কংগ্রেস কর্নাটক নির্বাচনে টেক্কা দেবে বিজেপিকে! কোন সমীকরণে হবে বাজিমাত?
কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রথম দফায় ১২৪ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। সেই আসন বণ্টনে কংগ্রেস কৌশসগত কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। সেই পদক্ষেপ কংগ্রেসকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে আসন্ন কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে। ডিকে শিবকুমার ও সিদ্দারামাইয়া জুটি বাজিমাত করতে পারে কংগ্রেস।

বিজেপিকে টেক্কা দিয়ে ১২৪ আসনে প্রার্থী কংগ্রেসের
কর্নাটকে রাজ্যে কংগ্রেসের দুই প্রধান নেতা প্রদেশ সভাপতি ডে কে শিবকুমার ও বিরোধী দলনেতা সিদ্দারামাইয়া। তাঁদের দুজনকে এক সূ্ত্রে বাঁধতে সক্ষম হয়েছে কংগ্রেস। বিজেপিকে টেক্কা দিয়ে আগেই ১২৪ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দিয়েছে তারা। অবশ্য সবার প্রথম প্রার্থী ঘোষণা করে আম আদমি পার্টি।

প্রার্থী তালিকায় কৌশলী সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস
সম্প্রতি রাহুল গান্ধী সুরাতের আদালতে মানহানির মামলায় দু-বছরের কারাদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। তারপর তাঁর সাংসদ পদও বাতিল হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের এই স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আওয়াজ উঠেছে। এই অবস্থায় কর্নাটক বিধানসভার প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়ে কৌশলী সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস।

অঙ্ক মেলাতে পারলেই সাফল্য ধরা দেবে কর্নাটকে
কংগ্রেস এবার প্রার্থী তালিকায় মাস্টারস্ট্রোক দিয়ছে লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে ২৮ জনকে প্রার্থী করে। লিঙ্গায়েতদের কর্নাটক রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। সেই লিঙ্গায়েতদেরই এবার তুরুপের তাস করে বাজি জিততে চাইছে কংগ্রেস। একেবারে অঙ্ক কষে তারা এবার এগোতে চাইছে। সেই অঙ্ক মেলাতে পারলেই সাফল্য ধরা দেবে বলে শিবকুমার-সিদ্দারামাইয়ারা মনে করছে।

কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় যাঁদের স্থান মিলেছে
এবার কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন সাতজন পঞ্চমশালী লিঙ্গায়েত সদস্য, পাঁচজন রেড্ডি লিঙ্গায়ত সদস্য, তিনজন সদর লিঙ্গায়ত, তিনজন বীরশৈব লিঙ্গায়ত, চার জন অন্যান্য লিঙ্গায়ত, তিনজন বানজিগা লিঙ্গায়ত, দুই গণিগা লিঙ্গায়ত এবং একজন নোনাবা লিঙ্গায়েত সদস্য। এছাড়াও ২২ জন ভোক্কালিগা প্রার্থীও রয়েছেন।

কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় পিতা-কন্যা এবং পিতা-পুত্র জুটি
কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় পিতা-কন্যা এবং পিতা-পুত্রের চারজোড়া জুটি রয়েছে এবার। যার মধ্যে বিজয়নগরের এম কৃষ্ণপ্পা এবং গোবিন্দরাজনগরের প্রিয়াকৃষ্ণ, বিটিএম লেআউট থেকে রামালিঙ্গা রেড্ডি এবং জয়নগরের সৌম্য রেড্ডি, দাভানাগের দক্ষিণ থেকে শামানুর শিবশঙ্করাপ্পা এবং দাভানাগের উত্তর থেকে মল্লিকার্জুনকে প্রার্থী করা হয়েছে। এছাড়া কে এইচ মুনিয়াপ্পা দেবনাহল্লি থেকে এবং কেজিএফ থেকে রূপাকে প্রার্থী করা হয়েছে।

লিঙ্গায়তবাদের প্রতিষ্ঠা কর্নাটকে
দ্বাদশ শতাব্দীর একজন দার্শনিক, কবি এবং সমাজ সংস্কারক বাসভন্নকে মূলত লিঙ্গায়তবাদের প্রতিষ্ঠাতা বলে মনে করা হয়। লিঙ্গায়েতরা শিবের উপাসক। বাসভন্নের লিঙ্গায়তবাদ ভক্তি আন্দোলনের সময় বৃদ্ধি পেয়েছিল, বর্ণ শ্রেণিবিন্যাস, উপনয়নের মতো হিন্দু আচার-অনুষ্ঠান বা পৈতে পরা প্রত্যাখ্যান করেছিল।

বীরশৈবরাও গুরুত্বপূর্ণ কর্নাটকে
এদিকে বীরশৈবরা শিবের উপাসক এবং তারা ছিলেন বাসভন্নের পূর্ববর্তী। বীরশৈবধর্মের উপাসকরা বেদ থেকে এসেছেন। এই সম্প্রদায়ের পাঁচটি পীঠ। তা হল-রামভপুরী, উজ্জয়িনী, কেদার, শ্রীশৈল এবং কাশী। বীরশৈবধর্মের অনুসারীরা মূলত কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও মহারাষ্ট্রে কেন্দ্রীভূত।

১৫০টি আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ময়দানে কংগ্রেস
লিঙ্গায়ত এবং বীরশৈবরা একসঙ্গে কর্ণাটকের জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ। তারা ঐতিহ্যগতভাবে বিজেপিকে ভোট দিয়ে আসছে বলে মনে করা হয়। এবার সেই লিঙ্গায়েত প্রার্থীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে কংগ্রেস ২২৪ সদস্যের বিধানসভায় কমপক্ষে ১৫০টি আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ময়দানে নেমেছে কংগ্রেস। সেখানে এবার লিঙ্গায়েত ভোটে অ্যাডভান্টেজ কংগ্রেসের পক্ষে।

১০০টিতে লিঙ্গায়ত বা বীরশৈবরা উল্লেখযোগ্য
২২৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে প্রায় ১০০টিতে লিঙ্গায়ত বা বীরশৈবরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় রয়েছে। তাদের বেশিরভাগই উত্তর কর্নাটকে। কর্নাটকে এই সম্প্রদায় থেকে ন'জন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া মাইসুরু জেলার বরুণায় নিজের কেন্দ্রে ফিরে আসছেন। বর্তমানে তাঁর পুত্র ডাঃ যথীন্দ্র সিদ্দারামাইয়া প্রতিনিধিত্ব করছেন।

লিঙ্গায়েতদের ধর্মীয় সংখ্যালঘু মর্যাদা দাবি
২০১৮ কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করা হয়েছিল লিঙ্গায়েতদের ধর্মীয় সংখ্যালঘু মর্যাদা দেওয়া হবে। বিজেপি সরকার এখন মুসলমানদের জন্য ৪ শতাংশ ওবিসি সংরক্ষণ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে লিঙ্গায়ত ভোটারদের প্ররোচিত করা শুরু করেছে। মুসলমানদের এখন ইডব্লুএস কোটার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে, যেখানে ব্রাহ্মণ, বৈশ্য, মুদালিয়ার, জৈন এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ও রয়েছে।

লিঙ্গায়েত সম্প্রদায় ও সংখ্যালঘু মুসলিম
লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনা করে সরকার আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেস মুসলমানদের ৪ শতাংশ কোটা এখন ভোক্কালিগাসদের ২ শতাংশ এবং লিঙ্গায়তদের ২ শতাংশ দেওয়া হবে। গত বছর বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications