কংগ্রেস-তৃণমূলের বরফ গলাচ্ছেন রাজ্যপাল! জাতীয় রাজনীতিতে বদলাতে পারে সমীকরণ
বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও তৃণমূল একক্টা হয়ে আসন্ন ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে লড়বে, এটাই মনে করেছিল রাজনৈতিক মহল। সেইমতো বিরোধী ঐক্যের সলতে পাকানোর কাজটা শুরু হয়ে গিয়েছিল ২০২১ থেকেই।
বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও তৃণমূল একক্টা হয়ে আসন্ন ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে লড়বে, এটাই মনে করেছিল রাজনৈতিক মহল। সেইমতো বিরোধী ঐক্যের সলতে পাকানোর কাজটা শুরু হয়ে গিয়েছিল ২০২১ থেকেই। কিন্তু দুই দলের সম্পর্কে শীতলতা বিরোধী ঐক্যে বাধার প্রাচীর খাড়া করেছিল। এবার সেই বরফের পাহাড় সরাতে অনুঘটকের কাজ করতে পারেন বাংলার রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।

সম্প্রতি বাংলায় রাজ্য সরকার বনাম রাজ্যপাল সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। প্রতিদিনই টুইট-যুদ্ধ লেগে রয়েছে। রাজ্যপালকে নিয়ে তিতিবিরক্ত রাজ্য সরকার। তিতিবিরক্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি রাজ্যপালকে টুইটারে ব্লক করে দিয়েছেন। আবার সংসদেও তৃণমূল উত্থাপন করেছে রাজ্যপাল বিতর্ক।
রাজ্যসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক সুখেন্দুশেখর রায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রস্তাব আনার প্রস্তাব দেন। তাতে সম্মতি জানান তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তৃণমূল সাংসদের এই প্রস্তাবে সম্মতি জানাতে পারে কংগ্রেসও। কংগ্রেসের লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীর চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন এই সমর্থনের কথা। কেন সমর্থন করবেন, তাও তিনি খোলসা করেছেন।
এখন রাজ্যপাল ইস্যুতে জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস ও তৃণমূলের এই কাছাকাছি আসার ফলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে উভয় দলের মদ্যে জমে থাকা শৈত্য অবশেষে কাটতে চলেছে। রাজ্যপালের দাক্ষিণ্যে বরফ গলে ফের কাছাকাছি আসতে পারে দুই কংগ্রেস। তার ফলে ২০২৪-এর আগে ফরে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে জাতীয় রাজনীতিতে।
সংসদে শীতকালীন অধিবেশনের আগে থেকেই কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে ফারাক বাড়তে শুরু করে। দুই দলকে একত্রিতভাবে দেখা যায়নি সে অর্থে। এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে গিয়েও সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেননি। তিনি উল্টে কংগ্রেসকে ভাঙতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন দিল্লি সফরে। সম্প্রতি গোয়া বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও উভয় দলের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।
যদি তৃণমূল একেবারে শেষমূহূর্তে কংগ্রেসকে জোটের প্রস্তাব দিয়েছিল, তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন পি চিদম্বরমরা। এবার রাজ্যপাল ইস্যুতে কংগ্রেসের তরফ থেকে আগ বাড়িয়ে সমর্থনের বার্তা দেওয়া হল তৃণমূলকে। লোকসভার কংগ্রেস দলনেতা অধীর চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো অটুট রাখতে কংগ্রেস সমর্থন করতে পারে তৃণমূলের প্রস্তাবে।
অধীর চৌধুরীর কথায়, রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো অটুট রাখতে তৃণমূলের প্রস্তাবে সমর্থন জানাতে পিছপা হবে না কংগ্রেস। সোমবার বাজেট অধিবেশনের সূচনা-পর্বে সেন্ট্রাল হলে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের ভাষণের পর তাঁর কাছে তৃণমূলের লোকসভা দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন।
এই ইস্যুতে নিঃশর্তভাবে তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের লোকসভা দলনেতা অধীর চৌধুরী বলেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় একেবারে সঠিক কাজই করেছেন। অনেক আগেই তাঁর এই কাজ করা উচিত ছিল। আমি অনেক আগে থেকেই একথা বলে আসছি। সংসদে রাজ্যপালের বিষয়টি উত্থাপন একেবারে সছিক সিদ্ধান্ত।
অধীর চৌধুরী বলেন, তৃণমূল যদি সংসদে রাজ্যপাল ইস্যু উত্থাপন করে, তবে কংগ্রেস তাদের সমর্থনের ব্যাপারে ভাবনা-চিন্তা করবে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আচরণকে শিষ্টাচার বহির্ভূত বলে অভিযোগ করে বিজেপি। সেক্ষেত্রে তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস বুঝিয়ে দিয়েছে বিজেপির বিরোধিতা তাঁরা তৈরি। ফলে রাজ্যপাল ইস্যুতে অজান্তেই কংগ্রেস-তৃণমূল একই মঞ্চে এসে হাজির হয়েছে।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় জাতীয় স্তরে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে জমে থাকা বরফ গলাতে সাহায্য করছেন। রাজ্যাপল ইস্যুতে কংগ্রেস ও তৃণমূল একে অপরের কাছাকাছি আসতে শুরু করেছে। এর ফলে জাতীয় স্তরে তাঁদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে কংগ্রেস ও তৃণমূল যদি হাত ধরে তবে বিজেপির পক্ষে ২০২৪-এর যুদ্ধ জেতা কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে যাবে।
বিজেপি চাইছে বিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরেই থাকুক। কংগ্রেস ও তৃণমূল যাতে এক হতে না পারে তার চেষ্টা করে যাবে বিজেপি। কিন্তু তৃণমূল সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে রাজ্যপাল জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে দূরত্ব ঘুচিয়ে দিচ্ছেন। বাজের অধিবেশনের সূচনা পর্বে য়ে ছবি দেখা গেল, তা যদি জাতীয় রাজনীতির পরিচায়ক হয়, তবে বিজেপির পক্ষে চিন্তার কারণ রয়েছে বেশ।












Click it and Unblock the Notifications