হতে পারে ৪৪-৪৫। বাকি ২৫০ আসনে অন্যান্য আঞ্চলিক দল। তা-ই তারা কোনদিকে যায় সেটাও ফ্যাক্টর হবে ২০২৪-এর নির্বাচনে।












Click it and Unblock the Notifications