ডেল্টার পাশাপাশি ভাবাচ্ছে করোনার নতুন ভ্যারিয়ান্ট, সি.১.২ নিয়ে জেনে নিন অজানা সব তথ্য
করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়ান্ট ডেল্টা প্লাস নিয়ে শুধু গোটা বিশ্বের উদ্বেগ নয়, এখন নতুন ভ্যারিয়ান্ট, যেটি দক্ষিণ আফ্রিকায় সনাক্ত হয়েছে, তা নিয়েও চিন্তা নতুনভাবে দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সার্স কোভ-২ এর নতুন স্ট্রেইটটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে সি.১.২ নামে। দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে নতুন এই রূপের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই ভ্যারিয়ান্টকে ভ্যারিয়ান্ট অফ ইন্টারেস্ট বা উদ্বেগ বলা হচ্ছে না। তবে এই ভ্যারিয়ান্টের দ্রুত সংক্রমণ ও মিউটেশনের ধরন দেখে বিজ্ঞানীদের মনোযোগ এতে পড়েছে।

অন্যান্য দেশেও পাওয়া গিয়েছে
চিনে প্রকৃত করোনা ভাইরাসের ভ্যারিয়ান্ট সনাক্ত হওয়ার পর সি.১.২ সর্বাধিক মিউটেশন বহনকারী ভাইরাস বলে জানা যাচ্ছে। ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট ফর কমিউনিকেবল ডিজিজেস আর দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু নাটাল রিসার্চ ইনোভেনশন অ্যান্ড সিকোয়েন্সিং প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞানী যৌথ উদ্যোগে একটি সমীক্ষা করেছিলেন। তাতেই নতুন রূপটি সামনে আসে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ভ্যারিয়ান্ট প্রথম সনাক্ত হয় এ বছরের মে মাসে গোটেঙ্গ ও এমপুমালাঙ্গা প্রদেশে। দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যান্য এলাকার পাশাপাশি এই ভ্যারিয়ান্ট সনাক্ত হয়েছে কঙ্গো, মরিশাস, নিউজিল্যান্ড, পর্তুগাল ও সুইৎজাল্যান্ডে।

একাধিক মিউটেশন বহন করছে এই ভাইরাস
সি.১.২ ভ্যারিয়ান্ট একাধিক মিউটেশন বহন করে এবং তার মধ্যে কিছু কিছু অত্যন্ত সংক্রমকযুক্ত এবং ভ্যাকসিনের সুরক্ষাকে ভেঙে দেয়। যদিও এখনও এর সমাধান সূত্র কিছুই মেলেনি। হু-এর পক্ষ থেকে এই ভ্যারিয়ান্টকে 'ভ্যারিয়ান্ট অফ কনসার্ন' বলার জন্য সংক্রমণ বৃদ্ধি, ক্লিনিক্যাল রোগ পরিবর্তন এবং জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক বষবস্থাগুলির কার্যকারিতা হ্রাস করতে হবে। তার আগে সি.১.২ ভ্যারিয়ান্টকে উদ্বেগের ভ্যারিয়ান্ট বলা চলবে না।

দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন নতুন স্ট্রেইনটি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা বলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেই এটি ছড়িয়ে পড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে সি.১.২ এর জিনোমের ধারাবাহিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা হয়েছে। মিউটেশন করোনাভাইরাসের মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়া অনেক ভাইরাল রোগের অংশ। ভাইরাস যত বেশি সংক্রমিত হয় ততই মিউটেশনের সম্ভাবনা থাকে। যখন করোনা ভাইরাস দেহের কোষের মধ্যে প্রবেশ করে, তখন তার প্রধান কাজই হল কোষগুলিকে নির্দেশ দিয়ে ভআইরাসের প্রতিলিপি তৈরি করা। এরপর এটি ওই ব্যক্তির কোষ ছেড়ে অন্যের শরীরের কোষে ঢুকে পড়ে। ভাইরাল প্রতিলিপি প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুত এবং ভাইরাল ডিএনএ অনুলিপি করার সময় ত্রুটি তৈরি করা যেতে পারে, এগুলি মিউটেশন হিসাবে পরিচিত।

মূল ভাইরাস থেকে আলাদা সি.১.২
গবেষকরা জানিয়েছেন, এটি যখন সনাক্ত করা হয়েছিল তখন বিটা ও ডেল্টারও একই পরিমাণ বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। সমীক্ষা অনুসারে সি.১.২-এর বংশ প্রতি বছরে প্রায় ৪১.৪ শতাংশ মিউটেশনের হার রয়েছে। যা অন্যান্য় স্ট্রেইনগুলির তুলনায় অনেকটাই কম। সি.১.২ স্ট্রেইনে স্পাইক প্রোটিন লাইনে জমে থাকায় অসংখ্য মিউটেশনের ফল। তাই ২০১৯ সালে উহানে সনাক্ত হওয়া করোনার মূল ভাইরাসের থেকে এটি যথেষ্ট আলাদা। এটি আরও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। দ্রুততার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। যেহেতু এটির স্পাইক প্রোটিনে অনেকগুলি মিউটেশন রয়েছে তাই এটি প্রতিরোধ ক্ষমতাও করোনার অন্যান্য স্ট্রেইনের তুলনায় বেশি।

ডেল্টা ও সি.১.২ ভ্যারিয়ান্ট মোকাবিলা
বর্তমানে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট দক্ষিণ আফ্রিকা ও বিশ্বের একাধিক দেশে আধিপত্য বিস্তার করেছে। তবে সি.১.২ ভ্যারিয়ান্ট আরও ক্ষমতাবান হওয়ায় ডেল্টার সঙ্গে তার প্রতিযোগিতা ভালোই জমবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর অর্থ হল সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে, মানবদেহের হোস্ট কোষগুলিকে আবদঞধ করতে সক্ষম হবে এবং ডেল্টার চেয়েও দ্রুত সংক্রমণ ঘটাবে এই ভ্যারিয়ান্ট। ডেল্টার চেয়েও সাংঘাতিক হওয়ার দরুণ এই সি.১.২ ভ্যাকসিনের মাধ্যমে পাওয়া শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে হ্রাস করতে পারে।

টিকাকরণ কর্মসূচি চ্যালেঞ্জের মুখে
করোনার নতুন এই স্ট্রেইনটিকে যদি প্রথম থেকেই রুখে না দেওয়া যেতে পারে তাহলে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে টিকাকরণ কর্মসূচি। অবিলম্বেই সি.১.২-এর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করা জরুরি বলেও দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। সংক্রমণ রুখতে কোভিড বিধি পালনের ওপরেই জোর দিয়েছেন গবেষকরা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে আনার ওপরেও বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications