কর্ণাটকে মরিয়া প্রয়াস! এবার এখানে উড়িয়ে আনা হচ্ছে কং-জেডি(এস) বিধায়কদের
ঘোড়া কেনাবেচা ব্যর্থ করতে কংগ্রেস-জেডি (এস) আজ রাতেই তাদের বিধায়কদের কোচিতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আর ঝুঁকি নিতে চাইছে না কংগ্রেস ও জেডি (এস)। ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের টিকিটে বিজয়নগরে জয়ী বিধায়ক আনন্দ সিং জানিয়ে দিয়েছেন তিনি কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করবেন। আরও দুই এমএলএ-র কোনও হদিশ মিলছে না। এ অবস্থায় ঘোড়া কেনা বেচা রুখতে কংগ্রেস ও জেডি (এস) তাদের এমএলএ-দের কর্ণাটক রাজ্যের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্রের খবর আজ রাতেই দুদলের বিধায়কদের কোচির ক্রাউন প্লাজা হোটেলে নিয়ে আসা হবে। হোটেলে শতাধিক ঘর বুক করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে তাঁদের আনা হবে। এ যেন টানটান উত্তেজনায় ভরা কোনও রহস্য উপন্যাস। যার প্রতি বাঁকে বাঁকে চমক।

এর আগে বিধায়কদের বেঙ্গালুরুর ঈগলটন রিসর্টে রাখা হয়েছিল। কিন্ত এদিন সেই রিসরিচের বাইরে থেকে সরকারি নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়। যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কংগ্রেস নেতা কে এইচ মুনিয়াপ্পা। তারপরই দুদলের নেতারা আলোচনা করে ঠিক করেন, রাজ্যে বিধায়করা থাকলে কোন না কোন ভাবে তাদের চাপ দিয়ে, অর্থ ও পদের লোভ দেখিয়ে দল ভাঙানোর চেষ্টা চলবেই। তাই 'অপারেশন কমল' ঠেকাতে তড়িঘড়ি বিধায়কদের কোচিতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এখনও পর্যন্ত ঠিক আছে, রাত ৯ টা নাগাদ একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে করে তাঁদের কোচিতে নিয়ে আসা হবে। তবে বিধায়কদের ধরে রাখতে তাঁদের রাজ্যের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা ভাবনাটা শুরু হয়েছিল গতকাল রাত থেকেই। কর্ণাটকের রাজ্যপাল ইয়েদুরাপ্পাকে সরকার গড়তে আহ্বান জানানোর পরই দুদল বুঝে গিয়েছিল, দল ভাঙানোর প্রচেষ্টা আরও বাড়বে। কারণ, মুখ্য়মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করলেও ইয়েদুরাপ্পাকে সংখ্যা গরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হবে, যা এখনও বিজেপির হাতে নেই। রাতেই কংগ্রেস ও জেডি (এস) নেতারা দলের বিধায়কদের মোবাইল ফোনে একটি বিশেষ অ্যাপও ডাউনলোড করতে বলেন, যে অ্যাপের মাধ্যমে কল রেকর্ড ও ট্র্যাক করা যায়।

ইতিমধ্যে ফল বেরনোর পর থেকে নিখোঁজ কংগ্রেস বিধায়ক আনন্দ সিং জানিয়েছেন, তিনি কংগ্রেসে থেকে ইস্তফা দিলেও আস্থা ভোটে বিজেপিকেও সমর্থন করবেন না। আনন্দ অবশ্য এর আগে বিজেপিতেই ছিলেন। আগের বিজেপি সরকারে মন্ত্রীও হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি লোহ আকর কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত। ২০১৩ সালে তাঁর জেল হয়। দুবছর পর তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। এবছরের জানুয়ারিতেই তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন। কংগ্রেস-জেডি (এস) জোটের সম্ভাব্য নেতা কুমারাস্বামীর অভিযোগ, বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকারের এনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্টকে দিয়ে আনন্দকে ভয় দেখিয়েছেন। তবে আনন্দের পাশাপাশি আরও দুই কংগ্রেস বিধায়ক প্রতাপ গওদা পাতিল ও নগেন্দ-কেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে খবর। এখন দেখার কোথায় গিয়ে পৌঁছায় এই রোমাঞ্চকর ঘটনাক্রম।












Click it and Unblock the Notifications