ত্রিপুরার কংগ্রেস প্রধানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার, তৃণমূল-যোগ নিয়ে দিলেন তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা

ত্রিপুরার কংগ্রেস প্রধানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার, তৃণমূল-যোগ নিয়ে দিলেন তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা

কংগ্রেসের ত্রিপুরা ইউনিটের প্রধান পীযুষকান্তি বিশ্বাস দল ছাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করলেন। কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের ফোনের পর তিনি পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তের ফলে ত্রিপুরার রাজ্য রাজনীতিতে ফের সমীকরণ পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হল। আর কংগ্রেস সভাপতির পদে ইস্তফা পত্র প্রত্যাহার করার পর তিনি তৃণমূল নিয়েও তাৎপর্যপূর্ণ বিবৃতি দিলেন।

কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা প্রত্যাহার পীযুষের

কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা প্রত্যাহার পীযুষের

কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর পীযুষকান্তি বিশ্বাস জানিয়েছিলেন তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন। এরপর কংগ্রেস হাইকম্যান্ড নড়েচড়ে বসে। হাইকম্যান্ড পীযুষকান্তি বিশ্বাসকে আশ্বস্ত করেন, তাঁর সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দখা হবে। তিনি দায়িত্ব পালন করুন। তাঁর পাশে থাকবে দল। সেই আশ্বাস পাওয়ার পর কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে সম্মতি প্রদান করেন।

দিনের শেষে ইউ-টার্ন নিয়ে কী জানালেন পীযুষকান্তি

দিনের শেষে ইউ-টার্ন নিয়ে কী জানালেন পীযুষকান্তি

কংগ্রেস সভাপতির পদ ছেড়ে তিনি বলেছিলেন, ব্যক্তিগত কারণগুলি তাঁকে পদত্যাগ করতে প্ররোচিত করেছিল। দিনের শেষে ইউ-টার্ন নিয়ে তিনি জানান, পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। কারণ এমন কিছু বিষয় আছে যা পরিচালনা করা দরকার। কংগ্রেসের ত্রিপুরা ইনচার্জ অজয় ​​কুমার আমার সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং আশ্বাস দিয়েছিলেন যে আমি এখানে যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি তা সমাধান করার জন্য তিনি আমার সাথে দেখা করবেন। তিনি যদি আমার সমস্যার সমাধান করেন, তবে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের প্রধান হিসেবে কাজ করতে আমার কোনো সমস্যা নেই।

পীযুষকান্তির সমর্থনে অজয় কুমারের বিবৃতি

পীযুষকান্তির সমর্থনে অজয় কুমারের বিবৃতি

অজয় কুমার তাঁর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানান, পীযুষকান্তি বিশ্বাসের তোলা বিষয়গুলি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হবে। কংগ্রেসের ত্রিপুরা ইনচার্জ আরও বলেন, তিনি ২৭ আগস্ট তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন এবং সমস্যার সমাধানে আলোচনায় বসবেন। আগের দিন টুইট করে পীযুষকান্তি বিশ্বাস বলেছিলেন, "আমি ত্রিপুরা কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছে। এবং রাজনীতি থেকেও অবসর নিচ্ছি। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীজির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। তিনি আমার উপর আস্থা রেখেছিলেন। আমি সাধ্যমতো তাঁর আস্থা রাখার চেষ্টা করেছি।''

প্রদেস সভাপতি কেন পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন সোনিয়াকে?

প্রদেস সভাপতি কেন পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন সোনিয়াকে?

কী সমস্যার জন্য তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে পীযুষকান্তি বিশ্বাস জানান, বেশ কিছু সাংগঠনিক সমস্যা রয়েছে। বিজেপি ভিশন ডকুমেন্টে ১৯৯টি প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। সাড়ে তিন বছরে একটা প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। একশো দিনের কাছে মজুরি ৩৪০ টাকা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা এখনও ২০০ টাকা হয়নি। সপ্তম বেতন কমিশন চালু হয়নি। কর্মসংস্থান হয়নি। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আন্দোলন জরুরি। তার জন্য দরকার মজবুত সংগঠন গড়ে তোলা। নেতৃত্ব বলেছে, তাঁরা বিষয়টি দেখবেন।

তৃণমূল নিয়ে ভিন্ন সুর কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতির

তৃণমূল নিয়ে ভিন্ন সুর কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতির

দুদিন আগে সোনিয়া-মমতার বৈঠক হয়েছে। এদিন ত্রিপুরায় তৃণমূলকে তিনি ওয়েলকাম জানালেন। পীযুষবাবু কয়েকদিন আগে বলেছিলেন, ত্রিপুরায় বিজেপিকে সুবিধা করে দিতে তৃণমূল এখানে এসেছে। এদিন উল্টো সুর শোনা গেল তাঁর কণ্ঠে তিনি বলেন সোনিয়াজির প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। সোনিয়াজির নেতৃত্বে কংগ্রেসে ফের জোয়ার আসবে

কংগ্রেস-তৃণমূল-তিপ্রমথা যদি এক হয়, বিজেপি হারবে

কংগ্রেস-তৃণমূল-তিপ্রমথা যদি এক হয়, বিজেপি হারবে

পীযুষকান্তি বিশ্বাস কংগ্রেসের দায়িত্বে ফেরার পর প্রশ্ন করা হয়েছিল, ২০২৪-এর লক্ষ্যে সোনিয়া-মমতা-সীতারাম হাত ধরেছেন বিজেপির বিরুদ্ধে। এখানে কি বিজেপি সরকারকে হটাতে কংগ্রেস-তৃণমূল-সিপিএম এক হবে। তিনি বলেন, আমি তৃণমূলকে ওয়েলকাম করেছি, কিন্তু তৃণমূলকেও কংগ্রেস ভাঙানো থেকে দূরে থাকতে হবে। তিনি তিপ্রমথার ভূমিকাও তুলে ধরেন। সিপিএমকে বাদ রেখেই তিনি বলেন, কংগ্রেস-তৃণমূল-তিপ্রমথা যদি এক হয়, বিজেপিকে হারানো সম্ভব।

তৃণমূল ও কংগ্রেসের অলীক স্বপ্নকে কটাক্ষ বিজেপির

তৃণমূল ও কংগ্রেসের অলীক স্বপ্নকে কটাক্ষ বিজেপির

কংগ্রেসের এই ভূমিকার সমালোচনা করেছে বিজেপি। বিজেপির পক্ষ থেকে নব্যেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, ত্রিপুরায় কংগ্রেসের পার্টি অফিস রয়েছে, কিন্তু তা খোলার লোক নেই। তারা সরকার গড়ার অলীক স্বপ্ন দেখছে। আর ত্রিপুরায় তৃণমূলের কিছু নেই। ওই কগাঠা লোক নিয়ে বিজেপিকে হারানোর স্বপ্ন দেখা বৃথা। আসন্ন ২০২৩-এর বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও তৃণমূল যোগ্য জবাব পেয়ে যাবে। ততদিন ত্রিপুরায় বিজেপিকে হারানোর স্বপ্ন দেখুক। কিন্তু সেই স্বপ্ন সফল হওয়ার নয়, স্বপ্ন সফল হবেও না। কংগ্রেস-তৃণমূল-সিপিএম এক হয়েও কিছু করতে পারবে না, ফের ত্রিপুরায় ফিরবে বিজেপি সরকার।

খবরের ডেইলি ডোজ, কলকাতা, বাংলা, দেশ-বিদেশ, বিনোদন থেকে শুরু করে খেলা, ব্যবসা, জ্যোতিষ - সব আপডেট দেখুন বাংলায়। ডাউনলোড Bengali Oneindia

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+