বিজেপি-বিরোধী ঐক্য এখন শিকেয়! কংগ্রেস-তৃণমূলের সমান্তরাল পথে কে কার সঙ্গে, জল্পনা
বিজেপি-বিরোধী ঐক্য এখন শিকেয়! কংগ্রেস-তৃণমূলের সমান্তরাল পথে কে কার সঙ্গে, জল্পনা
বিরোধী ঐক্যকে শিকেয় তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সংগঠন বাড়ানোর উপর নজর দিয়েছেন। সেই কারণে তৃণমূল রাজ্যে রাজ্যে মূলত কংগ্রেস ভেঙে ইউনিট গড়ে তুলছেন। সংগঠনের ভিত গড়ছেন। আবার এই লক্ষ্যপূরণে কংগ্রেসের প্রকাশ্য বিরোধিতা করে সমান্তরাল পথে চলার সংকল্প গ্রহণ করেছেন। তাতেই দেখা যাচ্ছে জাতীয় রাজনীতিতে একলা হয়ে গিয়েছে তৃণমূল।

তৃণমূল জাতীয় স্তরে আদৌ সঙ্গী পাবে কি
অন্তত সংসদের শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন যে ছবি ধরা পড়েছে জাতীয় রাজনীতিতে, তাতে বলাই যায় তৃণমূল জাতীয় স্তরে আদৌ সঙ্গী পাবে কি না সংশয়। তৃণমূল এখন প্রচার শুরু করে দিয়েছে, তাঁরাই ২০২৪-এ বিজেপির প্রধান বিকল্প। কংগ্রেস নয়, তৃণমূলই দেশকে পথ দেখাবে। মোদী বিরোধী লড়াইয়ে মুখ হয়ে উঠবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিরোধীদের সর্বদল বৈঠকে যায়নি তৃণমূল
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের ডাকা বিরোধীদের সর্বদল বৈঠকে যায়নি তৃণমূল। তৃণমূল ছাড়াও আরও তিনটি দবল অনুপস্থিত ছিল কংগ্রেসের ডাকা বৈঠকে। সংসদে কোন পথে বিজেপির মোকাবিলা করা হবে তা নিয়ে বৈঠকে গরহাজির ছিল তৃণমূল ছাড়াও সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, আম আদমি পার্টি। বাকি দলের প্রতিনিধিরা কংগ্রেসের ডাকা বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন।

দৃশ্যতই একা তৃণমূল, কংগ্রেসের সঙ্গে ১৬ দল
এরপর মঙ্গলবার সংসদে দেখা গিয়েছে দৃশ্যতই একা হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। ১২ জন সাংসদের সাসপেনশন ইস্যুতে কংগ্রেস-সহ বাকিরা একত্রিত, তৃণমূল পৃথক। এমনকী এ বিষয়ক যৌথ বিবৃতিতেও সই করেনি তৃণমূল। কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা ওয়াক আউট করার সময়ও তৃণমূল ছিল সংসদকক্ষে। পরে তারা বেরিয়ে আসে। তবে এসবের পর একাকীত্ব ঘোচাতে তৃণমূলের পাঁচ সাংসদকে কংগ্রেস-সহ ১৬ বিরোধী দলের সঙ্গে বিক্ষোভ দেখাতে দেখা যায়।

কংগ্রেসের সঙ্গে সমন্বয় করে তৃণমূল চলবে না
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার দিল্লি সফরে গিয়ে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেননি। দিল্লিতে গিয়ে কংগ্রেস ভেঙে তিনি কলকাতায় ফিরে যান। তারপরই তিনি বার্তা দেন, কংগ্রেসের সঙ্গে সমন্বয় করে তৃণমূল চলবে না, তাঁর দল চলবে নিজের মতো করে। তারপরও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে সংসদকক্ষ সমন্বয়ের বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও তৃণমূলের কেউ তাঁর ঘরে বিরোধীদের বৈঠকে আসেননি।

প্রধান বিরোধী দল হয়ে ওঠার চেষ্টা তৃণমূলের
এখন এই ছবিই প্রতীক হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতিতে। তৃণমূল বিরোধী ঐক্য শিকেয় তুলে বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠন গড়তে বিরোধীদেরই ভাঙছে। বিশেষ করে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল জাতীয় রাজনীতিতে সংগঠন বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ত্রিপুরার পর গোয়ায় কংগ্রেসকে ভেঙেছে তৃণমূল। উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানার পর মেঘালয়েও কংগ্রেস ভেঙে প্রধান বিরোধী দল হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

কংগ্রেস ও তৃণমূল যদি সমান্তরাল পথে চলে...
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল জাতীয় রাজনীতিতে কোনও সঙ্গী খুঁজে পায় কি না, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতির মহল। কংগ্রেস ও তৃণমূল যদি সমান্তরাল পথে চলতে শুরু করে, তবে জোটসঙ্গীরাও যে দু-ভাগ হবে তা বলাই যায়। তাই দেখার ছিল এবার সংসদ অধিবেশন শুরু হলে কে কোন দিকে মোড় নেয়। এখন পর্যন্ত যে ছবি ধরা দিয়েছে, তাতে তৃণমূল একা হয়ে গিয়েছে, কংগ্রেসের সঙ্গে রয়েছে ১৬টি দল।

কংগ্রেস ছাড়া বিজেপিকে হারানো সম্ভব?
কংগ্রেসের সঙ্গে রয়েছে শিবসেনাও। তৃণমূল এখনও জাতীয় রাজনীতিতে সঙ্গী খুঁজে পায়নি। সব বিরোধী দলই প্রায় মনে করছে, কংগ্রেস ছাড়া বিজেপিকে হারানো সম্ভব নয়। কারণ কংগ্রেসের সঙ্গে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ আসনে সরাসরি লড়াই হবে বিজেপির। আর তৃণমূলের সঙ্গে এখন পর্যন্ত ৪২। তা বেড়ে বড়জোড় হতে পারে ৪৪-৪৫।

দিল্লির লড়াইয়ে তৃতীয় শক্তির উত্থান
কিন্তু এখনও প্রায় ২৫০ আসন রয়েছে। যেখানে অন্যান্য রাজনৈতিক দল একটা ফ্যাক্টর। সেইসব রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে যেমন রয়েছে কংগ্রেস-বান্ধব দল, তেমনই রয়েছে বিজেপি-বান্ধব দলও। বামেরা যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে সপা, বসপা, আরজেডি, টিআরএস, টিডিপি, ওয়াইএসআর কংগ্রেস, বিজেডি, ডিএমকে, এআইএডিএমকে, আপ, শিবসেনার মতো বহু দল। তাই তৃণমূল বিরোধী ঐক্যে সামিল না হওয়ায় তৃতীয় শক্তির উত্থান হয় কি না সেটাও দেখার।

২০২৪-এর লড়াই ত্রিমুখী হয়ে উঠতে পারে
একদিকে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ। অন্যদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ হলে লড়াইটা অন্যরকম হত। কিন্তু তৃণমূলের জাতীয় রাজনীতিতে প্রধান বিরোধী প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠার বাসনা, আরও একটি সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলেছে। সেক্ষেত্রে ২০২৪-এর লড়াই ত্রিমুখী হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে বিজেপি-বিরোধী দলগুলির বিভক্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।












Click it and Unblock the Notifications