জমে উঠেছে 'আসল বনাম নকল' লড়াই, মধ্যপ্রদেশে কমল ছিঁড়়তে হাত বাড়িয়েছে কংগ্রেস
আগামী ৩ নভেম্বর ভোট যুদ্ধে নামতে চলেছে মধ্যপ্রদেশ। সেদিন অনুষ্ঠিত হতে চলা ২৮ আসনের উপনির্বাচনের উপরই নির্ভর করবে শিবরাজ সিং চৌহানের সরকারের স্থায়িত্ব। আর যুদ্ধের দামামা বাজতেই নিজেদের সৈনিকদের নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি-কংগ্রেস। এবং দুই পক্ষের এই ২৮ জন প্রার্থী নিজেদের দলকে ফের মসনদে বসাতে পারে।

চতুর্থবার মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর পদে ফেরেন চৌহান
দিনটা ছিল ২৩ মার্চ। একদিকে বাকি দেশ যখন করোনা সঙ্কটে মনঃসংযোগ করেছে, তখন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন শিবরাজ সিংহ চৌহান। রাজভবনে একটি ছোট্ট অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল লালজি ট্যান্ডন। পরের দিন, আস্থা ভোটে জিতে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করেন, যে আস্থাভোট বয়কট করেন কংগ্রেস বিধায়করা। ১৫ মাসের ব্যবধানে, রেকর্ড গড়ে চতুর্থবার মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর পদে ফেরেন চৌহান।

লড়াইতে পিছিয়ে থাকেনি কংগ্রেসও
তবে চৌহানকে সরিয়ে ফের ক্ষমতা দখলের লড়াইতে পিছিয়ে থাকেনি কংগ্রেসও। কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া৷ এবং তাঁর সঙ্গে দল ছাড়েন আরও ২২ জন বিধায়ক। মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের পতনের কারণ ছইল এই দল বদলের হিড়িক৷ সিন্ধিয়ার বিদায়ের কয়েকদিন দু'মাস পরই অবশ্য কংগ্রেসের তরফে সিন্ধিয়া ঘাঁটি সহ অন্য জায়গাগুলিতে নতুন জেলা সভাপতি নিয়োগ করে৷ এবং বিগত কয়েক মাস ধরে কংগ্রেস ক্রমাগত সিন্ধিয়া বিরোধী বীজ রোপন করেছে রাজ্য জুড়ে। এবং এতেই তাদের আশা বেড়েছে ক্ষমতা দখলের।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র ৯টি আসন দূরে বিজেপি
বর্তমানে মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় বিজেপির আসন সংখ্যা ১০৭। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে যা মাত্র ৯ দূরে। অর্থাৎ এই নির্বাচনে ২৮টি আসনের মধ্যে মাত্র ৯টি জিততে পারলেই শিবরাজের গদি আরও পোক্ত হয়ে যাবে। সেখানে কংগ্রেসকে প্রায় ফুল মার্কস পেয়ে পাস করতে হবে মসনদে ফিরতে হলে।

কংগ্রেস অবশ্য আত্মবিশ্বাসী
কংগ্রেস অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। খুব কঠিন পিচে ব্যাট করতে নেমেও ডিফেন্স, অ্যাটাক সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছে হাত শিবির। কংগ্রেসের পক্ষে কুণাল চৌধুরীর কথায়, কংগ্রেস খুব সহজেই ২৮টি আসনেই জিতবে। আমরা ফের ক্ষমতা দখল করব। আমাদের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিজেপি নেগেটিভ প্রচার চালালেও তাতে কাজ দেবে না।

নির্বাচনে ভালো ফল করবে বলে আশা কংগ্রেসের
এদিকে কংগ্রেসের আরও একটি অংশের দাবি, নির্বাচনে ভালো ফল করবে দল। কিছু আসন কম পড়ে গেলে তা মেটাতে সপা, বিএসপির মতো দল এগিয়ে আসবে। উল্লেখ্য, এর আগেও যখন কমনাথ গদিতে বসেছিলেন, তখন সপা, বিএসপি ও নির্দল মিলিয়ে ৭ জন বিধায়ক কংগ্রেসকে সাহায্য করেছিল। তবে ক্ষমতা হদল হতেই তাঁরাও পাল্টি খেয়ে বিজেপিকে সমর্থন জানায়।

মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলীয় কোন্দল
এদিকে উপনির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই শিবরাজের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলীয় কোন্দল। মূলত সমস্যাটি হল, বিজেপিকে সমর্থন করে কংগ্রেস ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যোগ দেওয়া বিধায়কদের মন্ত্রিত্ব দেওয়া নিয়ে। এই অবস্থায় সেই ক্ষুণ্ণ বিজেপি কর্মীদের নিজেদের কাছে টেনেছে কংগ্রেস। এবং হাত শিবিরের আশা, এসব বিজেপি প্রাক্তণীদের দিয়েই 'নকল কংগ্রেসী দল'কে হারাবে তারা।

অসন্তোষের অনেক কারণ
এদিকে বিজেপির মধ্যে যে শুধু টিকিট পাওয়া নিয়ে অসন্তোষ এমনটা নয়। সিন্ধিয়াতে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় রেগে রয়েছেন তাঁকে হারিয়ে গুনা আসনে জয়ী বিজেপি সাংসদ কৃষ্ণপাল যাদব সিং। জানা গিয়েছে সম্প্রতি তাঁর ভাই কংগ্রেসের তাবড় নেতাদের সঙ্গে দেখাও করেছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications